ফাইভারে কাজ না পাওয়ার কারণসমূহ

ফাইভারে গিগ খুলেছেন কাজ পাচ্ছেনা এর পিছনে অনেকগুলা কারণ দায়ী হতে পারে তবে আমি আজকের পোস্টে প্রধান কিছু কারণ নিয়ে আলোচনা করবো।

More gig sell in fiverr


--> আপনার গিগ, গিগের ক্যাটাগরি অথবা চাহিদা নেই এমন গিগ খুলেছেন।
আপনি মাছের বাজারে মিষ্টির দোকান খুলেছেন। আপনার মিষ্টি যত ভালো বা এফোর্ডেবল রেট হোক না কেন বিক্রি হবেনা। পজিশন চেঞ্জ করুন। যেখানে মিষ্টি চলবে সেখানেই আপনাকে মিষ্টির দোকান দিতে হবে।
অথবা আপনি এমন গিগ নির্বাচন করেছেন যার মার্কেটে কোনো চাহিদাই নেই। যেমনঃ- এখন এলইডির যুগ আপনি আদিম যুগের পেট মোটা সিআরটি টিভির দোকান খুলে বসে আছেন। একদম মাঠে মারা।

--> সুনির্দিষ্ট টাইম মেইন্টেইন করা।
আপনি রোবট না যে ২৪ ঘন্টা এক্টিভ থাকবেন গিগে এমন কিছু যারা লিখে তারা হয় নিজেরা অকাট মূর্খ নয়তো ক্লায়েন্টদেরকে মূর্খ মনে করে। আপনি মানুষ আপনার বিশ্রাম এবং ঘুমের প্রয়োজন আছে। এই সাধারণ সাইন্সটা বাংলাদেশীরা না বুঝলেও বিদেশিরা বুঝে এবং তারা এইটাকে ভদ্রতার অংশ মনে করে।

আপনি আপনার গিগে কাজের সুনির্দিষ্ট টাইম যুক্ত করেন যেমনঃ- আপনি দৈনিক ১০-ঘন্টা এক্টিভ থাকেন এবং সেটা এতটা থেকে এতটা। এই ক্ষেত্রে একটু টুইস্ট আনুন অর্থাৎ আপনার কাজের সময়ের সাথে বাংলাদেশী টাইম এবং এর সাথে ২/৩-টা ভিন্ন ভিন্ন ফরমেটের টাইম যুক্ত করুন যাতে ক্লায়েন্টদের আপনার সাথে যোগাযোগের ক্ষেত্রে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব না থাকে।

আপনি যদি বাংলাদেশ টাইম রাত ২-টা থেকে সকাল ১১-টা পর্যন্ত একটিভ থাকেন তাহলে বাংলাদেশী টাইমের পাশাপাশি ইউরোপ বা আমেরিকার টাইম ক্যালকুলেট করে যুক্তু করেন। এই ক্ষেত্রে টাইমের তারতম্যের সাথে অবশ্যই ডেট উল্লেখ্য করবেন। আমেরিকা চাইতে আমরা ১০-ঘন্টা এগিয়ে এত টাইম ডিফারেন্সের কারণে অনেক সময় বার/দিন নিয়ে প্রব্লেম হয় এই জন্য ক্লায়েন্টদেরকে এই বিষয়ে গিগেই ছোট করে একটি নোটিশ দিয়ে রাখুন।


--> সঠিক কিওয়ার্ড নির্বাচন না করা।
এসইও হচ্ছে বিনামূল্যে সবচাইতে সহজ এবং কার্যকরী মার্কেটিং পদ্ধতি। এসইও এর সর্বাপেক্ষা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে সঠিক কিওয়ার্ড নির্বাচন করা। 

নেইল প্যাটেল বিশ্বের ডিজিটাল মার্কেটিগ গুরু। যার ওয়েবসাইটে বাৎসরিক ৩৯.মিলিয়ন ভিসিটর আসার পরেও ব্যবসাহিক ভাবে খুব একটা লাভবান হতে পারছিলেন না।  পরে তিনি গবেষণা করে জানতে পারেন যে তার কিওয়ার্ড নির্বাচন করা ভুল হয়েছে। তিন এমন কিওয়ার্ড নির্বাচন করেছেন যেটা ভিজিটর টানতে সহায়তা করছে কিন্তু কোনভার্সনে হেল্প করছেনা পরে তিনি তার কিওয়ার্ড গুলা কোনভার্শনাল কিওয়ার্ড রূপান্তরিত করে সফলতা অর্জন করেন।

আপনাকে আপনার সার্ভিসের সাথে সামঞ্জস্য-পূর্ণ কিওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে এই ক্ষেত্রে অবশ্যই এনালাইসিস করে সার্চ ভলিউম, কম্পিটিশন ইত্যাদি বিষয়ে বিবেচনা কর কিওয়ার্ড নির্বাচন করতে হবে।

অসামঞ্জস্য পূর্ণ কিওয়ার্ড যেমনঃ- আপনি কাজ করেন এসইও নিয়ে কিওয়ার্ড সিলেক্ট করেছেন ওয়ার্ডপ্রেস সংক্রান্ত বা সার্চ ভলিউম নাই অথবা কম্পিটিশন অনেক হাই এমন কিওয়ার্ড নেয়া যাবেনা।

--> ক্লায়েন্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পর্কে আপনার কেন আইডিয়া নেই এবং আপনার জ্বী হুজুর জ্বী হুজুর মনোভাব।
কিছু ক্লায়েন্ট আছে যারা ফ্রীল্যান্সারদেরকে ডমিনেট করতে পছন্দ করে। এই ধরণের ক্লায়েন্ট এভোইড করতে শিখুন। এইখানে আপনি এক্সপার্ট এবং ক্লায়েন্ট আপনার কাছে এসেছে তার সমস্যার সমাধানের জন্য আপনাকে ডমিনেট করার জন্য নয়। কাজেই ক্লায়েন্টের উদ্ভট চাওয়া-পাওয়াকে কঠোর ভাবে না বলতে শিখুন।

ক্লায়েন্ট ২০০০$-এ  আমাজনের মতো ওয়েবসাইটে চাইলে হবেনা অথবা ইলোজিক্যাল কিছু চাইলে অথবা প্রশ্ন করলে অলওয়েজ তার কথায় সায় দেয়া থেকে বিরত থাকুন। আপনি এই কাজে দক্ষ এবং ক্লায়েন্ট ভুল করছে এবং তার ভুল ধরিয়ে দিয়ে লজিক্যাল বিষয়ে গ্রহণ করার ক্ষেত্রে ক্লিয়েন্টেকে সাহায্য করা আপনার দায়িত্ব।  ক্লায়েন্ট ভুল করবেই বা ভুল চিন্তা-ভাবনা করতেই পারে তাকে বুঝানোর দায়িত্ব আপনার এই জন্যই আপনি ফ্রীল্যান্সার আর সে ক্লায়েন্ট।

আপনি যে ফ্রীল্যান্সার এইটা আগে বুঝেন এবং সেই অনুযায়ী আচরণ করেন আপনার আচরণে যেন মনে না হয় যে আপনি তার ক্রীতদাস।

---> কাজ নেয়ার আগেই কাজ পাওয়ার জন্য বেপরোয়া ভাব। ক্লায়েন্টের চাহিদা, লক্ষ্য এবং উদ্দেশ্য সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণার অভাব।

কাজ নেয়ার আগে ক্লায়েন্টের সমস্যায় আগে বুঝুন এবং সে ঠিক কি কি চাইছে মানে তার চাহিদা কি এবং এই সমস্যা এবং এর সমাধানের পিছনে তার ব্যবসায়ী উদ্দেশ্য কি সেটা বুঝুন। কেউ একজন এসে বললো আমার মাথা ফাটিয়ে দাও আর আপনি আগা-মাথা না বুঝেই ফাটিয়ে দিলেন তাহলে পরবর্তীতে এটেম্পট টু মার্ডার কেসে ফেঁসে যাবেন।

এমন অনেক ক্লায়েন্ট আছে যারা না বুঝেই অর্ডার করে এবং কাজ শেষে পল্টি মারে। সো ভাবিয়া করো কাজ কোরিয়া ভাবিও না।

ক্লায়েন্টের সমস্যা লক্ষ্য এবং উদেশ্য সম্পর্কে ক্লিয়ার একটা ধারণা প্রথমে নিজের মনের মধ্যে তৈরী করুন এবং এই বিষয়টি কাজ ডেলিভারি দেয়ার আগেই ক্লায়েন্টকে অবগত করুন যে তোমার এই সমস্যা এই তোমার চাহিদা এবং লক্ষ্য এবং আমি তোমার জন্য ঠিক এই এই কাজ গুলা করতে যাচ্ছি। এর ফলে কাজ ডেলিভারি দেয়ার পরে সে আপনাকে অযথা অন্য কোনো ভাবে হয়রানি করতে পারবেনা।

না বুঝে কাজ নিলে ক্লায়েন্ট চাইলে আপনাকে দিয়ে পরবর্তীতে একটা কাজের বদলে বাড়তি আরো ১০-টা কাজ করিয়ে নিবে বার রিভিশন দিতে বলবে অথবা নেগিটিভ রিভিউ দেয়ার দেখাবে কাজ ক্যানসেল করে দিবে ইত্যাদি ইত্যাদি।

কাজ নেয়ার ক্ষেত্রে আপনি খুব অভাবে আছেন। আপনার ঘরে ভাতের চাল নেই। এই কাজ না পেলে আপনি না খেয়ে মারা যাবেন বিষয়টা যেন এমন না হয়।

আপনি দুর্বলতা প্রকাশ করলে মানুষে আপনার দুর্বলতার সুযোগ নিবে এইটা মানুষের সহজাত বৈশিষ্ট সো ডেসপারেট ভাব প্রকাশ না করা ভালো আর যদি করেন তাহলে হয় কাজটাই পাবেননা অথবা পেলেও রেট কমে যাবে।

--> চিপ রেট এবং এক্সট্রা ফাস্ট ডেলিভারি।
২-টাই এভোয়েড করেন। কে কি চুল বলে সব এভোয়েড করেন আমি যা বলি নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলি অথবা এই লাইনে যারা হাফেজ হয়ে বসে আছে তাদের দিক-নিদের্শনা অনুযায়ী বলি।

হাসিনা হায়দার(ওয়ার্ডপ্রেস)
এমটিএম সুজন (ওয়ার্ডপ্রেস)
রবিন/জ্যাস্পার (ওয়ার্ডপ্রেস)
এমডি ফারুখ খাঁন (লোকাল এসইও)
৩ বাগস মিডিয়া (লোকাল এসইও)
নাথান গচ (এসইও)
চেজ রেইনার (এসইও অডিট)
নেইল প্যাটেল (ডিজিটাল মার্কেটিং)
ডারা ওয়ালস (ডিজিটাল মার্কেটিং)
থিও ম্যাকআর্থার (ডিজিটাল মার্কেটিং)
 আলেক্স জিনাদিনীক (এসইও/ফাইবার)

আমার এত জন মেন্টরের কেউ আমাকে না কোনোদিন চিপ রেটে কাজ করতে বলছে না আমাকে এক্সট্রা ফাস্ট ডেলিভারি দিতে বলছে।

চিপ রেট মানেই আপনার নিজের দক্ষতায় আপনার নিজের বিশ্বাস নাই তো মানুষে আপনাকে কোনো ভরসায় কাজ দিবে? অন্যদিকে আপনি একটা সার্ভিস অফার করছেন রেসের ময়দানে গাড়ি চালাতে নামেননি যে ফাস্ট ডেলিভারি দিবেন। যেকোনো কিছুতেই এক্সট্রা ফাস্ট মানি ঝুঁকি। হয় আপনি কাজ ভুল করবেন নয়তো ক্লায়েন্ট নিজেই জানে না যে সে কি চাইছে সো ৩-দিন পরে আইস বলবে আরে ভাই আমার আম দরকার নাই দরকার লিচু। অর্ডার ক্যানসেল করো অথবা তাড়াহুড়া করতে যেয়ে নিজেই ভুল করবেন যেটাই ঘটুক সবদিক বিবেচনা পিছনে বাঁশ ছাড়া অন্য কোনো গতি নাই।

--> #মি ফোকাস।
কাজ নেয়ার সময় আপনাকে নিজের অবস্থান নয় ক্লায়েন্টের অবস্থান থেকে নিজেকে বিবেচনা করতে হবে।

ফেসবুকে কেউ যদিকারো মরার নিউজ পোস্ট করে আর আপনি যদি একদম আঁতেলের মতো সেই পোস্টে হাঃহাঃ অথবা লাভ রিয়েক দিয়ে দেন তাহলে সবাই বুঝে নিবে হয় আপনি পাগল নয়তো প্রতিবন্ধী।

ক্লায়েন্ট কাজ নিতে আসলে মি ফোকাস নয় অলওয়েজ ক্লায়েন্টের উপরে ফোকাস রাখুন।
ক্লায়েন্ট আসে প্রব্লেম নিয়ে আপনি তার কথা বা প্রব্লেমে ফোকাস না করে নিজের গুনগান গাইতে শুরু করলেন। ক্লায়েন্ট আপনার সার্টিফিকেশন অথবা আপনি এই আপনি সেই এই সবকে হিন্দি চুলের টাইম দেয়না।

আপনার রিভিউ এবং আপনার পোর্টফলিও খুব মাইনর এডভ্যান্টেজ। এখন এই একটা পয়েন্টে অনেক চুলের মাতবর দ্বীমত পোষণ করতে পারে। 

আসেন আমরা লজিক্যালি বিবেচনা করি ওকে। যদি এই চুলের রিভিউ এবং পোর্টফোলিও একদম মহাভারত হইতো তাহলে মহারথীরা ২০০০-এর আগেই সব স্বাধীন করে বসে আছে নতুনদের আর যুদ্ধে নামার প্রয়োজন ছিলোনা এবং মানুষে নতুন আইডি নতুন গিগ খোলা সেই ২০০০-সালেই বাদ দিয়ে দিতো কিন্তু তেমন কিছু ঘটছেনা তাইনা। মানুষে নতুন আইডি এবং গিগ খুলেছে এবং কাজও পাচ্ছে। নতুনদের মধ্যে অনেকেই আবার টপ রেটেড-ও হচ্ছে।

আমি কিন্তু বলছিনা যে এই রিভিউ বা পোর্টফোলিও একদম কাজে লাগেনা। কাজে লাগে তবে এইটা মেজর কোনো ফ্যাক্ট না।

--> আনলিমিটেড রিভিশন এবং মানিব্যাক গ্যরান্টি।
আপনি লঙ্গর খানা খোলেন নাই যে প্রতিনিয়ত কাঙালি ভোজ খাওয়াবেন। এমন হলে ফ্রীল্যান্সিং বাদ দেন এবং মাজারে মাজেরে শিন্নি বিরতণ শুরু করেন।
আপনার কাজের এবং সময়ের দাম আছে তাই এই বিষয়টা গিগে উল্লেখ্য করেন এবং বেসিক কোনো গিগে মানিব্যাক কোনো গ্যরান্টি নাই কারণ আপনার সময়ের জন্যও ক্লায়েন্ট পে করছে এইটা বলে রাখেন এবং রিভিউ এর ক্ষেত্রেও লিমিট বজায় রাখেন ওকে। 

--> কোয়ালিটি ওভার রেট এন্ড কোয়ান্টিটি।
ক্লায়েন্ট চিপ রেট নয় এফোর্ডেবল রেট চায় এবং সে সর্বদাই মানসম্পন্ন কাজ চায়। এই বিষয়টা ক্লায়েন্ট ভালোই বুঝে। আমরাও বাজারে ধইন্যা পাতা কিনতে হলে অন্তত ৪/৫-টা দোকান ঘুরে দেখি আর এইখানে আমেরিকার কেউ বাংলাদেশী কাউরে হায়ার করবে কিন্তু কোয়ালিটি কে প্রাধান্য দিবেনা এই সাইন্স মঙ্গোল গ্রহেও চলেনা আর পৃথিবী তো অনেক দূরের ব্যপার। ক্লায়েন্ট চিপ রেট নয় সে এফোর্ড করতে পারবে এমন রেট চায়। আপনি হয় ক্লায়েন্টকে কোয়ালিটি সম্পর্কে নিশ্চয়তা প্রদান করে রেট বাড়াতে সাহায্য করেন অথবা তার সামর্থ্য অনুযায়ী আপনার সার্ভিস পরিবর্তন করেন। কোনো অবস্থায় টাকার জন্য কোয়ালিটির সাথে আপোষ করবেন না।
এতোই যদি চিপ রেটে কাজ করতে হয় দেন খয়রাত করেন ফ্রীল্যান্সিং নয়।

--> AIDA ফর্মুলা।

A = Attention=আকর্ষণ।
কাজ নেয়ার পূর্বেই ক্লায়েন্টের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। আমি যেহেতু ওয়ার্ডপ্রেস এবং এসইও নিয়ে কাজ করি সুতরাং আমি এই ক্ষেত্রে আমার কাজের সাথে সম্পৃক্ততা রেখে এই ফর্মুলা বর্ণনা করবো।

আমি ওয়ার্ডপ্রেস এবং এসইও এক্সপার্ট। আইডি এবং গিগ খুলেছি।
ক্লায়েন্ট আমাকে ম্যাসেজ দিলো যে তার একটি ওয়েবসাইট লাগবে।
আমাকে দ্রুত বল আমার কোর্টে নিয়ে আসতে হবে। এই ক্ষেত্রে আমার রিপ্লাই কেমন হতে পারে।

Hi! You need a WordPress website, right? I know you want a quality website that of course helps to surpass your business goals without cutting your pocket every now and then. Well making a WordPress website is very easy but first, let's discuss your problems and business objectives. I know you're not investing for no reason.

উপরের প্রথম রিপ্লাইতেই আমি ক্লিয়েন্টে আমার আমার হুকে আটকে ফেললাম বা দৃষ্টি আকর্ষণ করে ফেললাম।

দেখেন ক্লায়েন্ট একটা ওয়েবসাইটে চেয়েছে। আমি তাকে বললাম ওয়েবসাইট বানানো খুব সহজ।  এই লাইনটাই আমি বুঝলাম যে ওয়েবসাইট বানানো খুব সহজ মানে আমি আমার দক্ষতার পরিচয় দিলাম একটু ইনডাইরেক্ট ওয়েতে। পরের লাইনা তাকে কোয়ালিটির কথা বললাম তার প্রেক্ষাপটের ভিত্তিতে। আমি এই করছি সেই করছি আমার এত রিভিউ আছে আমার হেভি পোর্টফোলিও বাদ দেন এই সবের খাওয়া নাই।  ক্লায়েন্ট আপনাকে ম্যাসেজ দেয়ার আগেই এইগুলা ভেঁজে খাইছে আর যদি না খায় তো আর কখনোই খাবেনা।

আমি ক্লায়েন্টকে বললাম যে তোমার একটা কোয়ালিটি ওয়েবসাইট লাগবে যেটা খুব বেশি ব্যয়বহুল হবেনা, প্রতিনিয়ত এর পিছনে টাকা ব্যয় করতে হবেনা এবং তোমার ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য পূরণ করবে অথবা লাভ জনক হবে। 

আমি একই সাথে তার মন থেকে প্রাইস কোয়ালিটি নিয়ে ভয় দূর করে দিলাম এবং তাকে নতুন করে তার এই ইনভেস্ট করার পিছনের কারণ সম্পর্কে ভাবতে বধ্য করলাম।

দেখেন লাস্ট লাইনটাতে বলছি আমি জানি তুমি বিনা কারণে ইনভেস্ট করছোনা। এইটা একটা ট্রিগার পয়েন্ট বা কল টু এ্যাকশন মানে আমি আমার দ্বিতীয় পয়েন্ট ক্লায়েন্টকে টেনে নিয়ে যাচ্ছি। কথা এখানেই শেষ না আমি কথা লম্বা করছি ক্লায়েন্টের দৃষ্টি কোন থেকেই ক্লিয়েন্টে বিচার-বিশ্লেষণ করছি। ক্লায়েন্ট আমার সম্পর্কে চুল-ছাল বলার আগেই আমি তার সমস্যাতে ফোকাস করে ফেলেছি এখন সে এই সমস্যা গোলক ধাঁধা থেকেই বের হতে পারবেনা কারণ এইটা তার পার্সোনাল নাইফের সাথেই সম্পৃক্ত।

I = Intension=উদ্দেশ্য।

এই পর্যায়ে আমি ক্লিয়েন্টকে তার উদ্দেশ্য সম্পর্কে সকল ভ্রান্ত ধারণা দূর করে একটি সুস্পষ্ট ধারণা তার মাথায় পেরেক দিয়ে ঠুকে দিবো যাতে আমার পরবর্তীতে রিভিশন, কোনো এক্সট্রা কাজ, মানিব্যাক সংক্রান্ত ঝামেলা অথবা অন্য কোনো ঝামেলার মুখোমুখি হতে না হয়।

এই পর্যায়ে এক্সট্রা কিছু সার্ভিসও তাকে গ্রহণ করতে বাধ্য করবো।

ধরেন ক্লায়েন্ট একটি ফ্রি থিম দিয়ে কাজ করতে চাচ্ছে এবং সে এসইও করতে চাচ্ছে না অথবা এসইও কি বা এর সুবিধা কি কিছুই বুঝেনা।

ক্লায়েন্ট একজন ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। এই পর্যায়ে আমি তাকে বলবো।

Hi! Nathan, you need a Website for your interior design business. You are a creative person and I am sure a free theme choice wouldn't be appropriate or beneficial for you and your business.

How about a premium theme and how about Divi (3/2 more theme names)?

You know Divi is the #1 selling theme in the world and some biggest brands are using Divi as well. Describe some interesting WordPress facts to your client. Make that they have either no idea about what you are describing or if they have then that's very minimal.

Tell some interesting facts about SEO too like SEO is the most effective free marketing method. Almost 4+ billion people use a search engine for searching for any kind of service or information.

WordPress is most easy to manage CMS and WordPress is used by more than 60 million websites. Divi is much more secure. doing SEO will be lucrative for your client. Describe some problems and as well as the solution as benefits here.

লক্ষ্য করুন এই পর্যায়ে এসে আমি আমার ক্লায়েন্টের কেন তার ফ্রি থিম ব্যবহার করা উচিৎ নয় এবং এর সুবিধা এবং অসুবিধা। কেন তার প্রিমিয়াম থিম ব্যবহার করা উচিৎ এবং তার সুবিধা এবং অসুবিধা বর্ণনা করছি। আমি তাকে আমার পছন্দের কিছু থিমও সাজেস্ট করছি। এইখানে আমার এডভ্যান্টেজটা হচ্ছ যদি ক্লায়েন্ট প্রিমিয়াম থিম কিনতে রাজি হয়ে যায় তাহলে আমার যদি এফিলিয়েট লিংক থাকে তাহলে ক্লায়েন্ট কে আমি সেই লিংক থেকে থিম কিনতে বাধ্য করবো যাতে আমি কমিশন পাই। অথবা আমার কাছে থাকলে আমি সেটাই তার কাছে বিক্রি করে দিবো মানে আমার এক্সট্রা একটা ইনকাম নিশ্চিত করছি।

সেম কাজটাই আমি তাকে কেন ওয়ার্ডপ্রেসেই ওয়েবসাইট বানানো উচিৎ এবং কেন এসইও করা উচিৎ এমন কিছু সুবিধা এবং অসুবিধা বনর্ণা করছি যাতে সে এই এই গুলার প্রতিও আগ্রহী হয় আর আমি এই গুলা ১০০% বুলেট প্রুফ, নির্ভরযোগ্য এবং বিশ্বাসযোজ্ঞ তথ্যের ভিত্তিতে করছি। কোনো ভাত বকছি না। 

শুধু তাইনা আমি যে যে সেক্টরে বেশি শক্তিশালী তাকে সেই সেই সেক্টরে টেনে আনছি। আমি একটা নির্দিষ্ট সার্ভিসের সাথে চেষ্টা করছি যাতে ক্লায়েন্ট আরো ২/৩-টা সার্ভিসে গ্রহণে উৎসাহিত হয়। 

আমি খুব সুন্দর ভাবে ওয়ার্ডপ্রেস এবং এসইও এর সুবিধা বর্ণন করছি। তাকে বলছি যে পৃথিবীর প্রায় ৬০-মিলিয়ন ওয়েবসাইট ওয়ার্ডপ্রেসে দ্বারা তৈরী। পৃথিবীর প্রায় ৪-বিলিয়ন লোক কোনো তথ্য বা সেবা অনুসন্ধারের জন্য সার্চ ইঞ্জিনের সাহায্য গ্রহণ করে। এইটার মাধ্যমে আমি ক্লায়েন্টের মনে একই সাথে এই গুলার সুবিধা যেমন গেথে দিচ্ছি তেমনি বিপরীতভাবে এই গুলা না হলে তার কি কি অসুবিধা হতে পারে সেগুলা সম্পর্কেও স্পষ্ট ধারণা দিচ্ছি।

এক কথায় এক ঢিলে দুই পাখি পারছি। ক্লায়েন্টকে তার উদ্দেশ্য বা লাভ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা দিচ্ছি যাতে সে ১০০% শিউর হয়েই কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে।

D=Desire= কামনা/বাসনা।

এই পর্যায়ে আমি ক্লায়েন্টের মনে আগ্রহের সৃষ্টি করবো একটা আখাঙ্খা তৈরী করবো।

Hi! Nathan if you want to buy Divi then I can help you to have a 20% discount right now and that'snot available for everyone. If you want to have the SEO service along with the Website creation then I will give you an extra 30% discount. This offer isn't available for any individual services.

ক্লায়েন্টকে খুব স্বাভাবিক ভাবে আমি বাড়তি কিছু সুবিধা প্রদান করছি অথবা বলতে পারেন যে আমি আমার সার্ভিসকে এমন ভাবে তার সামেন উপস্থাপন করছি যেটা তার জন্য বিশেষ লাভজনক মনেহয় এবং তার মনে এই সার্ভিসে পাওয়ার জন্য যথেষ্ট পরিমানে আগ্রহের বা আকাঙ্ক্ষার সৃষ্টি হয়ে। তাকে এটাও বলে দিচ্ছি এটা শুধুমাত্র বিশেষ কিছু শর্ত সাপেক্ষেই আমি তাকে এই সব সুবিধা দিবো যেমনঃ- যদি সে একসাথে দুইটা সার্ভিসে গ্রহণ করে এবং এই সুযোগটি বেশিক্ষন থাকবেনা অথবা সিঙ্গেল সার্ভিসের জন্য আমি দিবোনা এবং সবাইকে আমি এইটা দেইনা।

একই সাথে এইগুলা পাওয়ার জন্য তাকে যেমন প্রলুব্ধ করছি তেমনি সুযোগ হাতছাড়া করলে যে পরবর্তীতে তাকে ১০০% মূল্যের বিনিময়ে এই সব সার্ভিসে পেতে হবে সেটাও স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি।

ক্লায়েন্ট নিজের লাভ টাই দেখবে এবং পরবর্তীতে যদি লেগে যায় তো কেল্লাফতে আর না লাগলে কিন্তু আমার লস নাই কারণ আমার জন্য বেসিক ওয়ার্ডপ্রেস সার্ভিসটি কিন্তু এখনো ওপেন রয়েছে।

শেষ ধাপে যাচ্ছি।

A=Action=এ্যাকশন/কল টু এ্যাকশন।

Hi! Nathen if that makes sense then let's do it together.

আমি ক্লায়েন্টকে অর্ডার করতে বলছি না। দেখেন আমি কিন্তু অর্ডার শব্দটি ব্যবহার করিনি এবং একক ভাবে ক্লায়েন্টের উপরে সব কিছু চাপিয়ে দেয়নি। এই খানেও ক্লায়েন্টের সাথে আমি নিজের সম্পৃক্ততা বজায় রেখেছি আমি বলেছি Let's do it together এই বিষয়টা ক্লায়েন্টের মনে একটা ভরসা তৈরী করে।

--> Signature
একটা সুন্দর ফিনিশিং টাচ। এই ক্ষেত্রে গতানুগতিক চুল-ছাল ব্যবহার করা বাদ দেন। ক্রিয়েটিভ কিছু ব্যবহার করেন।
যেমনঃ-
Funny& Friendly.
I love cat :)
Coffee/Tea.
এই ধরণের ফিনিশিং ক্লায়েন্ট সহজে মনে রাখে। ওই ThankYour/Kind Regards এইসব সবাই ব্যবহার করে সো লক্ষ্য কমন জিনিসের মধ্যে আপনাকে মনে রাখা অসম্ভব এবং অকল্পনীয়।

--> ইংরেজিতে দক্ষতা।
ভালো ইংলিশ জানার এডভান্টেজ অকল্পনীয়। এই ভালো ইংলিশ জানলে কাজ না পারলেও অনেক সময় আপনি কাজ বাগিয়ে নিতে পারবেন আবার ইংলিশ না জানার ফলে কাজে যথেষ্ট দক্ষতা থাকার পরেও আপনি অনেক সময় কাজ পাবেননা।

একটা উদাহরণ দেই।

আমরা নিজের একটা অভিজ্ঞতার কথা বলছি। আমি নিজেকে যথেষ্ট ইংরেজির জাহাজ মনে করি কিছু ক্ষেত্রে আমি রীতিমতো বলতে পারেন যে বাড়াবাড়ি করি।

যাইহোক একবার একটা স্পোর্টস লাইভ চ্যাট গ্রুপে ঝগড়া লেগে গেলো। গালাগালি এক পর্যায়ে এক বিদেশী আমাকে বললো --> Bro, go to sleep. আমি এর গতানুগতিক মানে ধরে রিপ্লাই দিলাম --> Perhaps you need some sleep, i don't.

ভাই রে ভাই রিপ্লাই দেয়ার সাথে সাথেই ওই হাঃহাঃ-র বন্যা বয়ে গেলো পরে আমাকে আমার এক বন্ধু বললো যে তুই না বুইঝাই ওই রিপ্লাই দিলি কেন? আমি বললাম কেন? সে বললো ঐটার মানে তুই যেইটা ভাবছিস ঐটা না ঐটা ন্যাটিভ ইংলিশ যার একটা ডিফারেন্ট মানে আছে। এই ক্ষেত্রে এর মানে হচ্ছে #চুপ_থাকো। এইটা ন্যাটিভ স্পিকাররা স্ল্যাং অথবা বিদ্রুপ করতে ব্যবহার করে। কেউ বেশি বকবক করলে এইটা বলে। মানে পুরাই বাঁশ মিঃ বিন হয়ে গেছিলাম।

বাংলাদেশী অনেক ফ্রীল্যান্সাররা একটা সামান্য ওয়ার্নিং অথবা ক্লায়েন্টের একটা সামান্য ম্যাসেজ অনেক সময় বুঝেনা।  আমার সাজেশন হবে ফ্রীল্যান্সিং মার্কেট প্লেসে জাম্প করার আগে নূন্যতম একটা ইংলিশ স্পিকিং কোর্স সকলের করা উচিৎ।

#PRO (এইটা আমার সাইন)

লেখকঃ মোঃ আলম