আত্মহত্যা নিয়ে আমাদের ভুল ধারণা ও কোরআন হাদিসের আলোকে মৃত্যুর পরের জীবন

আমরা ভেবে থাকি শুধু নামাজ, রোজা, হজ্জ, যাকাত, কুরবানী এগুলোই হচ্ছে ইসলাম। কিন্তু আসলে আমাদের পুরো জীবন ব্যবস্থায় ইসলাম দিয়ে পরিচালিত হওয়া সম্ভব যদি আমরা তাকওয়াবান হই। ইসলামের জ্ঞান কম থাকার কারণে অথবা যথেষ্ঠ ইসলামিক জ্ঞান না থাকার কারণে আমরা জীবনে নানান সমস্যায় পতিত হলেই ধৈর্য হারা হয়ে যায়। 



আমাদের মনে হয় যে, জীবন বুঝি থেমে গিয়েছে… এই কষ্টের জীবন থেকে বের হওয়ার পথ বুঝি আর নেই, তখনই আমরা বেছে নেই আত্মহত্যাকে। কথাটা অনেকটা লজিকাল দুনিয়াবি দিক দিয়ে। কিন্তু ইসলাম কি বলে এ নিয়ে?  সেই ব্যাপারে পরে যাচ্ছি, আগে আমাদের যে ভুল ধারণা আছে আত্মহত্যা নিয়ে, তা নিয়ে কথা বলা যাক।

ছোটবেলা থেকেই আমরা অনেক মুভি দেখে থাকি। আর মুভিতে আত্মহত্যাকে কিভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা সম্পর্কেও আমাদের ভালো আইডিয়া আছে। আমি এই ব্যাপারটাকে একটু ফোকাস করি।

মুভিতে দেখানো হয়, এক লোক/মহিলার জীবনে অনেক দুঃখ, অনেক কষ্ট, আপনজনরা তাকে দাম দিচ্ছে না, অথবা প্রিয়জনের কাছে অবহেলার পাত্র হয়ে গিয়েছে। প্রিয়জনের জন্য জীবনে অনেক ত্যাগ করেছে কিন্তু প্রিয়জন দাম দিচ্ছে না। এই কারনেই উপায় না পেয়ে আত্মহত্যা করে। তারপর মুভিতে কি দেখাই জানেন? ওই ব্যক্তি আত্মহত্যা করাতে তার পরিবার / তার প্রিয়জন অনেক আফসোস করে। তার ভুল বুঝতে পারে, আর ওই যে আত্মহত্যা করল লোকটি??? তার রুহ দূর থেকে এসে দেখে, তার প্রিয়জন কান্না করছে। আর সে বলে, “যাও তোমাকে/তোমাদের মাফ করে দিলাম”। তারপর সেই রূহ চলে যায় তার অজানা এক জায়গায়।

এই যে ছোটবেলা থেকে আমাদের মাথার মধ্যে এই একটা কনসেপ্ট ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে, কোন কিছুর উপায় না পেলে বা কারওর প্রতি আমাদের অভিযোগ থাকলেই, সেই অভিযোগের বিষয়ে অভিহত না করে, অভিমান করে দুনিয়া ছেড়ে চলে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই… তা এসেছে অতিরিক্ত এই সকল বাজে মুভি / গল্প পড়ার কারণে।

এখন বলি মৃত্যুর পর পর আপনার সাথে কি কি হবে তা নিয়েঃ

যারা সুইসাইড করে তারা ভাবে, মৃত্যুর পর তার আত্মা আত্মীয়সজনদের আশে পাশে ঘুর ঘুর করে আর তাদের কথা শুনে। কিন্তু বিষয়টি তা নই!

মৃত্যুর পর পরই মানুষের কবরের জীবন শুরু হয়ে যায়। কিন্তু কবর কি? 

কবর সম্পর্কে জানতে হলে প্রথমে জানতে হবে, মৃত্যুর পর মানুষের রুহ বা আত্মা কোথায় যায় এবং কোথায় অবস্থান করে। কিয়ামত সংঘটিত হবার পরে বিচার শেষে মানুষ জান্নাত বা জাহান্নামে অবস্থান করবে। কিন্তু এর পূর্বে সুদীর্ঘকাল মানুষের আত্মা কোথায় অবস্থান করবে? কোরআন-হাদীসে এর স্পষ্ট জবাব রয়েছে। মৃত্যুর পরের সময়টিকে যদিও পরকালের মধ্যে গণ্য করা হয়েছে, তবুও কোরআন-হাদীস মৃত্যু ও বিচার দিনের মধ্যবর্তী সময়কে আলমে বরযখ নামে অভিহিত করেছে।

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বলেন-

 এবং তাদের পেছনে রয়েছে বরযখ- যার সময়কাল হচ্ছে সেদিন পর্যন্ত যেদিন তাদেরকে পুনর্জীবিত ও পুনরুত্থিত করা হবে। (সূরা মুমিনুন-১০০)

এই আয়াতে যে বরযখ শব্দ ব্যবহৃত হয়েছে, এর অর্থ হলো যবনিকা পর্দা। অর্থাৎ পর্দায় আবৃত একটি জগৎ-  যেখানে মৃত্যুর পর থেকে আখিরাতের পূর্ব পর্যন্ত মানুষের রুহ্‌ অবস্থান করবে। ইসলাম পাঁচটি জগতের ধারণা মানুষের সামনে উপস্থাপন করেছে। 

প্রথম জগৎ হলো, রুহ্‌ বা আত্মার জগৎ- যাকে আলমে আরওয়াহ্‌ বলা হয়েছে। 

দ্বিতীয় জগৎ হলো মাতৃগর্ভ বা আলমে রেহেম। 

তৃতীয় জগৎ হলো আলমে আজসাম বা বস্তুজগৎ- অর্থাৎ এই পৃথিবী। 

চতুর্থ জগৎ হলো আলমে বরযাখ বা মৃত্যুর পর থেকে আখিরাতের পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত যে সুক্ষ্ম জগৎ রয়েছে, যেখানে মানুষের আত্মা অবস্থান করছে। 

পঞ্চম জগৎ হলো আলমে আখিরাত বা পুনরুত্থানের পরে অনন্তকালের জগৎ।

এ কথা স্পষ্ট মনে রাখতে হবে যে, রুহ বা আত্মার কখনো মৃত্যু হয় না। মৃত্যুর পর এই পৃথিবী থেকে আত্মা আলমে বরযখে স্থানান্তরিত হয়। অর্থাৎ আত্মা দেহ ত্যাগ করে মাত্র, তার মৃত্যু হয় না। আলমে বরযখের বিশেষভাবে নির্দিষ্ট যে অংশে আত্মা অবস্থান করে সে বিশেষ অংশের নামই হলো কবর।

বাহ্যিক দৃষ্টিতে কবর একটি মাটির গর্ত মাত্র যার মধ্যে মৃতদেহ সমাহিত করা হয়। মাত্র কয়েকদিনের মধ্যেই দেহ পচে গলে যায়। মাটি এই দেহ খেয়ে নিঃশেষ করে দেয়। কিন্তু প্রকৃত কবর এক অদৃশ্য সুক্ষ্ম জগৎ। যা মানুষের জ্ঞান, বুদ্ধি ও কল্পনারও অতীত। প্রকৃত ব্যাপার হলো, মৃত্যুর পর মানুষ কবরস্থ হোক, চিতায় জ্বালিয়ে দেয়া হোক, বন্য জন্তুর পেটে যাক অথবা পানিতে ডুবে মাছ বা পানির অন্য কোনো প্রাণীর পেটে যাক, সেটা ধর্তব্য বিষয় নয়। মানুষের দেহচ্যুত আত্মাকে যে স্থানে রাখা হবে সেটাই তার কবর। 

অর্থাৎ মৃত্যুর পর থেকে শুরু করে আখিরাতের পূর্ব পর্যন্ত যে অদৃশ্য জগৎ রয়েছে, সেই জগতকেই আলমে বরযখ বলা হয় এবং আলমে বরযখের নির্দিষ্ট অংশ, যেখানে মানুষের আত্মাকে রাখা হয়- সেটাকেই কবর বলা হয়। 

মাটির গর্ত কবর নয় -  আলমে বরযখে দুটো স্থানে মানুষের আত্মাকে রাখা হবে। একটি স্থানের নাম হলো ইল্লিউন আর আরেকটি স্থানের নাম হলো সিজ্জীন। 

ইল্লিউন হলো মেহমানখানা, অর্থাৎ পৃথিবীতে যারা মহান আল্লাহর বিধান অনুসারে নিজেদের জীবন পরিচালিত করেছে, তারাই কেবল ঐ মেহমানখানাই স্থান পাবে।

আর যারা পৃথিবীতে আল্লাহর বিধান অমান্য করেছে, নিজের খেয়াল-খুশী অনুসারে চলেছে, মানুষের বানানো আইন-কানুন অনুসারে জীবন চালিয়েছে, তারা স্থান পাবে সিজ্জীনে। সিজ্জীন হলো কারাগার। আল্লাহর কাছে যারা আসামী হিসেবে পরিগণিত হবে, তারা কারাগারে অবস্থান করবে।

কোরআন-হাদীস স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, কবরে ভোগ-বিলাস অথবা ভয়ঙ্কর আযাবের ব্যবস্থা থাকবে। 

হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর রাদিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু থেকে বর্ণিত রয়েছে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, তোমাদের যে কেউ মৃত্যুবরণ করে, তাকে তার অন্তিম বাসস্থান সকাল-সন্ধ্যায় দেখানো হয়। সে জান্নাতী হোক বা জাহান্নামী হোক। তাকে বলা হয়, এটাই সেই বাসস্থান যেখানে তুমি তখন প্রবেশ করবে যখন আল্লাহ তা’য়ালা কিয়ামতের দিনে দ্বিতীয়বার জীবনদান করে তাঁর কাছে তোমাকে উপস্থিত করবেন। (বোখারী, মুসলিম)

ইন্তেকালের পরপরই কবরে বা আলযে বরযখে গোনাহ্‌গারদের শাস্তি ও আল্লাহর বিধান অনুসরণকারী বান্দাদের সুখ-শান্তির বিষয়টি মহাগ্রন্থ আল কোরআন এভাবে ঘোষণা করেছে -

যদি তোমরা সে অবস্থা দেখতে যখন ফেরেশ্‌তাগণ কাফিরদের আত্মা হরণ করছিলো এবং তাদের মুখমন্ডলে ও পার্শ্বদেশে আঘাত করছিলো এবং বলছিলো, নাও, এখন আগুনে প্রজ্জ্বলিত হওয়ার স্বাদ গ্রহণ করো। (সূরা আনফাল-৫০)

মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামীন পবিত্র কোরআনের আরেক আয়াতে বলেন-

 ঐসব আল্লাহভীরু লোকদের রুহ্‌ পবিত্র অবস্থায় যখন ফেরেশ্‌তাগণ বের করেন তখন তাদেরকে বলেন, আস্‌সালামু আলাইকুম। আপনারা যে সৎ কাজ করেছেন এর বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করুন। (সূরা নহল-৩২)

বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে গেলো যে, আলমে বরযখে বা কবরে মানুষকে শ্রেণী অনুসারে জান্নাত বা জাহান্নামে প্রবেশের কথা শুনানো হয়। আখিরাতে বিচার শেষে জান্নাত বা জাহান্নামে প্রবেশের পূর্বে আলমে বরযখে বা কবরে আযাবের মধ্যে সময় অতিবাহিত করবে আল্লাহর বিধান অমান্যকারী লোকজন এবং যারা কোরআনের বিধান অনুসারে চলেছে তারা পরম শান্তির পরিবেশে সময় অতিবাহিত করবে।

 সুতরাং মৃত্যুর পরে মানুষের দেহ নিশ্চিহ্ন হয়ে যাক, এটা কোনো বিষয় নয়, যা কিছু ঘটবে তা আত্মার ওপর ঘটবে অথবা আল্লাহ তা’য়ালা ইচ্ছে করলে ঐ দেহ তৎক্ষণাত প্রস্তুত করতেও সক্ষম। কবর ভেঙ্গে যাক বা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যাক এটা ধর্তব্য বিষয় নয়। কবরে শান্তি বা আযাবের বিষয়টি অবধারিত সত্য, কোরআন-হাদীসে এ ব্যাপারে স্পষ্ট কথা বলা হয়েছে।

এতটুকু আলোচনা থেকে আমরা নিশ্চিত হতে পারলাম যে, মৃত্যুর পর পরই আমরা অন্য জগতে থাকব, সেই জগতের অবস্থান (ভালো বা মন্দ) নিয়েই আমরা ব্যস্ত থাকব। অর্থাৎ আমরা যে ভেবে থাকি, সুইসাইড করে সবাইকে দেখব কে কে আমার ব্যাপারে ভালো বলছে, কে কে আমার জন্য কান্না করছে দেখব। এটি “মুভিতে” দেখানো সবচেয়ে বড় ভুল ধারণার একটি। মুভি/সিনেমা দেখে দেখে মৃত্যুর পরের জগতে আমরা নিজেকে ঘুলিয়ে ফেলি। আমাদের বিশ্বাসটুকু নষ্ট হয়ে যায়, যার ফলে চরম হতাশাগ্রস্থ অবস্থায় শয়তান আমাদের ধোকা দিতে সক্ষম হয়ে যায়, যার ফলে আমরা এমন এক পরিণতির দিকে অগ্রসর হই, যা মৃত্যুর পরের জীবনের জন্য সুখকর নই।

আত্মহত্যার ব্যাপারে কোরআন এবং হাদিস কি বলে?

আত্মহত্যা মানে নিেজকে নিজেই ধ্বংস করা। নিজ আত্মাকে চরম যন্ত্রণা ও কষ্ট দেয়া। নিজ হাতে নিজের জীবনের সকল কর্মকাণ্ডের পরিসমাপ্তি ঘটানোর নামই আত্মহত্যা। ইসলামি দৃষ্টিকোণে আত্মহত্যা একটি জঘন্যতম মহাপাপ।

আল্লাহ মানুষকে মরণশীল করে সৃষ্টি করেছেন [সূরা আল-আনকাবূত, ৫৭]। 

তিনি জীবন ও মরণ দান করেন এবং তাঁরই কাছে প্রত্যাবর্তন করতে হবে। [সূরা ইউনুস, ৫৬]। 

কিন্তু আত্মহত্যার ক্ষেত্রে বান্দা স্বাভাবিক মৃত্যুকে উপেক্ষা করে মৃত্যুকে নিজের হাতে নিয়ে নিজেই নিজকে হত্যা করে ফেলে অনধিকার চর্চা করেন। এ কারণে এটি একটি গর্হিত কাজ, হারাম এবং কবিরা গুনাহ। আল্লাহ তায়ালা এমন কাজকে মোটেই পছন্দ করেন না।

আল্লাহ্‌ তায়ালা বলেন, ‘আর তোমরা নিজেদের হত্যা করো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ তোমাদের প্রতি দয়ালু। এবং যে কেউ জুলুম করে, অন্যায়ভাবে তা (আত্মহত্যা) করবে, অবশ্যই আমি তাকে অগ্নিদগ্ধ করবো, আল্লাহর পক্ষে তা সহজসাধ্য।’ [সূরা আন-নিসা, ২৯-৩০] 

‘আর তোমরা নিজ হাতে নিজদেরকে ধ্বংসে নিক্ষেপ করো না।’ [সূরা আল-বাকারা, ১৯৫]


আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজেকে পাহাড়ের ওপর থেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, সে জাহান্নামে যাবে। সেখানে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে নিক্ষেপ করতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে ব্যক্তি বিষপান করে আত্মহত্যা করবে, সে তার বিষ তার হাতে থাকবে। জাহান্নামে সর্বদা সে ওইভাবে নিজেকে বিষ খাইয়ে মারতে থাকবে অনন্তকাল ধরে। যে কোনো ধারালো অস্ত্র দ্বারা আত্মহত্যা করেছে তার কাছে জাহান্নামে সে ধারালো অস্ত্র থাকবে যার দ্বারা সে সর্বদা নিজের পেটকে ফুঁড়তে থাকবে।’ [বুখারী : ৫৪৪২; মুসলিম : ১০৯]

আবূ হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম বলেন, ‘যে ব্যক্তি ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করে সে দোজখে অনুরূপভাবে নিজ হাতে ফাঁসির শাস্তি ভোগ করতে থাকবে। আর যে বর্শার আঘাত দ্বারা আত্মহত্যা করে- দোজখেও সে সেভাবে নিজেকে শাস্তি দেবে। আর যে নিজেকে নিক্ষেপ করে আত্মহত্যা করবে, কিয়ামতের দিন সে নিজেকে উপর থেকে নিক্ষেপ করে হত্যা করবে।’ [ইবন হিব্বান : ৫৯৮৭; তাবরানী : ৬২১]

আত্মহত্যা এতই গর্হিত কাজ যে এর প্রতি ধিক্কার জানিয়ে অন্যদেরকে এ থেকে সতর্ক করতে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম আত্মহত্যাকারীর জানাযা ত্যাগ করেন।

জাবের বিন সামুরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম সমীপে এক ব্যক্তিকে আনা হলো যিনি নিজেকে তরবারীর ফলা দিয়ে মেরে ফেলেছে। ফলে তিনি তার জানাযা পড়লেন না।’ [মুসলিম : ২৩০৯]

জাবের বিন সামুরা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লামের এক সাহাবী আহত হন। এটি তাকে প্রচণ্ড যন্ত্রনা দেয়। তখন তিনি হামাগুড়ি দিয়ে একটি শিংয়ের দিকে এগিয়ে যান, যা তার এক তরবারির মধ্যে ছিল। এরপর তিনি এর ফলা নেন এবং আত্মহত্যা করেন। এ কারণে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াছাল্লাম তার জানাযা পড়ান নি। [তাবরানী : ১৯২৩]

এ থেকে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারলাম যে, আত্মহত্যা করা কত বড় গুনাহ আর এর শাস্তি কত ভয়াবহ।

আমরা আত্মহত্যা করি, এর অনেকগুলো কারণ আছে,

১। হতাশাগ্রস্থ হয়ে গেলে আত্মহত্যা করি

কিন্তু আল্লাহ্‌ বলেছেন -

বলো, হে আমার বান্দাগণ! তোমরা যারা নিজেদের প্রতি অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর অনুগ্রহ থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সকল গোনাহ ক্ষমা করে দেন। সন্দেহ নেই, তিনিই ক্ষমাশীল দয়ালু। -সূরা যুমার (৩৯) : ৫৩

২। আমরা যখন কষ্ট সহ্য করতে পারি না তখন আত্মহত্যার পথ বেছে নেই।

কিন্তু আল্লাহ্‌ বলেছেন –

কষ্টের সঙ্গেই তো স্বস্তি আছে। অবশ্যই কষ্টের সঙ্গেই স্বস্তি আছে। - সূরা ইনশিরাহ (৯৪): ৫-৬

৩। স্বামী-স্ত্রীর মাঝে কলহ হলেই আমরা আত্মহত্যার পথ বেছে নেই কিন্তু এটা ভাবি না যে, এটাও আল্লাহ্‌র তরফ থেকে এক পরীক্ষা।


আপনি ভাবছেন দুনিয়াতে আপনি একমাত্র লোক যে কিনা কষ্টে আছে কিন্তু ভেবে দেখুন কাশ্মীরের মা-বোনদের কথা যারা নির্যাতিত হচ্ছে, যাদেরকে তাদের বাপ-ভাইদের সামনেই ধর্ষণ করা হচ্ছে… তারা কি আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে?


একবার কি ভেবে দেখেছেন, সিরিয়াতে যে বম্বিং হচ্ছে প্রতিনিয়ত… সেখানের বুড়ো থেকে ছোট বাচ্চারাও আতংকে থাকে। তারা জানে না, কে কখন কোন অবস্থায় মারা যায়! তারা এও জানে না আজ বোম পড়লে সে মারা যাবে নাকি শুধু তার হাত-পা শরীর থেকে আলাদা হয়ে যাবে! তাও কি সেই বাচ্চারা, বুড়োরা আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছে?

আপনার জীবন কি তাদের থেকে বেশি খারাপ? আপনি কি মনে করেন আপনার জীবনে করার কিছু নেই? আপনার জীবনের অর্থই হচ্ছে, সুন্দর একটি জীবন যেখানে দুঃখ কষ্ট থাকবে না!!! তাহলে আপনি ভুলের উপর আছেন। এই পৃথিবীতে যিনি এক মুহূর্তের জন্যও মিথ্যে বলেননি, যিনি এক মুহূর্তের জন্য কাওকে ধোকা দেননি, সেই হজরত মুহাম্মাদ (সাঃ) এর জীবনেও অশান্তি ছিল। উনি ইসলাম প্রচার করতে গিয়ে যে কষ্ট সহ্য করেছেন, তা কোরআন হাদিস পড়ে জানুন। তখন আপনার জীবনের কষ্ট আর কষ্ট মনে হবে না।

এই লিখার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে, আমরা আত্মহত্যা করলে ভাবি যে, বেঁচে গেলাম! কিন্তু আসলেই কি বেঁচে গেলাম? নাকি আরেক মহাবিপদে পতিত হবো? ভেবে দেখুন। 

আপনি আত্মহত্যা করার অধিকার রাখেন না। কারণ আল্লাহ্‌র দেওয়া একটি নেয়ামত হচ্ছে আমাদের শরীর। আর এই শরীর আমাদের জন্য আমানত স্বরূপ। তাই আমানতের খেয়ানত করে দুনিয়া ত্যাগ করবেন না।

সব সময় মনে একটি কথা গেঁথে রাখব “আত্মহত্যা অমুসলিমদের তরিকা, মুসলিমদের নই”।

আল্লাহ্‌ আমাদেরকে সঠিক বুঝ দান করুক আর বেশি বেশি আল্লাহ্‌র ইবাদাত করার তোফিক দান করুক আমীন।

© সংগৃহীত