একনজরে দেখে নিন 5G প্রযুক্তি সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু তথ্য

আসসালামু আলাইকুম।
বন্ধুরা সবাই কেমন আছেন? আশা করি সবাই অনেক ভাল আছেন। কারণ ট্রিকবাজে থাকলে সবাই ভালো থাকে। আপনাদের দোয়ায় আমিও ভালো আছি। আর কথা বাড়াবো না। চলুন শুরু করি।



আমরা প্রত্যেকেই কিন্তু দুর্দান্ত গতির ইন্টারনেট পেতে ভালোবাসি, আর এই জন্য টেলিকম কোম্পানির ইন্টারনেট স্পীড আরো বৃদ্ধি করার জন্য প্রযুক্তির উপর কাজ শুরু করছে। মোবাইল থেকে শুরু করে গাড়ি, বাড়ি ইত্যাদি সব কিছুতেই ইন্টারনেট অনেক প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে এবং অবশ্যই এগুলোর সাথে আরো অনেক বেশি ব্যান্ডউইথ খরচ করছে। তাই ইন্টারনেটকে আরো সমৃদ্ধ পূর্ণ করতে এবং একসাথে আরো বেশি ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করার উপযোগী করে তুলতে ৫জি কিছু অসাধারণ প্রযুক্তি নিয়ে আসছে আমাদের সামনে। তবে একজন সচেতন ব্যক্তি হিসেবে আপনার অবশ্যই জানা প্রয়োজন —কি কি রয়েছে এই প্রযুক্তিতে? এটি 3G বা 4G থেকে কতটা আলাদা?

5G কি?
এখানে “G” মানে অবশ্যই “Generation” কে বোঝানো হয়েছে আর ওয়্যারলেস কোম্পানিরা সেই 1G থেকে তাদের যাত্রা শুরু করেছিল। এরপরে আসলো 2G যেখানে প্রথমবারের মতো দুইটি মোবাইল Device এর মধ্যে Text Massage পাঠানো সম্ভব হয়েছিলো। তারপরে এসেছিলো 3G, যা আমাদেরকে টেক্সট ম্যাসেজ, কল, ইন্টারনেট ইত্যাদি আগের তুলনায় অনেকটা ভিন্নভাবে ব্রাউজ করার সুবিধা করে দিয়েছিল। 4G তে 3G এর সব সুবিধাই রয়েছে, শুধু আরো ইন্টারনেট স্পীড বৃদ্ধি করে দেওয়া হয়েছে, যাতে সহজেই যেকোনো বড় সাইজের ফাইল ডাউনলোড করা সম্ভব হয়। এরপরেই 4G কে আরো দ্রুত করার জন্য এলটিই প্রযুক্তি আমাদের সামনে চলে আসে, যেটা 4G প্রযুক্তিকে করেছিলো আরো বেশি শক্তিশালী।

বর্তমান 4G প্রযুক্তি থেকে 5G তে Bandwidth স্পীড 4G এর তুলনায় কয়েকগুনে বেশি। সাধারণত এই প্রযুক্তিতে ১-১০+ গিগাবিট/সেকেন্ড স্পীড পাওয়া সম্ভব এবং সবচাইতে খুশির খবর হচ্ছে এতে থাকবে মাত্র ১ মিলি সেকেন্ডের লেটেন্সি। তো বুঝতেই তো পারছেন, 5G প্রযুক্তি ব্যবহার করে কি পরিমান ইন্টারনেট স্পিড পাওয়া যাবে! এই 5G প্রযুক্তি ব্যবহার করে খুব সহজেই 4K ভিডিও ডাউনলোড বা আপলোড করা যাবে। 5G প্রযুক্তিতে আরেকটি বড় ফিচার হচ্ছে এটি 90% কম এনার্জি ব্যয় করে কাজ করবে। যারা 3G বা 4G তে সেলুলার ইন্টারনেট ব্যবহার করেন তারা অবশ্যই জানেন যে, ইন্টারনেট কানেক্ট হওয়ার পড়ে কত দ্রুত পরিমাণ চার্জ ফুরিয়ে যায়। কিন্তু ৫জিতে এমনটা আর হবে না, এই 5G প্রযুক্তি ব্যবহারে অনেকটা ওয়াইফাই ব্যবহার করার মতো চার্জ ব্যয় হতে পারে বলে জানা গেছে।

সাথে 5G প্রযুক্তি প্রদান করছে প্রচণ্ড পরিমানে ব্যান্ডউইথ ইউজ করার ক্ষমতা—এখন মোবাইল অপারেটররা আমাদের কতোটুকু দিবে সেটা তাদের উপর নির্ভর করবে। আর যেহেতু 5G তে প্রশ্ন আসে Bandwidth নিয়ে, তাহলে এখন আশা করা যায় যে মোবাইল ইন্টারনেট কোম্পানিরা আর ১০০-২০০ টাকাই ১জিবি বিক্রির কথা চিন্তা করবে না, তাদের Bandwidth দাম কমাতেই হবে, তাছাড়া Public এতো Bandwidth খরচ কীভাবে করবে? আমরা যদি সত্যিই অনেক ভাগ্যবান হয়ে থাকি তাহলে 5G আসার পরে মোবাইল ইন্টারনেটে সত্যিকারের আনলিমিটেড প্ল্যান দেখতে পাওয়া যেতে পারে।

কীভাবে কাজ করে?
আপনি যখন মোবাইল ব্যবহার করে কাউকে কল করেন বা কাউকে কোন ম্যাসেজ করেন, তখন আপনার মোবাইল থেকে একটি ইলেক্ট্রো ম্যাগনেটিক তরঙ্গ বের হয়ে আপনার নিকটস্থ মোবাইল টাওয়ারে যায়। মোবাইল ফোন টাওয়ার সেই সিগন্যালকে আপনার বন্ধুর মোবাইল ফোন পর্যন্ত পৌঁছে দিতে সাহায্য করে। শুধু কল করা বা টেক্সট ম্যাসেজ নয়, আপনি যখন অন্যান্য যেকোনো ডাটা (যেমন— ছবি, ভিডিও) Send বা Received করেন তখনও কিন্তু ঠিক একই পদ্ধতিতে কাজ হয়।

কখন আসবে 5G?
আশ্চর্য হওয়ার মত কিছু নেই — কেনোনা এই 5G প্রযুক্তি আমাদের মাঝে অলরেডি কিন্তু এসে গেছে এবং আমেরিকার বিভিন্ন স্থানে টেস্ট করার জন্য এই সেবা চালু করে দেওয়া হয়েছে। তো যাইহোক, বেশিরভাগ বিশেষজ্ঞদের মতে ২০২০ সালের আগে এই 5G প্রযুক্তি ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ভাবে ব্যবহার উপযোগী হবে না। তবে আশা রাখা যায় যে, ২০২০-২০৩০ সালের মধ্যে অনেক দেশের অনেক অপারেটর এই নতুন 5G প্রযুক্তি সেবা চালু করবে।

তো আজকে এই পর্যন্তই। আশা করি আপনাদের কাছে পোষ্ট টি ভালো লেগেছে। যদি ভালো লেগে থাকে তাহলে অবশ্যই আমার পোস্টটি শেয়ার করতে ভুলবেন না।

লেখকঃ Ahsan Habib