ব্যাতিক্রমধমী সার্চ ইঞ্জিন ডাকডাকগো [হ্যাকারদের সার্চ ইঞ্জিন]

আমরা কম বেশি সবাই সার্চ ইঞ্জিন এর সাথে পরিচিত। অনেক অনেক সার্চ ইঞ্জিন আছে পৃথিবীতে। তেমন কিছু সার্চ ইঞ্জিন হলঃ গুগল, ইয়াহু, বিং, ইয়ান্ডেক্স, ডাকডাকগো ইত্যাদি।

এদের মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় হচ্ছে গুগল। অনেকে আবার ইন্টারনেট বলতে গুগলকেই বুঝে থাকে। যদিও ইন্টারনেট এর ছোট্ট একটা অংশ হচ্ছে গুগল। কিন্তু একটা ভিন্নধর্মী সার্চ ইঞ্জিন আছে যার নাম ডাকডাকগো।

কেন এই সার্চ ইঞ্জিন ভিন্নধর্মী?? কেনই বা অল্প সময়ে এটা বেশ জনপ্রিয়?? আর কেনই এটা মানুষ ব্যবহার করে?? এরকম বেশ কিছু অসাধারণ প্রশ্নের সাধারন উত্তর জানতে পড়ে ফেলুন এই লেখাটি।

সার্চ ইঞ্জিন কী ??
সার্চ ইঞ্জিন হচ্ছে এমন একটা ওয়েব এপ বা ওয়েব সফটওয়্যার যার মাধ্যমে আপনি চাইলেই সম্পুর্ন ইন্টারনেট জগতে খোঁজ লাগাতে পারেন। সার্চ ইঞ্জিন বেশ জটিল প্রক্রিয়ায় এসব কাজ সম্পন্ন করে, তবে আমি সহজ করে একটু ধারনা দিতে চাচ্ছি। ধরুন আপনি একটা বিষয় নিয়ে সার্চ করবেন সেটা হচ্ছে “বাংলাদেশ”। এখন বিশ্বে বাংলাদেশ নিয়ে লেখা আছে এমন হাজার হাজার ওয়েব সাইট আছে। আপনি যখন ওই শব্দ দিয়ে সার্চ করলেন তখন উক্ত সার্চ ইঞ্জিন নিজেদের ইন্ডেক্স পেজে ওই শব্দ খুজতে থাকে। যখন পেয়ে যায় তখন ওই শব্দের সাথে যেই লিংক আছে সেটা আপনাকে রেজাল্ট হিসেবে দিয়ে দেই।
আরো ক্লিয়ার করি, আপনি নিশ্চয় আপনার মোবাইলের এড্রেস বুক টা চিনেন। আপনি সেখানে একটা নাম এবং তার সাথে একটা নাম্বার লিখে থাকেন। যখন সেই নাম দিয়ে খুঁজে দেখেন তখন ওই নামের সাথে যেই নাম্বার যুক্ত করে সেভ করেছিলেন সেই নাম্বার শো করে।
সার্চ ইঞ্জিন ঠিক এমনই, সার্চ ইঞ্জিনের এড্রেস বুক কে ইন্ডেক্স পেজ বা সহজে ডাটাবেস বলতে পারি। সেখানে নির্দিষ্ট শব্দের সাথে ওরকম লিংক যুক্ত আছে। যখন আপনি ওই শব্দ দিয়ে খুজে দেখেন তখন সাথে থাকা ওই লিংক টা চলে আসে। এটা বেশ সাদামাটা একটা ব্যাখ্যা।
এখন নিশ্চয় বুঝতে পেরেছেন সার্চ ইঞ্জিন কিভাবে কাজ করে। এরকম ভাবে মোটামুটি সব সার্চ ইঞ্জিনই কাজ করে থাকে।
এখন আসি মুল কথায়, ডাকডাকগো তেমনি একটা সার্চ ইঞ্জিন। তবে এর কিছু আলাদা গুন বা বৈশিষ্ঠ্য আছে। সেগুলো হচ্ছেঃ

✪ আপনাকে কখনোই ট্র্যাক করে না।
✪ আপনার ব্যাপারে কোনো তথ্য সংগ্রহ করে না।
✪ একদম নিরপেক্ষ তথ্য দিয়ে থাকে।
✪ আপনি ফ্রিতে প্রক্সি ব্যবহার করতে পারবেন।
✪ খুব সিম্পল ইন্টারফেস এবং চাইলেই সহজে কাস্টমাইজ করতে পারবেন।
✪ কোন কোন সাইট আপনার ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করছে সহজেই সেটা দেখতে পাবেন।
✪ এরকম আরো অনেক ফিচার আছে। তবে, আজকে মোটামুটি এগুলো নিয়েই আলোচনা করব।

নো ট্র্যাকিং
আপনি হয়তো জানেন গুগল আপনার ব্যাপারে সব কিছু সংগ্রহ করে রাখে। আপনার সব পছন্দ-অপছন্দ, আপনার আশে পাশের মানুষজন সবাইকে গুগল চিনে রাখে। এবং প্রয়োজন মতো আপনার সামনে সেগুলো প্রদর্শন করে। বিশ্বাস না হলে এখনই, কোনো একটা বিষয় নিয়ে গুগলে সার্চ করুন যেমন “Python Online Course” এরকম লিখে।
অল্প একটু ঘাটাঘাটি করে কোনো একটা সাইটে প্রবেশ করুন যেই সাইটের গুগল এডসেন্স আছে এবং তখনই দেখতে পাবেন ঐসব সাইটের এড গুলো “Python Online Course” রিলেটেড। এখন গুগল আরো স্মার্ট হয়ে যাচ্ছে। এখন সার্চ না করলেও তারা কোনো ভাবে আপনার ইন্টারেস্ট জেনে নিয়ে বিজ্ঞাপন দেই।
কিন্তু, আপনি যদি এমন মনে করেন যে গুগল আপনাকে ট্র্যাক করবে না বা আপনার সম্বন্ধে কিছুই জানবে না তাহলে গুগল বা দিয়ে ডাকডাকগো ব্যবহার করুন। তারা আপনাকে কখনোই ট্র্যাক করবে না। আপনি স্বাধীন ভাবে বিচরণ করতে পারবেন।

নো ইনফরমেশন গ্যাদারিং
আগেই বলেছি গুগল আপনার ব্যাপারে সব জানে। এবং আপনার সব ইনফরমেশন সেভ করে সেগুলো বিভিন্ন কাজে লাগাই। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে প্রাইভেসির ব্যাপার চলে আসে, আপনি যদি সেরকম কিছু চেয়ে থাকেন তাহলে ডাকডাকগো ব্যবহার করুন কারন এটা আপনার ব্যাপারে কিছুই জানে না।

নিরপেক্ষ তথ্য
আপনি হয়তো জানেন অথবা জানেন না যে আপনার লোকেশন, ইন্টারেস্ট এবং আপনার ইনফরমেশন অনুযায়ী গুগল সার্চ এর সার্চ রেজাল্ট প্রভাবিত হয়। ব্যাপারটা পরখ করার জন্য আপনি এখন কোনো একটা বিষয় নিয়ে সার্চ করুন এবং সেটার স্ক্রিনশট রেখে দিন।
তারপর, কোনো একটা প্রক্সি বা ভিপিএন এর সহায়তায় অন্য সার্ভার ব্যবহার করে একই জিনিস সার্চ করুন দেখবেন আগেরটার সাথে বেশ বড়সড় একটা পার্থক্য আছে।
কিন্তু, যদি একদম নিরপেক্ষ তথ্য চেয়ে থাকেন তাহলে ডাকডাকগো ব্যবহার করতে পারেন। আবার গুগল যদি কোনো সাইটকে ব্লক করে রাখে তাহলে হয়তো আপনি সেটা সার্চ করে দেখতে পাবেন না। কিন্তু, ডাকডাকগো এর সাহায্যে সব কিছু পাবেন।

ফ্রি প্রক্সি
আমার মনে হয় আপনি প্রক্সির ব্যাপারে জানেন। আর এউ জানেন সাধারণত আমরা যেসব ফ্রি প্রক্সি ব্যবহার করি সেগুলোর অবস্থা ভালো না। তেমন ভালো স্পিড ই পাওয়া যায় না।
আর, সেফটিও হুমকির মুখে থাকে। কিন্তু, ডাকডাকগো এসবের বাইরে। ডাকডাকগোতে সার্চ করলে সার্চ রেজাল্টের উপরে একটা প্রক্সি অপশন পাবেন। সেখান থেকে চাইলেই কোনো একটা সার্ভার আপনি ফ্রিতে ব্যবহার করতে পারবেন। এই ফিচারটা আমার বেশ পছন্দের।

সিম্পল ইন্টারফেস
গুগলেরও যদিও সিম্পল ইন্টারফেস তবুও ডাকডাকগো এতো ফাংশানালিটির সাথে সাথে সিম্পল ইন্টারফেস ও দেই। আপনি চাইলে সহজে উক্ত ইন্টারফেস কাস্টমাইজ করতে পারবেন। ডাকডাকগো কাস্টমাইজ এ সম্পুর্ন অধিকার আপনাকে দেই।

ইউজার ডেটা রিভিউ
এই ফিচারটা কিছুদিন আগে রিমুভ করে দিলেও এখন আবার সচল। এর মাধ্যমে আপনি জিমেইল দিয়ে দেখতে পারবেন কোনকোন সাইটের কাছে আপনার কুকিজ বা ডেটা আছে। যেটা অন্য সাইট দিয়েও করা যায় তবে এটাও ভালো পদ্ধতি।
এরকম আরো অনেক সুবিধা আপনি পাবেন ডাকডাকগো ব্যবহার করলে। তবে, আমি এখানে শুধু গুগলের উদাহরণ দিলেও অন্যান্ন সার্চ ইঞ্জিন গুলোও এমন।
আমি অবশ্যই গুগলের বিরুদ্ধে কিছু বলতে আসি নি কারন এই আর্টিকেল এর কয়েকটা ইনফরমেশন ম্যানেজ করতে আমি গুগলে সার্চ করেছি। 🙂
সে যায় হোক, একটা কথা বলে শেষ করি, “গুগল কিন্তু প্রথম সার্চ ইঞ্জিন নয়, ফেসবুক ও প্রথম সোশ্যাল সার্ভিস নয়, উবার ও প্রথম রাইড শেয়ারিং নয়, অ্যাপল এর ডিজাইন ও প্রথমে অন্যের থেকে নেয়া ছিল।
তবুও তারা পপুলার কারন আগের গুলোর তুলনায় এরা বেশি সুবিধা দিয়ে থাকে। তাই, ইউনিক আইডিয়া চাই বলে না চিল্লিয়ে এখনই যা আছে তাই নিয়ে সঠিক ভাবে এগিয়ে চলুন।”
ওকে, যদি আর্টিকেল টি ভালো লেগে থাকে তাহলে এখনই শেয়ার করে বন্ধুদের জানিয়ে দিন।
যেকোন প্রশ্ন বা মতামত জানান কমেন্টে। আর, আপনি কেন গুগল বা ডাকডাকগো ব্যবহার করেন সেটা আমাদের জানিয়ে দিন। এর ফলে আপনার যেমন জ্ঞান বিতরণ হবে আমরাও শিখতে পারবো।

© Shahriar Ahmed Shovon