নামাযের যে ৩ সময়ে আল্লাহ তায়ালার দোয়া কবুল করার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে

আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়াবারাকাতুহ

প্রিয় ভাই ও বোনেরা আশা করছি আল্লাহ তাআলার অশেষ রহমতে আপনারা সবাই ভাল আছেন এবং সুস্থ আছেন। আমিও আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে ভালো এবং সুস্থ আছি।

আজকে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করব কোন সময়ে নামাজ পড়ে আল্লাহ তায়ালার কাছে কোন কিছু চাইলে সেই দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচাইতে বেশি থাকে। 

আমরা অনেকেই নামাজ পড়ি এবং নামাজ শেষে আল্লাহর কাছে মোনাজাত ধরে দোয়া চাই। তবে হাদিস হতে বর্ণিত কিছু নির্দিষ্ট সময়ে রয়েছে এবং সেই সময়ে আল্লাহতালার কাছে কোন কিছু চাইলে সেই দোয়া কবুল হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি থাকে।

তো চলুন কথা না বাড়িয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
মানুষ হিসেবে আমরা বড়ই দুর্বল। মহান আল্লাহ তাআলার কাছে সাহায্য চাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোন কিছু করার ক্ষমতা নেই। আমাদের সুখে-দুঃখে বিপদে-আপদে সর্বাবস্থায় অমুখাপেক্ষী সেই মহান রবের দরবারে চাইতে হয়। আর এই মহান অমুখাপেক্ষী রবের কাছে কোন কিছু চাওয়া কেই আমরা দোয়া বলে থাকি।

পবিত্র কুরআনের সূরা বাকারা ১৮৬ নাম্বার আয়াতে আল্লাহ তা’আলা বলেন: “আর আমার বান্দা যখন আপনার কাছে আমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করে; আমি তো কাছেই আছি। আমি দোয়া কবুল করি যখন সে আমার কাছে দোয়া করে।”

মহান আল্লাহতালা দোয়া কবুল করতে ভালোবাসেন তার কাছে যদি কোন বান্দা মোনাজাত ধরে কোনকিছু চান তাহলে আল্লাহতালা অনেক বেশি খুশি হন।

আল্লাহ তা’আলা বলেন: তোমরা ভয় ও আশা নিয়ে আল্লাহতালার কে ডাকো। নিশ্চয়ই আল্লাহ তাআলার রহমত সৎকর্মশীলদের নিকটবর্তী। (সূরা আরাফ: ৫৬)।

বান্দা সবসময়ই চায় আল্লাহ তাআলা তার দোয়া কবুল করুক, তার ডাক শুনুক।

হাদিস শরীফে দোয়া কবুল হওয়ার তিনটি সময়ের কথা উল্লেখ রয়েছে। হাদিস অনুযায়ী এই তিন সময়ে যদি কোন বান্দা আল্লাহতালার কাছে কোন কিছু চায় তাহলে আল্লাহ তা’আলা অবশ্যই সেটা কবুল করেন।

আজকে এই পোস্টে আমি আপনাদের সাথে এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

১। সেজদা করার সময়:
যে দোয়া করলে আল্লাহ খুব বেশি কবুল করেন এবং খুব দ্রুত কবুল করেন সেগুলো হচ্ছে সেজদারত অবস্থায় আল্লাহতালার কাছে কোন কিছু চাওয়া।

এই বিষয়ে মুসলিম শরীফে একটি হাদিস উল্লেখিত হয়েছে হাদীসটি নিচে উল্লেখ করে দেওয়া হল:

“বান্দা সিজদারত অবস্থায় স্বীয় আল্লাহতালার সবচাইতে বেশি নিকটবর্তী হয়। অতএব তোমরা সেজদারত অবস্থায় আল্লাহ তায়ালার কাছে বেশি বেশি দোয়া করবে”। (মুসলিম ৪৮২, নাসায়ী: ১১৩৭, আবু দাউদ: ৮৭৫, আহমাদ: ৯১৬৫)

২। যে ব্যক্তি রাতে ঘুম থেকে জেগে উঠে বলবে:
লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ-দাহ লা শারিকালাহু, লাহুল মুলকু, ওয়ালাহুল হামদু, ওহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। সুবহা-নাল্লাহি ওয়াল হামদুলিল্লাহি, ওয়া লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াল্লাহু আকবর। ওয়ালা হাওলা ওয়ালা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হিল আলিউল আজিম। রাব্বিগ-ফিরলী।

আল্লাহ তায়ালার কোন বান্দা যদি রাতে ঘুমের সময় হঠাৎ নিদ্রা হতে জাগ্রত হয়ে উপরোক্ত এই দোয়াটি একবার পাঠ করে কাঁদো কাঁদো ভাবে আল্লাহতালার কাছে বিশ্বাস নিয়ে কোন কিছু চায় তাহলে আল্লাহতালা সেই দোয়া কখনো ফিরিয়ে দেন না।

এই বিষয়ে হাদিস শরীফে এসেছে:- যদি কেউ রাতে নিদ্রা থেকে জাগ্রত হয়ে এই দোয়া পাঠ করে তবে তার দোয়া কবুল করা হবে আর যদি সে অজু করে নামাজ পড়ে তবে তার নামাজ কবুল করা হবে। (বুখারী: ফাতহুল বারি: ১১৫৪, সহীহ ইবনে মাজাহ: ২/৩৩৫)

রাসুলুল্লাহ সাঃ কে একদা জিজ্ঞেস করা হলো: কোন দোয়া সর্বাধিক কবুল করা হয়? তিনি বললেন: রাত্রির শেষভাগে এবং ফরজ নামাজের শেষাংশে।


৩। রাতের এক তৃতীয়াংশ দোয়া কবুল হয়:
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেন: প্রতি রাতে যখন রাতের এক তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকে তখন আমাদের প্রতিপালক পৃথিবীর নিকটতম আকাশে অবতীর্ণ করেন। তখন তিনি আমাদের বলেন, “কে আছে আমার কাছে দোয়া করবে আমি তার দোয়া কবুল করবো। কে আছে আমার কাছে প্রার্থনা করে কোন কিছু চাইবে আমি তার চাওয়া পূরণ করবো।” (বুখারি: ১১৪৫, মুসলিম)।

তো বন্ধুরা আশা করছি এই পোষ্টের মাধ্যমে আপনারা সব কিছু বুঝতে পেরেছেন। ইনশাল্লাহ আপনারা যদি এই তিন সময় আল্লাহতালার কাছে নামাজ পড়ে মোনাজাত ধরে কোন কিছু চান তাহলে ইনশাল্লাহ অবশ্যই আল্লাহ তাআলা আপনাকে কবুল করে নিবেন।

ইনশাল্লাহ ভবিষ্যতে আমি আরো ভালো ভালো দোয়া নিয়ে আপনাদের সামনে উপস্থিত হব ততদিন পর্যন্ত ভাল থাকুন সুস্থ থাকুন খোদা হাফেজ।

Post a Comment

0 Comments