পাকিস্তান কিভাবে আমেরিকার কাছ থেকে 'BABUR' ক্রুজ মিসাইলের প্রযুক্তি হাতিয়ে ছিলো

© Breaking Defence

পাকিস্তান কিভাবে আমেরিকার কাছ থেকে 'BABUR' ক্রুজ মিসাইলের প্রযুক্তি হাতিয়ে ছিলো তার ইতিহাস বেশ মজার।
৯০ দশকের শেষ দিকে আমেরিকা পাকিস্তানের কাছে তাদের এয়ারস্পেস ব্যাবহারের অনুমতি চায়। তবে এই অনুমতি কিন্তু কোনো বিমান উড়ানোর জন্য চাওয়া হয়নি, আমেরিকার টার্গেট ছিলো ওসামা বিন লাদেন। বুশ সরকার তখন লাদেনকে মারার জন্য মরিয়া হয়ে রয়েছিলো। আমেরিকা চেয়েছিলো পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের উপর দিয়ে আফগানিস্থানে লাদেনের ঘাটিতে টমাহক ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করবে। আর এজন্যই পাকিস্তানের এয়ারস্পেস ব্যাবহারের অনুমতি চেয়েছিলো তারা। হামলার সময় এবং তারিখ জেনে নিয়ে পাকিস্তান আমেরিকাকে এয়ারস্পেস ব্যাবহারের অনুমতি দিয়ে দেয়।

উল্লেখ্য, টমাহক ক্রুজ মিসাইল হচ্ছে আমেরিকার ভান্ডারে থাকা প্রধান ক্রুজ মিসাইল। আমেরিকা এই ক্রুজ মিসাইলটিকেই গনহারে ব্যাবহার করে। টমাহক খুব নিচু দিয়ে উড়তে পারে বলে শত্রু রাডার ফাকি দিয়ে আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়ে শত্রুর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করতে সক্ষম। মিসাইলটি ইন্টারন্যাল এবং স্যাটেলাইট গাইডেন্সের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

এদিকে আমেরিকাকে অনুমতি দিলেও তলে তলে পাকিস্তানের মতলব ছিলো অন্যরকম। বেলুচিস্তান প্রদেশের উপর দিয়ে যে রুট ধরে মিসাইল গুলো গমন করবে, সেদিকে পাকিস্তান বেশ কিছু শক্তিশালী জ্যামিং সিস্টেম বসিয়ে দেয়।

হামলার দিন মার্কিন নেভীর একটি আর্লেজ-বুর্ক ক্লাস ডেস্ট্রয়ার জাহাজ আরব সাগরে দাড়িয়ে থেকে কয়েক ডজন টমাহক ক্রুজ মিসাইল নিক্ষেপ করে। মিসাইলগুলো পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশের উপর দিয়ে উড়ে গিয়ে আফগানিস্থানের ৩ টি স্থানে আঘাত করে। এদিকে আমেরিকা যেন পাকিস্তানের চালবাজি টের না পায় সেজন্য পাকিস্তান বেশিরভাগ মিসাইল গুলোকেই চলে যেতে দেয়। কিন্তু কয়েকটি মিসাইলের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জ্যামার ব্যাবহার করে স্যাটেলাইটের সাথে মিসাইলগুলোর যোগাযোগ ব্যাবস্থা নষ্ট করে দেয়। স্যাটেলাইট গাইডেন্স হারিয়ে উক্ত মিসাইল গুলো অবিষ্ফোরিত অবস্থায় বেলুচিস্তান প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে ভুপাতিত হয়।

আমেরিকা তখনই পাকিস্তানের এই চালবাজি টের পেয়েছিলো কিনা সেটা জানা যায়নি, তবে কয়েক বছর পর ঠিকই টের পেয়েছিলো। কারন এই ঘটনার কয়েক বছর পর পাকিস্তান তাদের নিজস্ব উৎপাদিত 'বাবুর' ক্রুজ মিসাইলের আত্বপ্রকাশ ঘটায় 😛😊

এই ঘটনাটা আমাদেরকে আরেকটি বার্তা প্রদান করে, কেবল আমেরিকাই সবসময় গুটিবাজি করে না, তারাও মাঝে মাঝে উল্টো গুটিবাজির স্বীকার হয়। প্রতিপক্ষের হাতে অত জোড়ালো মিডিয়া কাভারেজ নেই বলে আমেরিকার বাশঁ খাওয়াটা অতটা প্রচার হয়না।

ছবিতে, টমাহক এবং বাবুর ক্রুজ মিসাইল।

© অনির্বাণ