True Story About Titanic - টাইটানিকের সত্য ঘটনা


টাইটানিক ডোবেনি!?

প্রথমেই বলে নিচ্ছি, লেখাটা বড়। আগে মনোযোগ দিয়ে ছবিগুলো দেখুন তারপর লেখাটা শেষ পর্যন্ত ধৈর্য ধরে পড়ুন। তাহলে একটা ধারনা পাবেন, টাইটানিক ট্রাজেডি'র নেপথ্য কিছু ছিল কিনা। পড়ুন, আপনি আরও অজানা কিছু জানতে পারবেন আশাকরি।

প্রথম ছবির জাহাজ’টির নাম একটা বাচ্চা-ও জানে।   
জাহাজ’টির নাম ‘Titanic’, The largest ship afloat at that time, was considered unsinkable 

কিন্তু দুঃখের সাথে বলতে হচ্ছে,     
নিচের জাহাজ’টি আসলে Titanic নয়। এর নাম Olympic, 
Titanic জাহাজের মত হুবহু দেখেত। যমজ।

(নাম মুছে দিলে সে’সময় কেউ ধরতেও পারতো না, কোনটি Titanic, আর কোনটি অলিম্পিক)  
সত্যিটা হলো, Titanic was not “the largest” ship, rather it was ‘one of the largest’ ship ever built at that time. 

কিন্তু গত শতাব্দীর সবচেয়ে আলোচিত জাহাজটি ডুবেছে? নাকি জোর করে ডোবানো হয়েছে?
আর কোন জাহাজটি ডুবেছে? টাইটানিক, নাকি অলিম্পিক?
আর যদি স্যাবোট্যাজ করে ডোবানো হয়ে থাকে, তাহলে কারা এ কাজ করেছে? কেন করেছে? 

একটু পেছন থেকে শুরু করি।   

যারা ‘গ্লোবাল ইকোনোমিক ক্রাইসিস’ নিয়ে হালকা পাতলা অনুসন্ধান করেছেন, তারা সবাই নিশ্চয় জানেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বড়বড় ব্যাংক ও ব্যাংকের কর্ণধার’দের সম্পর্কে।  

JP Morgan, Goldman-Sachs, Morgan-Stanley, এরা হল মার্কিন অর্থনীতি বা মোটা দাগে বললে “সারা-দুনিয়ার অর্থনীতি” নিয়ন্ত্রণের খেলার সবচেয়ে বড় খেলোয়াড়।  
   
এদের তৈরি ব্যাংকগুলো নামকরন করা হয়েছে এদের নিজেদের নামের সাথে মিল রেখে। JP Morgan / Goldman-Sachs /Morgan-Stanley ব্যাংকগুলো মার্কিনমুল্লুকের সবচেয়ে প্রভাবশালী ব্যাংক। 


তো, John Pierpont Morgan (চিত্র-২) পঁয়ষট্টি বছর বয়সে, ১৯০৩ সালে, ইংল্যান্ডের বিখ্যাত শিপিং কোম্পানি “White Star Line” কিনে নেন। কিনে নেবার পেছনে যথেষ্ট কারণ ছিলো।   

সে সময় লক্ষ লক্ষ মানুষ ইউরোপ থেকে ইমিগ্রেন্ট হয়ে “স্বপ্নের-দেশ” আমেরিকা’তে পাড়ি জমাচ্ছিলো। 
সস্তা দামের টিকিটের কারনে ‘White Star Line’ ছিলো সাধারন মানুষের কাছে সবচেয়ে পছন্দের। এখনকার আকাশ পথের Emirates Airline-এর মত। 

কিন্তু উচ্চবিত্ত?

তাদের তো লাক্সারিয়াস কেবিন লাগবে। আলতুফালতু জাহাজে তো তারা উঠবে না। তাদের প্রেস্টিজ নষ্ট হয়ে যাবে না!
    
বাংলাদেশ থেকে জনৈক ধনী ব্যবসায়ী যুক্তরাষ্ট্র যেতে স্বাভাবিকভাবেই British Airways ব্যবহার করবেন। 
ব্যাপারটা ছিলো অনেকটা তেমনই।      
       
‘White Star Line’ কোম্পানির জাহাজগুলো আমজনতার কাছে অনেক জনপ্রিয় ও ভ্রমনের জন্য প্রথম পছন্দ হলেও, উচ্চবিত্তের পছন্দের বাইরে ছিলো। 
যদিও সে সময়ে হোঢাইট স্টার লাইন-এর জাহাজগুলো’তে বেশ ভালোই ফার্স্ট ক্লাস কেবিন এর ব্যবস্থা ছিলো। 
(ব্যাপারটা বাংলাদেশের BRTC বাসের মত। যত আধুনিক বাস’ই তারা আনুক না কেন, উচ্চবিত্ত বেশি পয়সা দিয়ে হলেও GREEN LINE-এর VOLVO বা SCANIA তে উঠবে।
তো JP Morgan সাহেব এই বিশাল লাভজনক শিপিং ব্যবসা’কে আরো জনপ্রিয় করে তোলার উদ্যোগ নিলেন। 

১৯০৭ সালে তিনি Northern Irish Ship Building কোম্পানি, Harland & Wolff-কে দায়িত্ব দিলেন ‘white star line’-এর জন্য তিনটি বিলাসবহুল শিপ বানাতে। 

এই তিনটি জাহাজের নাম হবে যথাক্রমে Olympic, Titanic এবং Britannic 

একেবারে একই সাইজের তিনটি জাহাজ বানিয়ে দুনিয়া’কে তাক লাগিয়ে দেয়া হবে, যা হবে সেই সময়ের বিচারে, যাবৎকালের সর্ববৃহত নির্মিত কোনো ভাসমান বস্তু

এদের ভেতর Titanic আর Olympic হুবহু একি ডিজাইনের যময। (কিছু ইন্টার্নাল ছোটখাটো পার্থক্য ছাড়া। যেটা আমজনতার চোখে পড়ার প্রশ্নই আসে না) 

তো, একই সাথে জাহাজ দু’টো তৈরির কাজ চলতে থাকে নর্দান আয়ারল্যান্ড-এর Belfast শহরে। (চিত্র-৩)  


ওদিকে, ১৯১০ সালে আমেরিকার (Jekyll Island, Georgia)-তে এক গোপন মিটিং আয়োজন করে পর্দার আড়ালে থাকা মার্কিনী মুল্লুকের সবচেয়ে প্রভাবশালী-ক্ষমতাধর লোকজন। 

কিন্তু সাংবাদিকরা সামহাউ ঠিকই খবর পেয়ে যায়। এই সমাবেশে JP Morgan,  Rockefellers Organization এবং Goldman Sachs এর কান্ডারি’রাও ছিলো। সেইসাথে ছিল তাদের Godfather, Rothschild এই মিটিং, দুনিয়ার ভাগ্য বদলে দেয়। Federal Reserve Bank নামের শয়তানী কনসেপ্ট এখানেই তুলে ধরা হয়।  

হা, সেই Federal Reserve ব্যাংকের কথা বলছি যা এখন পুঁজিবাদী দুনিয়ার অর্থনীতি নিয়ন্ত্রন করে।

“Federal Reserve is more of a system and Gateway for world domination” 

এ ব্যাপারে বলে রাখি, It may sound amazing, প্রথম বিশ্বযুদ্ধের প্ল্যান করা হচ্ছিলো সেই ১৮৯০ সাল থেকেই 
যুদ্ধে যাবার জন্য কেবল বড় ধরনের একখানা ইস্যুর দরকার ছিলো। 
ইস্যু তৈরি করা তেমন কঠিন ছিলো না। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছিলো যুদ্ধে আয়-ব্যয়, অর্থাৎ লাভ লোকসানের হিসাব। 

There was no way to finance the war. After all, it would have taken absolute massive amount of money to run a full scale war for a long time.   

সুতরাং ১৯১০ সালের মিটিং-এ তারা একটা পথ বের করল, To create money out of thin air by introducing Federal Reserve Bank concept. 

প্ল্যানটা ছিলো খোদ তাদের নিজেদের দেশ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সরকারের কাছ থেকে ব্যাংকিং সিস্টেম’টা এক রকম চুরি করে নিজেদের কুক্ষিগত করা।  

অর্থাৎ টাকা (Money) তৈরির একটা “New Way” তারা introduce করবে, 
যা হবে বেসরকারি মালিকানায়। 

After all, when you introduce a way of creating money into the system which is not done by the government, rather it’s done by the private interest, then every currency, which come into circulation, has a portion of “interest” (সুদ) attached to it, which is owned to the bankers.       

বাংলাদেশের পেক্ষাপটে চিন্তা করলে ব্যাপারটা অনেকটা এমন শোনাবে যে আপনি “বাংলাদেশ ব্যাংক” আগামীকাল সকালে কিনে নিলেন। 
যা কিনা এদেশের central ব্যাংক অতঃপর আগামীকাল দুপুর থেকে আপনি বাংলাদেশের টাকা’র নোট (currency) বানানো শুরু করলেন, 
এজন্য নয় যে বাংলাদেশ সরকার আপনাকে টাকা বানাতে বলেছে বা আপনার কাছে টাকা চেয়েছে, বরং as a private organization, নিজের মনের মাধুরি মিশিয়ে, যা মন চায়, যত খুশি মনে চায়, টাকা আপনি বানাবেন, অতঃপর সরকার’কে লোন দেবেন believe it or not (কারন এখন আর টাকার মালিক সরকার নয়, টাকার মালিক আপনি। অর্থাৎ বাংলাদেশে যত টাকার নোট আছে, সবগুলো আপনি own করেন, 
তাতে আপনার নাম লিখা থাকে)। যেখানেই লোন, সেখানেই interest (সুদ) সরকার তখন প্রতিটি টাকার জন্য আপনাকে interest দিতে বাধ্য। 
ইয়েস, ঠিকই শুনেছেন। সরকারই আপনাকে সুদ সহ আসল ফিরিয়ে দিতে বাধ্য। Believe it or not 

আমাদের ভাগ্য ভালো, বাংলাদেশ ব্যাংক এখনো সরকারের হাতে আছে। 
কোনো মহান সন্ন্যাসী বা “দরবেশ বাবা” এখনো এটা’কে বগলদাবা করতে পারে নি। একারনে আমাদের সরকারের ঋণ কম।  

ওদিকে JP Morgan-এর মত মানুষ’দের কল্যানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল ব্যাংক তথা Federal Reserve Bank একটা বেসরকারি ব্যাংক। সেই ১৯১৩ সাল থেকে। যেসব ডলার নোট আপনি চোখের সামনে দেখেন সবই বেসরকারি। তার উপর লিখা Federal Reserve, 
অর্থাৎ এটা Federal Reserve এর সম্পত্তি, মার্কিন সরকার’কে এর জন্য সুদ দিতে হবে। [after all, money = debt]

মার্কিন সরকারের আকাশ সমান ঋণের মুল কারন আসলে এটিই। Inflation এর মুল কারনও আসলে এটাই।   

তো, ১৯১০ সালেই Federal Reserve করতে চেয়েছিলেন JP Morgan-এর মত স্বার্থবাদী ক্ষমতাধর লোকজন। কিন্তু তখন এটা সম্ভব হয় নি।  না হবার মুল কারন- এর বিরোধীতাকারীরা।
ভাবছেন, বিরোধীতা করেছিলো আমজনতা? যারা কিনা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হবে। 

কিন্তু না।        

পত্র পত্রিকা’তে খবরটি ছাপা হয়েছিলো। কিন্তু আমজনতা স্বাভাবিকভাবেই এসব কিছুই বোঝে না। আমজনতা রাজনীতি, সমাজনীতি, ধর্ম-কর্ম নিয়ে বিস্তর ফটর ফটর করতে পারে, কিন্তু অর্থনীতি বিষয়টি এড়িয়ে যায়। 
এটা তারা কিছু বোঝে না, বুঝতেও চায় না, বুঝতে চেষ্টাও করে না। উদাহরণ হিসেবে আমাদের দেশের রিসেন্ট শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির কথা চিন্তা করেন। সবাই জানে, শেয়ার বাজারে বিশাল অন্যায় কিছু, খারাপ কিছু হয়েছে। কিন্তু কী হয়েছে? কিভাবে হয়েছে? কেন হয়েছে? কে করেছে? এসব খুব কম মানুষ ভালোমত জানে বা বোঝে। 

সাংবাদিকরা বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদগনের কাছে মাইক্রোফোন ধরেন 
আর তারা অর্থনীতির বিবিধ জটিল টার্ম ইউজ করে ব্যাপারটি এনালাইসিস করেন। স্বাভাবিকভাবে অর্থনীতির ছাত্র ব্যাতিত আমজনতা তার কিছুই বোঝে না। 

মার্কিন Ford Car কোম্পানির মালিক,
Henry Ford রসিকতা করে একটা কথা বলতেন,
“It is well enough that people do not understand our banking and money system. Because if they did, I believe there would be a revolution before tomorrow morning”

তো, ১৯১০ সালে Federal Reserve Concept বিরোধীতা করেছিলো যারা, তারা হল John Jacob Astor ,Benjamin Guggenheim and Isador Strauss 

এরা তিনজন ছিলো সেই সময়ের Top three richest people in the World. এরা তিনজনই ছিলেন Industrialist, অর্থাৎ ব্যবসায়ী। অনেকটা একালের বিল গেইটস, জেফ বেজোসের মত। But not like, Warren Buffet, যারা টাকা দিয়ে টাকা বানান। অর্থাৎ Finance related ধান্দা করে। 

তো, এই তিনজন ধনী ব্যক্তি বিরোধীতা করেছিলো কারন যেকোনো ধরনের Inflation তাদের Production and Market নির্ভর ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর। 

সর্বপরি, ঐ যে বললাম, এদের ব্যবসা ছিলো বিল গেইটসের মত। 
JP Morgan সাহেব’দের মত টাকা দিয়ে টাকা বানানোর ধান্দা এদের ছিলো না। তো, ১৯১১ সালের ১৪ই জুন তিনটি জাহাজের প্রথমটি, অর্থাৎ Olympic যাত্রা শুরু করল। প্রথম যাত্রা সুখকর ছিল না। একখানা বিশাল মার্কিন Tug boat-কে ধাক্কা দিয়ে একরকম ডুবিয়ে দিয়েছিলো। সেপ্টেম্বর মাসে Royal Navy Cruiser HMS Hawke-এর সাথে ভয়াবহ ধাক্কা খেলো। বেশ ভালো রকমের ক্ষতি হয়েছিলো অলিম্পিকের। (চিত্র-4)


ব্রিটিশ Navy এই দুর্ঘটনার তদন্ত করে এবং অলিম্পিক জাহাজের ক্রু’দের দুর্ঘটনার জন্য দোষী সাব্যস্ত করে। ফলসরুপ অলিম্পিক জাহাজের জন্য করা মিলিয়ন পাউন্ডের ইন্স্যুরেন্স বাতিল হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে বলি, তিনটি জাহাজের প্রতিটিরই ইন্স্যুরেন্সইন্স্যুরেন্স করা ছিলো। Insurer ছিলো Lloyds Bank of London. তো, ইনস্যুরেন্স ছাড়া যদি Olympic জাহাজ’টিকে মেরামত করতে হয়,  তাহলে White Star Line একেবারে দেউলিয়া হয়ে যাবে। বিশাল অংকের টাকা তারা ইতিমধ্যে ব্যয় করেছে জাহাজ তৈরির কাজে। এক পয়সা লাভ না গুনেই বজ্জাৎ জাহাজ’খানা গেলো নষ্ট হয়ে। White Star Line-এর মাথায় হাত
তাদের সামনে তখন দুটি পথ:

হয় Olympic জাহাজটিকে Scrap বানানো, অর্থাৎ ভেঙ্গে চুড়ে Recycle 
অথবা Patch-Up করা। অর্থাৎ জোড়াতালি মারা। কিন্তু জোড়াতালি'র কাজ শেষ করতে ৭ সপ্তাহ লাগবে। এই লেভেলের জাহাজ এতোদিন কাজের বাইরে থাকা মানেও বিশাল ক্ষতি। তার উপর জোড়াতালি করাটাও যথেষ্ট ব্যয়বহুল হবে। সর্বপরি, জনাব JP Morgan তার বিনিয়োগ-এর খুব দ্রুত রিটার্ন চান।

এখন কী আর করা!!  

নিরুপায় হয়ে Patch-Up করা হলো Belfast-এ নিয়ে গিয়ে। 
সেই সাথে Titanic নির্মাণ কাজ দ্রুত কমপ্লিট করার দিকে নজর দিতে বলা হল। যাতে ১৯১২ সাল থেকে একসাথে দুটি জাহাজ সার্ভিস দিতে পারে। দ্রুত রেভিনিয়্যূ তুলে আনতে পারে। 

বিলিভ ইট অর নট, 1912 সালের জানুয়ারি নাগাদ তড়িঘড়ি করে মেরামত কাজ শেষ হবার পর আবার একটা একসিডেন্ট করে বসলো Olympic জাহাজ। এবার তার একখানা Propeller নষ্ট হয়ে গেলো (চিত্র-৫)।


ফলে আবার তাকে Belfast-এ পাঠানো হলো মেরামতের জন্য। 
এখানেই আবারও টাইটানিক আর অলিম্পিক জাহাজ দুটোকে একসাথে ফোটোগ্রাফ করা হয়। টাইটানিক জাহাজের নির্মাণ কাজ তখন প্রায় শেষ। (চিত্র-৬) 


সম্ভবত এখানেই দুটো জাহাজ’কে সুইচ করা হয়। অন্তত কন্সপায়ারেন্সি বিশেষজ্ঞরা তেমনটি মনে করে। কিছু প্রমান না হয় আপনিই দেখুন। যেমন-

অলিম্পিক জাহাজের সম্মুখভাগের C Deck-এ ১৬ টা Bow porthole ছিলো, আর টাইটানিকের ছিলো ১৪ টা (According to Harland & Wolff Records) (চিত্র-৭,৮) 


মজার ব্যাপার হলো, Titanic জাহাজের Maiden voyage-এর যতগুলো ফটো তুলেছিলেন সেই সময়ের সাংবাদিকরা, সবগুলোতে দেখা যায়, টাইটানিক জাহাজের Porthole আছে ১৬টি (কীভাবে সম্ভব?) (চিত্র-৯)


পেছনের অংশের E deck টি Olympic এর Open type আর টাইটানিকের Enclosed type 

এছাড়া জানালার বিন্যাসগুলো কিছুটা ভিন্ন। এক জানলার সাথে পাশের জানলার Spacing টা অলিম্পিকে ইউনিফর্ম। (চিত্র-১০)  


সেই হিসেবে, Titanic জাহাজের Maiden Voyage-এর সবগুলো তোলা ছবি দেখলে যে কেউ বুঝবে, এটা অলিম্পিক জাহাজ। 

ওই যে বলেছিলাম, অলিম্পিক জাহাজের তিনটি Propeller-এর মধ্যে একখানা নষ্ট হয়ে গেছিলো, According to H&W Archive, 
ওটা রিপ্লেস করা হয়েছিলো Marked 401 number Propeller দিয়ে।
H&W কোম্পানির সবগুলো Propeller-কে এভাবেই Marking করা হত। 

মজার ব্যাপার হল, সমুদ্রের তলে টাইটানিক জাহাজের যে ধ্বংসস্তুপ আছে, তার তিনটি  Propeller-এর মধ্যে একটিতে স্পষ্ট Marking করা, 401  (চিত্র-১১, ১২) 

  
অলিম্পিক জাহাজটি  একসিডেন্ট করার কারনে তার সম্মুখভাগের নিচের অংশে Permanent scratch পড়েছিলো। 
(চিত্র- ১৩) 


মজার ব্যাপার হলো, টাইটানিকের Maiden Voyage-এর যে ছবিটা সারাদুনিয়ার পত্রপত্রিকাতে তখন ছাপানো হয়, সবগুলোতেই নিচের দিকে একই রকমের Scratch দেখা যায়। কিন্তু টাইটাইটানিকে তো Scratch থাকার কথা না। হাজার হোক, এটা তার Maiden Voyage. এছাড়া আরো অনেক অনেক অসামঞ্জস্যতা আছে। 


১৯৮৬ সালে Robert Ballard নামের এক মার্কিন নেভি অফিসার সাগরের তলদেশে Titanic জাহাজের ধ্বংসাবশেষ আবিষ্কার করেন।
এর পর থেকেই এসব নিয়ে বিস্তর গবেষণা শুরু হয়। আগেই বলেছিলাম, অলিম্পিক জাহাজ একসিডেন্ট করার পর তাতে জোড়াতালি দেয়া হয়েছিলো। Patch-Up করা হয়েছিলো মুলত নিচের অংশের ভেতরের দিক থেকে। যাতে বাইরে থেকে দেখতে খারাপ না লাগে, বোঝা না যায়। টাইটানিকের জাহাজের ধ্বংসাবশেষের পর্যবেক্ষণ করে তার নিচের দিকের অংশে জোড়াতালি বা ঝালাই পেটাই করার আলামত দেখা যায়। এগুলো মূলত ছিলো এভিডেন্স। এবার আবার Facts-এ ফেরা যাক।  

১০ই এপ্রিল টাইটানিকের Maiden Voyage  
JP Morgan এবং White Star Line সারা দুনিয়াতে, বিশেষ করে ইউরোপে, টাইটানিক জাহাজের Maiden Voyage-এর publicity করে।
(চিত্র -14 এ দেখছেন Titanic জাহাজের পোস্টার)  


পোস্টারে যা লিখা, তার সোজা বাংলা হল, দুনিয়ার সবচেয়ে বড় জাহাজ এটি। উঠতে চাইলে টিকিট কাটুন। 

কী? খটকা লাগছে?

একবছর আগে তো অলিম্পিক জাহাজ যাত্রা করেছে। সেই সময় তো এতো পাবলিসিটি হয় নি। অলিম্পিকে যারা উঠেছিলো, তারা তো টেরও পায় নি, এটা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় জাহাজ!!  তাহলে টাইটানিকের বেলায় এতো ঢাক-ঢোল পেটানো হল কেন?

এখানে একটা ব্যাপার সবাইকে খেয়াল রাখতে বলি। তখন ১৯১২ সাল। সুতরাং সেই সময়ের প্রচারমাধ্যম, সাংবাদিকতা, সর্বোপরি ক্যামেরার বিষয়টি মাথায় নিয়ে ব্যাপারগুলো চিন্তা করবেন। সে সময় নিশ্চয় Investigation Journalism ব্যাপারটা একালের মত ছিলো না। আমজনতা দুনিয়ার ব্যাপার-স্যাপার খুব কমই জানতো। যে টাইটানিকের Maiden Voyage হবার কথা ২১শে মার্চ, সেটা হঠাৎ পেছানো হল কেন? পিছিয়ে ১০ই এপ্রিল কেন করা হল? এখানেই ঘাপলা। এসময় জনাব JP Morgan ছিলেন ইউরোপ ট্যুরে। তিনি কোনো এক অজুহাতে John Jacob Astor, Benjamin Guggenheim and Isador Strauss-কে রাজি করিয়েছিলেন, তার সাথেই টাইটানিকের টিকিট কাটতে। তারা তিনজন তখন মনের আনন্দেই টিকিট কেটেছিলেন। হাজার হোক, এটা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় জাহাজ। সেই সাথে খুব স্পেসিফিক করে বলা হচ্ছে, এটা নাকি Unsinkable (ঘাপলাটা খেয়াল করেন) সেই সাথে খোদ JP Morgan নিজেও যাচ্ছেন তাদের সাথে। 
তো, ১৯১২ সালেই ১০ই এপ্রিল দুনিয়ার এই শীর্ষ তিন ধনী টাইটানিক জাহাজে আরোহন করেন। মজার ব্যাপার হলো, জনাব JP Morgan সাহেব সেদিন অসুস্থ অনুভব করেন। তিনি একেবারে শেষ মুহূর্তে যাত্রা বাতিল করেন। অথচ তিনি যাবেন বলেই ওই তিনজন টিকিট কেটেছিল। শুধু JP Morgan একা নয়, তার JP Morgan কোম্পানির সব কর্মকর্তারা সেদিন অসুস্থ হয়ে পড়েন। প্রায় ৫০ জন শেষ মুহূর্তে যাত্রা বাতিল করে। এটা মনে হয় দুনিয়ার সবচেয়ে Lame coincidence.

একবার লক্ষ করুণ, ব্যাপক পাবলিসিটি করার কারনে অনেক মানুষ টিকিট কিনেছে। বিশেষ করে 2nd & 3rd ক্লাস টিকিট সস্তা এবং পরিমানে বেশি হবার কারনে অনেক আমজনতা টিকিট কেটেছে। যাদের অধিকাংশ একেবারে গরীব। সেই সাথে জাহাজের আছে Federal Reserve Bank বিরোধী শীর্ষ তিন ধনী। সুতরাং জাহাজটি ডুবলে মনে হয় না কেউ তেমন একটা সন্দেহ করবে। প্রশ্ন তুলবে। ওদিকে টাইটানিক জাহাজের ক্যাপ্টেন করা হয়েছে Edward J Smith- কে। Believe it or not, তিনি ছিলেন অলিম্পিক জাহাজের ক্যাপ্টেন।

অলিম্পিক জাহাজের তিনটি দুর্ঘটনার জন্যই এই মহামানব’কে দায়ী করা হয়েছিলো। খোদ ব্রিটিশ নেভী ভদ্রলোকের ক্যাপ্টেনগিরি করার যোগ্যতা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছিলো। এমন একজন লোক’কে ক্যাপ্টেন বানিয়ে সেই জাহাজের JP Morgan নিজে উঠবেন, এতো পাগল, মনে হয় সে না! (ওই জন্যেই মনে হয় ১০ই এপ্রিল বেটা অসুস্থ ছিলো। পেট খারাপ করেছিলো তার)

ওদিকে, টাইটানিকের চিফ অফিসার Henry Wilde জাহাজ ছাড়ার ঠিক আগে তার বোন’কে চিঠিতে লিখেছিলেন, “I still don’t like this ship”

কথার টোণ খেয়াল করুণ। “I still…. “  (এটা না টাইটানিকের Maiden Voyage?) 

Henry Wilde-এর বোন ছিলেন আগের বছরের Olympic জাহাজের Maiden Voyage-এর 1st class প্যাসেঞ্জার (এবার মিলিয়ে নিন) 
আরো একটা ব্যাপার অবাক করার মত, কোনো পাবলিসিটি ছাড়াই
অলিম্পিক জাহাজের প্রথম যাত্রায় তা ছিলো ভর্তি। অথচ এতো প্রচারের পরও টাইটানিক জাহাজ ছিলো অর্ধেক ভর্তি। সব 2nd & 3rd class টিকিট বিক্রি করা হলেও বিলাসবহুল জাহাজের সবচেয়ে লাভজনক First class সীটের টিকিট বিক্রি করা হয়েছিলো মাত্র অল্পকিছু। 

আর অল্পকিছু first class টিকিট JP Morgan সাহেব বেছে বেছে কিছু এলিট মানুষের কাছে বিক্রি করেছিলেন। কিন্তু অদ্ভুত ব্যাপার হলো, কাগজ-কলম নিয়ে হিসাব করলে দেখা যায়, এসব ২০-২৫ জন এলিট যাত্রীর যে কেউ মরলেই JP Morgan সাহেবের কোনো না কোনো দিক দিয়ে লাভ হয়।

যাই হোক, অর্ধেকেরও বেশি 1st class সীট খালি ছিলো। 
আর JP Morgan সাহেব’কে তার বৌ’য়ের সাথে সেদিন France –এর সবচেয়ে বড় জুয়েলারি দোকানে কেনাকাটা করতে দেখা যায়।
(it is documented, by the way)  (কিন্তু তিনি না অসুস্থ?) 

এবার আসি, সেই বিখ্যাত আইসবার্গের সাথে ধাক্কাধাক্কীর প্রসঙ্গে। (চিত্র -১৫, এটিই সেই বিখ্যাত আইসবার্গ) 


ধরুন, ঢাকা থেকে চট্রগ্রাম যাবার পথে আপনার GREENLINE বাস খারাপ হয়ে গেলো। এবার আপনি কী করবেন? সব যাত্রীর সাথে রাস্তায় নেমে, আসতে থাকা নেক্সট GREENLINE বাস থামাবেন। তাই না?  

সাগরেও ঠিক এমনটি হয়। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে জাহাজ রুটের নিকটবর্তী জাহাজে Morse Code দিয়ে সিগনাল পাঠানো হয়। 

তো, টাইটানিক ছাড়ার ঠিক ৫ দিন আগে, অর্থাৎ ৫ই এপ্রিল SS Californian নামের মাঝারি একখানা জাহাজ একই রুটে যাত্রা শুরু করে।

মজার ব্যাপারটি হলো, তাতে কোনো যাত্রী ছিলো না, কার্গো ছিলো না।
কিছুই ছিলো না। ফাকা জাহাজ ফাউ ফাউ বিলেত থেকে আমেরিকা যাচ্ছিলো।

Sorry, sorry
জাহাজটি আসলে একেবারে খালি ছিলো না। SS Californian-তে অল্প কিছু মালামাল নেয়া হয়েছিলো।

তা হল, তিন হাজার Sweaters  এবং তিন হাজার Blankets

(আম্রিকা’তে ব্রিটিশ’দের কোনো গরম কাপড়ের ব্যবসা আছে বলে মনে হয় না। তাহলে এগুলো কী জন্য?
কার জন্য? কীসের জন্য?)

নাকি তারা আগে থেকেই জানে, 
টাইটানিক নামক বিশাল একখানা জাহাজ আইসবার্গে গুতা খেয়ে ডুবে যাবে, আর তাতে আরোহী মানুষদের বাঁচাতে SS Californian-কে ছুটে যেতে হবে!! 
সুতরাং, এসব মানুষের জন্যে আগে থেকেই সোয়েটার, ব্লাংকেট নিয়ে যেতে হচ্ছে 

এবার কিছু অদ্ভুত কাহিনী শুনুন। 
এগুলো সবই ডকুমেন্টেড

১০ই এপ্রিল যাত্রা শুরু করে 14th April, 1912, রাতে টাইটানিক ডুবে যায়। 

ওদিকে ১২ই এপ্রিল থেকেই SS Californian অ্যাটলান্টিক মহাসাগরের 
একবিশাল Ice field-এর সামনে আটকে আছে। সামনে শুধুই ice berg, সামনে যাবার কোনো উপায় নেই। 

SS Californian জাহাজের ক্যাপ্টেন Stanley Lord জাহাজটিকে স্ট্যান্ডবাই করে রেখেছেন। 

এখন নিয়ম হল, Captain Lord তার নিকটবর্তী, এমনকী দূরবর্তী যত জাহাজ আছে, সবগুলোকে এই রুট এড়িয়ে চলার আগাম বার্তা পাঠাবেন। 

তিনি তা পাঠিয়েছিলেন। ১৩ থেকে ১৪ই এপ্রিল, এই দুদিনে মোট ৬ খানা পাবলিক এবং ৩ খানা প্রাইভেট বার্তা আদান প্রদান হয় Captain Lord ও টাইটানিকের ক্যাপ্টেন Edward Smith এর মাঝে। 
(চিত্র-১৬ তে দেখছেন, এক্সাক্ট যে স্থানে টাইটানিক ডুবে গেছিলো) 


শুনলে অবাক হবেন, টাইটানিক জাহাজ যদি নিয়ম অনুসারে হোয়াইট স্টার লাইন কোম্পানির জন্য নির্দিষ্ট জাহাজ রুট ব্যবহার করতো, তাহলে আইসবার্গের সাথে ধাক্কা খাবার কোনো সুযোগই ছিলো না। অথচ কোনো এক অজানা কারনে 13th April Captain Smith টাইটানিক জাহাজের রুট পরিবর্তন করেন। মাত্র ১৬০ কি.মি এগোতেই সোজা গিয়ে ধাক্কা খান আইসবার্গের সাথে আর তার মাত্র ১৫ কি.মি. দূরে দাড়িয়ে ছিলো SS Californian (মজার ব্যাপার হলো, SS Californian কিন্তু White star line কোম্পানির জাহাজ নয়)

ব্যাপারটা এমন যে, আপনার একবন্ধু ফোন দিয়ে বলল, মতিঝিল এলাকায় পিকেটাররা পেট্রোল বোমা ছুড়ছে, গাড়ি ভাংচুর করছে। এই শুনে, দ্রুত আপনি সদ্য কেনা BMW গাড়ি নিয়ে মতিঝিল চলে গেলেন!
কী? যাবেন না?

Captain Smith ঠিক তেমন কাজই করেছিলেন।

১৪ই এপ্রিল রাত ১১টা ৪২ মিনিটে টাইটানিক আইসবার্গের সাথে ধাক্কা খায়। 

ধাক্কা খাওয়ার সাথে সাথেই আকাশে বিশেষ আতশবাজি ফুটিয়ে, সিগ্নাল দিয়ে, Morse Code দিয়ে সংকেত পাঠিয়ে আশেপাশের জাহাজ’কে দুর্ঘটনার কথা জানান দেয়। 

SS Californian জাহাজের Captain Lord এসময় ফুল ড্রেসআপ অবস্থায় সোফার উপর শুয়ে ছিলেন। তার ক্রু’রা বিপদ সংকেত (আতশবাজি) দেখে ক্যাপ্টেন Lord-কে বললে, তিনি আমলেই নেন নি। 

তিনি ভেবেছিলেন, এগুলো জেলে’দের ছোড়া আতশবাজী। 
শীল মাছ শিকারের জন্য জেলেরা আকাশে সাদা আতশবাজি ফোটায়। এতে বরফের উপর বসে থাকা শীল মাছগুলো আইডেন্টিফাই করা যায়। (ক্যাপ্টেন Lord এতটা নিশ্চিত কিভাবে হলেন? অনেক কন্সপাইরেসি  বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ওইদিন আসলে ক্যাপ্টেন লর্ড বসে ছিলেন কখন তার কাছে টাইটানিক আসবে। এরপর সাথে থাকা জার্মান U-boat দিয়ে টর্পেডো মেরে জাহাজটিকে ডোবানো হবে। অতঃপর আমজনতাকে উদ্ধার করা হবে, কিন্তু ওই দিন ধনুকুব’কে নিশ্চিত মারতে হবে। জাহাজখানা ডুবে যাবে। সেই সাথে তিনজন ধনুকুব ও আরো কিছু এলিট মানুষজন। এই ছিল হিসাব-নিকাশ। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে, তার আগেই কাকতালীয়ভাবে টাইটানিক’কে উপর ওয়ালা নিজেই ডুবিয়ে দেন)  

এ প্রসঙ্গে বলি, জার্মান সরকারে সাথে JP Morgan সাহেবের অনেক ভালো সম্পর্ক ছিলো। তো, আইসবার্গের সাথে ধাক্কা লাগার ২ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর বিখ্যাত টাইটানিক জাহাজ ডুবে যায়। 

SS Californian যদি খবর পাওয়া মাত্র উদ্ধার কাজে আসতো, 
তাহলে একটা মানুষও মরতো না। মাত্র ২০ মিনিট সময় লাগতো তার একসিডেন্ট স্পট-এ আসতে। অথচ কোনো এক অজানা কারনে, ইন্জিন চালু অবস্থায় SS Californian দাড়িয়ে ছিলো। টাইটানিক ডোবার এক ঘণ্টা চল্লিশ মিনিট পর, ভোর চারটার দিকে RMS Carpathia নামের অন্য একটি জাহাজ এসে life boat-এ ওঠার কারনে বেঁচে যাওয়া সৌভাগ্যবান মানুষগুলোকে উদ্ধার করে। 

এসব মানুষরা আমেরিকা যায়। 
সারা দুনিয়ার পত্রপত্রিকাতে টাইটানিক ডোবার কথা প্রচার হয়।
মার্কিন ও ব্রিটিশ সরকার তদন্তে নামে। জীবিত সবার বক্তব্য নেয়া হয়।

সেই সাথে White Star  Line-এর কর্মকর্তা ও ম্যানেজমেন্টের লোকেদের সাক্ষাৎকার নেয়া হয়।

বৃটিশ তদন্ত টিম-এর সাথে White Star Line-এর ডিরেক্টর, Harold Sanderson ভুল বশত: বারবার টাইটানিকের জায়গায় “অলিম্পিক” বলে ফেলছিলেন। তার উকিল আবার তাকে সংশোধন করে দিচ্ছিলেন, পাশে বসে বসে। Documented 12 বার তিনি এই ভুল করেন। কিছুটা আজব, বিশেষ করে এতো বড় কোম্পানির ডিরেক্টর বলে কথা। 

তো তদন্তকাল প্রথমদিকে পাবলিক থাকলেও কোনো এক অজানা কারনে তার ভেতর সিক্রেসি ভাব চলে আসে। বিশেষ করে, বেঁচে যাওয়া সব মানুষদের’কে নতুন কাজের বিনিময়ে Official secrecy act সাইন করানো হয়। বেঁচে যাওয়া ক্রু’দের দূর দূরান্তে বদলি করে দেয়া হয়।  
যাই হোক, ব্যাপারটা একসময় পলিটিকাল হয়ে যায়। বাংলাদেশের সিস্টেমটাই দেখুন, যৌক্তিক সাধারন আন্দোলন একসময় পলিটিক্যাল রুপ নেয় আর পলিটিক্যালি হ্যান্ডেল করা হয়। বৃটিশ সরকার দেখলো, হোয়াইট স্টার লাইন যদি দেউলিয়া হয়ে যায়, তাহলে H&W ও একই সাথে দেউলিয়া হয়ে যাবে। ৫০ হাজার মানুষ বেকার হয়ে যাবে। আর তখন চলে নির্বাচন ক্যাম্পেইন। তো উভয় বৃটিশ এবং আমেরিকা সরকার JP Morgan সাহেবের পক্ষ নিলো। WSL-এর পক্ষ নিলো। 
যে করেই হোক, কোম্পানিটাকে বাঁচাতে হবে। যেহেতু টাইটানিক জাহাজটি ডুবেছে আর সেটার ইন্স্যুরেন্স অক্ষত ছিলো, সেহেতু বৃটিশ সরকারের নমনীয়তার কারনে ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি অতিদ্রুত ইনস্যুরেন্সের টাকা দিয়ে দিলো।

এবার খেয়াল করুণ, একসিডেন্ট-এর কারনে আগের বছর অলিম্পিক জাহাজের ইনস্যুরেন্স বাতিল হয়ে গিয়েছিলো। কিন্তু টাইটানিক জাহাজের সেই আমলের 1.8 million ডলারের ইনস্যুরেন্স অক্ষত ছিল।
মজার ব্যাপার হলো, Maiden Voyage এর ঠিক ১০ দিন আগে JP Morgan সাহেব টাইটানিকের ইনস্যুরেন্সের টাকার অংক বাড়িয়ে 3.2 million ডলার করে নেন।

এজন্যেই বলা হয়, JP Morgan ১ঢিলে ১০ পাখি মেরেছিলেন। 
Federal Reserve Bank বিরোধীরা সবাই এখন পানির তলে। 

১৯১৩ সালে Federal Reserve Bank গঠিত হল। ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হল একেবারে ফালতু থেকে ফালতুতম এক অজুহাত দিয়ে। 

White Star Line ইনস্যুরেন্সের টাকায় আবার নব জীবন ফিরে পেলো। তাদের অন্য জাহাজ, সেটা টাইটানিক হোক বা Olympic হোক, নাম একটা হলেই হল, আরাম’ছে সার্ভিস দিয়ে গেলো।
রেভিনিউ দিয়ে গেলো আর কোনো ধরনের ঝামেলা ছাড়া, 1935 সাল পর্যন্ত! শেষ একটা চমকপ্রদ তথ্য শেয়ার করি। শুরুতেই বলেছিলাম, ১৯০৩ সালে JP Morgan সাহেব White Star Line কিনেছিলেন। টাইটানিক বা অলিম্পিকের মত জাহাজ তৈরির আইডিয়া তার মাথায় এমনি এমনি আসে নি। তার প্রিয় লেখক ছিলেন, Morgan Robertson (1861 –1915). ১৮৯৮ সালে তার একটি বই প্রকাশিত হয়। The Wreck of Titan সেখানে Titan নামের এক কাল্পনিক জাহাজের কাহিনী ছিলো।
যা দুনিয়ার সবচেয়ে বড় জাহাজ। এবং অ্যাটলান্টিকে আইসবার্গের সাথে ধাক্কা লেগে ডুবে যায়। (বিলিভ ইট অর নট) বইটির মলাট দেখুন চিত্র-১৭ তে) 


The Wreck of Titan বইয়ে যে কাহিনি ছিল হুবহু একই পরিনতি হয় টাইটানিক জাহাজের -এই নিয়ে আমি আরেকটি লেখা লিখেছিলাম। দেখুন এই লিংকে→https://m.facebook.com/story.php?story_fbid=2801937589836250&id=100000601091752

Titan নামক সেই কাল্পনিক জাহাজের কাহিনী জনাব JP Morgan সামহাউ বাস্তবে পরিনত করতে সফল হয়েছিলেন
(ব্যাপারটা খেয়াল করুণ। বইটি লিখা হয়েছিলো সেই ১৮৯৮ সালে) 

Morgan Robertson নামের এই মার্কিন লেখক শুধু একটি নয়, 
আরো বেশ কিছু সিরিজ উপন্যাস লিখেছিলেন, বিশাল জাহাজডুবির কাহিনী নির্ভর। আরো একটা মজার ব্যাপার হলো, 
এ যুগের মানুষ, অর্থাৎ আমাদের টাইটানিক জাহাজ রিলেটেড ধারনাগুলো তৈরি হয়েছে James Cameron-এর ব্লকবাস্টার হিট ছবি ‘Titanic” দিয়ে। ঠিক তেমনি জেমস ক্যামেরন’দের যুগের মানুষের ধারনা তৈরি হয়েছিলো একটা বই পড়ে। ডকুমেন্টারি টাইপের বইটির নাম ‘A Night to Remember” লিখেছিলেন Walter Lord. Walter Lord সাহেব একজন ex-CIA এজেন্ট। তাকে অনেকে CIA paid রাইটার হিসেবে অপবাদ দিয়ে থাকেন। যাই হোক, এতো বড় লিখা পড়ার জন্য ধন্যবাদ। ভালো লাগলে শেয়ার করবেন। আপনি জানলেন, আপনার বন্ধুরও জানার অধিকার আছে। 


আমার কাছে টাইটানিক ডুবলো, 
নাকী অলিম্পিক ডুবলো,
এটা কোনো বিবেচ্য বিষয় ছিলো না। 



আপনি যখন GREENLINE বাস
অথবা Emirates Airline এর টিকিট কাটেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই কত নম্বর প্লেটওয়ালা বাস, বা কত নম্বর প্লেন, এসব নিশ্চয় খেয়াল করেন না। 
টাইটানিক আর অলিম্পিক হুবহু  একই জিনিস। নাম মুছে যেটা লিখবেন, সেটাই হয়ে যাবে। কিন্তু ব্যাপারটা Relevant হয়ে দাড়ায় তখন, যখন দেখি এর সাথে এতো কিছু, এতো ফাউল প্লে জড়িয়ে আছে। 
তখন মনে হয়, টাইটানিক আর অলিম্পিক অনেক আলাদা জিনিস। দিনশেষে একটা জাহাজ ডুবেছে, এটাই সত্য। সেটা White Star Line এর একই রকম সাইজের টুইন জাহাজের যেটাই হোক। কিন্তু এতো সাধারন মানুষ মারা গেছে, সেটাই আসল বিষয়। 

মুভি’তে ঠিক যেমনভাবে দেখিয়েছে। হয়ত কোনো মা তার বাচ্চা’কে বুকে জড়িয়ে গল্প করতে করতেই পানির তলে চলে গেছে। হয়ত কোনো প্রেমিক প্রেমিকা ভয় দূর করতে শেষ বারের মত চোখ বন্ধ করে দুজন দুজন’কে শক্ত করে জড়িয়ে ধরেছে। বুঝতেও পারি নি, কখন তারা হারিয়ে গেছে সাগরের গর্ভে। হয়ত কোনো স্বামী চোখে অশ্রু নিয়ে তার প্রিয়তমা স্ত্রীর চোখে চোখ রেখে শেষবারের মত বলেছে, আমি তোমাকে ভালোবাসি। কাল যেখানেই থাকি না কেন, তোমাকেই ভালবাসবো। এই ব্যাপারগুলোই আসল। এগুলোই কষ্টের। এগুলোই সেদিন অ্যাটলান্টিকে গর্ভে হারিয়ে গেছে।


[তথ্যসূত্র: গুগল, ইউটিউব, অনলাইন পোর্টাল, ডকুমেন্টারি]

লেখা স্বত্ত্ব: Faisal Sovon. 
04 Jan 2014

সংযোজন পরিমার্জন: 𝐌𝐝. 𝐙𝐞𝐚𝐝
21 Oct 2019

Popular posts from this blog

তারিম মমির ইতিহাস

AMP ওয়েবসাইট কি? কীভাবে কাজ করে? কীভাবে একটি AMP ওয়েবসাইট তৈরি করবেন?