Home Blog Page 23

একজন আদর্শ শিক্ষাগুরুর গল্প

0

আমাদের সাইটে সবসময় বিভিন্ন বিষয়ের উপর টিপস এবং ট্রিকস দেওয়া হয়। আজকে এসবের বাইরে আমি আপনাদের সাথে শেয়ার করবো একটা শিক্ষণীয় গল্প। আজকে এই শিক্ষণীয় গল্পের নাম হচ্ছে “একজন আদর্শ শিক্ষাগুরুর গল্প“। এই গল্পটি প্রাথমিক শিক্ষা তথ্যের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। আর কথা না বাড়িয়ে চলুুুন শুরু করি।

এক বিয়ের অনুষ্ঠানে এক যুবক তার প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষাগুরুকে দেখতে পেলেন। বহুদিন  পর ছোটবেলার শিক্ষাগুরুকে দেখে যুবক তাঁর কাছে ছুটে গেলেন এবং বললেন, “স্যার, আপনি কি আমাকে চিনতে পেরেছেন ?”
শিক্ষক বললেন, ”না, আমি খুব দুঃখিত, তোমাকে চিনতে পারছি না।”

যুবক তখন বললেন, “স্যার,আমি আপনার ছাত্র, আপনার মনে থাকার কথা, থ্রিতে পড়ার সময় আমাদের এক সহপাঠীর দামি একটি কলম চুরি হয়েছিল। সেই সহপাঠী কাঁদতে কাঁদতে আপনাকে নালিশ করল। আর আপনি সব ছাত্রকে চোখ বন্ধ করে দেয়ালের দিকে মুখ করে দাঁড়াতে বললেন। তারপর একজন একজন করে চেক করতে শুরু করলেন । আমি ভয়ে কাঁপতে লাগলাম। কারণ কলমটি ছিল আমার পকেটে।

আমি যে কলমটি চুরি করেছি তা আবিষ্কার হওয়ার পর আমি যে লজ্জার মুখোমুখি হব, আমার শিক্ষকরা আমার সম্পর্কে যে ধারণা পাবেন, স্কুলে সবাই আমাকে ‘চোর’ বলে ডাকবে এবং এটি জানার পর আমার মা-বাবার কী প্রতিক্রিয়া হবে- এই সমস্ত ভাবতে ভাবতে আমার মরে যেতে ইচ্ছে হল।
একসময় আমার পালা এল । আমি অনুভব করলাম আমার পকেট থেকে আপনি কলমটি বের করছেন। কিন্তু আমি অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম আপনি কিছু বলছেন না এবং আপনি বাকী শিক্ষার্থীদের পকেট অনুসন্ধান করে চলেছেন।

তারপর যখন অনুসন্ধান শেষ হল, আপনি আমাদের চোখ খুলতে বললেন এবং আমাদের সবাইকে বসতে বললেন। ভয়ে আমি বসতে পারছিলাম না, কারণ আমার মনে হচ্ছিল একটু পরেই আপনি আমাকে ডাকবেন। না, আপনি তা না করে কলমটি সবাইকে দেখালেন এবং মালিককে ফেরৎ দিলেন।

কলমটি যে চুরি করেছে তার নাম আপনি আর কখনও কাউকে বলেননি। আপনি আমাকে একটি কথাও বলেননি, এবং আপনি কখনও কারও কাছে গল্পটির উল্লেখও করেননি।

স্যার, আপনি সেদিন আমার মর্যাদা রক্ষা করেছিলেন। এই ঘটনার পর আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম জীবনে আর অন্যের জিনিস ছুঁয়েও দেখব না। ”
“স্যার, এখন গল্পটি মনে পড়েছে কি ? গল্পটি আপনার ভোলার কথা না !!”
শিক্ষাগুরু তখন জবাব দিলেন, ” হ্যাঁ! গল্পটি খুব ভালভাবেই মনে আছে আমার। তবে কার পকেটে কলমটি পাওয়া গিয়েছিল তা কখনো জানতে পারিনি। কারণ যখন আমি সবার পকেট চেক করছিলাম তখন আমি ইচ্ছে করেই তোমাদের মত নিজের চোখও বন্ধ করে রেখেছিলাম।”

এভাবেই প্রাথমিক শিক্ষকরা আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন জাতি গঠনে কাজ করে চলেন নিরন্তর। কিন্তু তাঁরা যথাযথ মর্যাদা পায়না। যতদিন না আমলারা এটা বুঝতে পারবে, ততদিন প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন সম্ভব নয়, জাতির প্রকৃত বিকাশ সম্ভব নয়।

আদর্শ শিক্ষাগুরু

© প্রাথমিক শিক্ষা তথ্য

হ্যারি পটার ফ্যামিলির ইতিহাস

0

আচ্ছা! এতদিন এত এত ক্যারেক্টার সম্পর্কে জানার পর কখনো কি ইচ্ছা হয় নাই যে আসল বিষয় আসল মানুষটা হ্যারি পটার সম্পর্কে কিছু জানি! বা তার পরিবার সম্পর্কে কিংবা তার পূর্বপুরুষ সম্পর্কে! কিংবা হ্যারি! যার কাছে কিভাবে ইনভিজিবল ক্লোক টা এসেছিলো কোন একসময় যার মালিক ছিলো ইগনোটাস প্যাভারেল!   অবশ্যই জানতে ইচ্ছা করেছে কিন্তু প্রপার ইনফরমেশনের খোঁজে অনেক কিছুই জেনেও আমরা জানিনা, কিংবা জানতে চাইনাই তাই জানি নাই। তাহলে আজকে অনেকদিন পর আমরা জানবো পটার ফ্যামেলির হিস্ট্রি ।

তো সময়টা শুরু হয় বারো শতাব্দী থেকে যখন লিনফ্রেড নামক এক জাদুকর ব্যক্তি সিঞ্চকম্ব নামক গ্রামে বসবাস করতো এবং সে পোশন বিদ্যায় অনেক ভালো ছিলো। সে তার প্রতিভাকে কাজে লাগিয়ে গ্রামের ম্যাগল লোকদের সাহায্য করতো সে হার্বোলজি তেও অনেক বেশি পারদর্শী ছিলো যার ফলে সে তার বাসার বাহিরে তা চাষ করতো  এবং সেগুলো দিয়েই সে পোশন তৈরি করতো।

সে তার বাসার বাহিরে পটের মধ্যে ওই ঔষুধি গাছ গুলো লাগাতো এবং পরবর্তীতে সেগুলো ব্যবহার করেই মাগ্যল দের আরোগ্য লাভে সাহায্য করতো। যদিও মানুষ তাকে পাগল ভাবতো কারণ তার পোশন  বানানোর সময় বিভিন্ন রকম আওয়াজ আসতো, কিন্তু মানুষ তাকে পছন্দ ও করতো কারণ সে সবার উপকার করতো এবং চিকিৎসা করতো। সে যে যাদুকর সেটা সবাই জানতো না।

হ্যারি পটার বই
হ্যারি পটার বই

যেহেতু সে তার বাসার বাহিরে টবের বা,পটের মধ্যে নানা রকমের গাছ লাগাতো যেগুলা দেখতে একেকটা একেক রকম এবং আকর্ষনীয় তাই গ্রামের সবাই মিলে তার নাম দিয়েছিলো “পটারার ” মানে পট তৈরিকারী। কিন্তু কালক্রমে সেটা পটারার থেকে বিবর্তন হয়ে হয়ে যায় “পটার”।

যেহেতু কেউ জানতো না যে সে একজন জাদুকর তাই সে আপন মনে বাসায় বসে নিজের ঔষুধ বানাতো আর বিভিন্ন রকম এক্সপেরিমেন্ট করতো।  উনিই “স্ক্যালগো ” মানে অস্থি বর্ধক পোশন তৈরি করেছিলো এবং সর্দি কাশি ভালো হওয়ার জন্য “পেপোরাপ ” পোশন ও তৈরি করেছিলো।  তার এসব পোশন এত কার্যকরী আর ফেমাস ছিলো যে অন্যান্য যাদুকর রাও তার এই পোশন চড়া দামে কিনে নিয়ে যাইতো, আর এভাবেই সে তার পোশন বিক্রি করে সে একসময় অনেক ধনী আর ফেমাস হয়ে যায়।

লিনফ্রেডের মোট ৭ জন বাচ্চা ছিলো। তাদের মধ্যে বড় ছেলের নাম ছিলো  “হার্ডউইন ” এবং এই হার্ডউইনের পর তার আরো ৬ জন বাচ্চা হয়। এবং লিনফ্রেডের মৃত্যু হওয়ার পর তার উপার্যিত সব সম্পত্তি অর্থাৎ  গোল্ড কয়েন সব বাচ্চাদের মধ্যে সমান ভাবে বন্টন করা হয়। এবং তারা সবাই বিলাসবহুল জীবন যাপন করতেছিলো।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a7%87-%e0%a6%af%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%be%e0%a6%9c/

পিতার নিকনেম এত জনপ্রিয় থাকায় তার সব বাচ্চা নিজেদের নামের সাথেও পটার নিকনেম টা  জুড়ে দেয়। এবং ওরা তার বাবার মতই সবার কাছে ফেমাস এবং জ্ঞানী হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।  এবং এভাবেই বড় ছেলের নাম হয়ে যায় হার্ডউইন পটার।  এবং এখান থেকেই পটার ফ্যামেলির শুরু হয়।

ধারণা করা  জে কে রাওলিং এর লেখা বই ” দ্যা টেল্স অফ  বিডেল দ্যা বার্ড ” এর ১ম কাহিনী যেটা ছিলো “উইজার্ড এন্ড টা হপিং পট ” কাহিনীটা মূলত লিনফ্রেড ও তার ছেলে হার্ডউইন কে নিয়েই লেখা হয়েছে। কারণ গল্পটায় ও লেখা ছিলো যে একটা উইজার্ড ম্যাগল দের মধ্যে থেকে জাদুকরি পোশন তৈরি করতো এবং তাদের সাহায্য করতো।

ওইদিকে হার্ডউইন গড্রিক হলো তে বসবাস করা একটা সুন্দর মেয়েকে বিয়ে করে যার নাম ছিলো “ইয়োলান্থ প্যাভেরাল” ছিলো।  ইয়োলান্থ প্যাভেরাল ছিলো ইগনোটাস প্যাভেরেল! যে ইনভিজিবল ক্লোক এর মালিক ছিলো , তার নাতি।  এখানে ইগনোটাসের ছিলো এক ছেলে যার মেয়ের নাম ইয়োলান্থ প্যাভেরাল আর এই সূত্রে সে ইনভিজিবল ক্লোকের মালিক হয়। আর বংশ পরম্পরায় সেই ক্লোকের মালিক হবে বংশের প্রথম ছেলের।  আর ইয়োলান্থ ছিলো পিউর ব্লাড ফ্যামেলির  মেয়ে। আর তার অনুরোধে হার্ডউইন এই ইনভিজিবিল ক্লোকের কথা সে গোপন রাখে। আর এই ক্ষেত্রে বংশ পরম্পরায় ১৫শ শতাব্দীতে এই ক্লোকের মালিক হয়  র‍্যাল্সটোন পটার। তখন ১৬১২ থেকে ১৬৫২ পর্যন্ত  উইজার্ডিং ওয়ার্ল্ডের হাই কোর্ট যা আগে ভিজিন্ডা মঠ নামে পরিচিত ছিলো সেটার মেম্বার ছিলো।

এবং সে জাদুকরি গোপনীয়তা আইনের ও সমর্থন করে।   তারপর আসে এব্রাহাম পটার। যার বাবা মা আমেরিকা চলে যায়। এব্রাহাম আমেরিকায় মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিকের শুরুর ১২ অরর দের মধ্যে একজন ছিলো যাদেরকে ম্যাকুইসা এপয়েন্ট  করেছিলো।এব্রাহাম আর ল্যাংস্টোন এর কথা পটারমোর ওয়েবসাইটের থাকা পটার ফ্যামেলির ম্যাপে নাই,কারণ তারা অন্যজায়গায় গিয়ে বসবাস করা শুরু করে। এরপর অনেক জেনারেশন চলে যায়, এবং আসে হেনরি পটার।

হেনরি পটার হগওয়ার্টসে পড়াশুনা করে এবং সে ও একজন পিউর ব্লাড এবং সে গ্রিফিন্ডোর হাউসে ছিলো।  হেনরির বন্ধুরা তাকে হ্যারি বলে ডাকতো এবং হেনরির মা ছিলো ফ্লেমন্ট ফ্যামেলির এবং তিনিও পিউর ব্লাড ফ্যামেলির ছিলো। তার শেষ ইচ্ছা ছিলো তার নাম যাতে তার সাথে শেষ না হয়ে যায় তাই হেনরি তার ছেলের নাম রাখেন ফ্লেমন্ট পটার। হেনরি মাগ্যলদের সাথে অনেক ভালো ব্যবহার করতে যেটা সে তার বংশ থেকে শিখানো হয়েছিলো। এবং এই জন্যই পটার ফ্যামেলির নাম পিউর ব্লাড ফ্যামেলির নামের লিস্ট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছিলো। যেহেতু ফ্লেমন্ট পটারের সময় ওয়ার্ল্ড ওয়ার ১ চলতেছিলো তখন একটা ঘোষনা হয় যে কোন জাদুকর এই যুদ্ধে অংশ নিবে না, যেহেতু  ফ্লেমন্টের মাগ্যলদের প্রতি একটা আলাদা টান ছিলো তাই সে মাগ্যল দের চিকিৎসা দিতে থাকে।

যেহেতু মাগ্যলরা পটার ফ্যামেলিকে বিশেষ ভাবে জানতো এর কারণে  তাদের ব্লাড রিলেশন নিয়ে দন্দ দেখা দেয় যার ফলে তাদের কে এনসিয়েন্ট পিউর ব্লাড ফ্যামেলির লিস্ট থেকে সরিয়ে ফেলা হয়।

হেনরির পর তার ছেলে ফ্লেমন্ট এর কাছে ইনভিজিবল ক্লোক আসে এবং সে ও হগওয়ার্টসের গ্রিফিন্ডোর হাউসের ছাত্র ছিলো। সে ও তার পূর্বপুরুষের মত হার্বোলজি তে দক্ষ ছিলো। তাই সে খুব জলদি চুল ভালো রাখার একটা হেয়ার পোশন বানিয়ে ফেলে। যা পরবর্তীতে সকল জাদুকরনীদের প্রিয় বস্তু হয়ে উঠে এবং এর দ্বারা ফ্লেমন্ট অনেক সম্পত্তির মালিক হয়। তার একটা কাজিন ও ছিলো যার বিয়ে হয় ডোরিয়া ব্ল্যাকের সাথে, তাদের একটা ছেলেও হয় যার নাম ছিলো ডোরিয়াস চার্লস পটার নামে,তবে তার কোন কাহিনী উল্ল্যেখ নেই।

যাই হোক! তো স্কুল শেষ করার পর ফ্লেমন্ট এর বিয়ে হয় পিউর ব্লাড ইউফেমিয়া নামের একটা মেয়ের সাথে । তবে অনেক দিন পরেও তাদের কোন বাচ্চা হচ্ছিলো না, তাই তারা আশা ছেড়ে দেয়,কিন্তু ১৯৫৯ এ ইউফেমিয়া প্রেগন্যান্ট হয় এবং তাদের একটা বাচ্চা হয় যার নাম ছিলো জেমস পটার।  আর এই জেমস পটার ই ছিলো হ্যারির বাবা, তো ফ্লেমন্ট এর কাছ থেকে ইনভিজিবল ক্লোকের মালিক হয় জেমস এবং সেই সূত্রে মালিক হয় হ্যারি।  জেমস বিয়ে করে লিলি ইভান নামের মাডব্লাড বা মাগ্যল কে, তাই হ্যারি হয় হাফ ব্লাড। এর মাঝখানের কাহিনী আমার লেখা সিরিয়াস ব্ল্যাকের কাহিনীতেই জানা যাবে যে জেমস তার স্কুল জীবনে কি করেছিলো। এবং কি হয়েছিলো, এর পরের কাহিনী সবার জানা,জানা না থাকলে আমার লেখা ভোল্ডমোর্টের হিস্ট্রি পড়লে জানা যাবে। উইজার্ডিং ওয়ার এর কথা।  যাই হোক এরপর আসে হ্যারি যে বিয়ে করে পিউরব্লাড জিনি উইজলি কে এরপর তাদের ৩ টা বাচ্চা হয় যাদের নাম ছিলো আলবাস সেভেরাস পটার, জেমস সিরিয়াস পটার ও মেয়ের নাম হয় লিলি লুনা পটার । আর এভাবেই পটার ফ্যামেলি তাদের পরিচয় ধরে রাখে।

হ্যারি পটার সম্পর্কে আরো জানুন

আসলে আমি যতটুকু পেরেছি পুরোটা চেষ্টা করেছি তুলে ধরার, অনেক দিন লিখি নাই তাই ভাবলাম আজকে এই টপিক টা নিয়ে লিখি। আপনাদের কিছু জানার থাকলে কমেন্টে জিজ্ঞেস করতে পারেন।  বা নেক্সট কেনটা নিয়ে লিখবো সেটা সাজেস্ট ও করতে পারেন। যাই হোক, ধন্যবাদ।

© Nuraisha Nurish Nura

জম্বি- দ্যা মিনি মন্সটার্স [2020]

0

একফোঁটা স্পোর। মাত্র একফোঁটা। জম্বিটা রক্তে কোনভাবে ঢুকতে পারলেই হলো। প্রথমে হয়তো খুব একটা টের পাবেন না। আপনার শরীরে আস্তে আস্তে বাড়তে থাকবে ওটা। ক্যান্সারের মতো। রক্তে রক্তে, শিরায় শিরায় জাল বিছানো শুরু করবে প্যারাসাইট। কিছুদিন পর খিচুনি শুরু হবে।অস্বাভাবিক খিচুনি। আবার একটু পরে ঠিক হয়ে যাবে। তারপর একদিন গভীর রাতে আপনার লকড ইন সিন্ড্রোমের মতো হবে। আপনার নড়াচড়া বন্ধ হবে। তখন বুঝবেন, আপনার ব্রেইনে ঢুকে গেছে ওটা। প্যারাসাইট কন্ট্রোল নিবে আপনার বডির। আপনি সব দেখবেন, শুনবেন, কিচ্ছু করতে পারবেন না। আপনার হাত নতুন মালিকের কথা শুনবে। আপনার পা নিজে থেকে হাঁটা শুরু করবে।

জম্বি- দ্যা মিনি মন্সটার্স
জম্বি- দ্যা মিনি মন্সটার্স

গভীর রাতে সবাই যখন ঘুমে আচ্ছন্ন তখন আপনি রওনা দিবেন জঙ্গলের দিকে। ওটা আপনাকে জঙ্গলে নিতে চায়। জঙ্গলে বিরাট কালো মোটা গাছটার কাছে এসে আপনি থামবেন। অথবা বলা যায়, আপনার শরীর থামবে। আশেপাশে পচা গলা বিশ্রী গন্ধ, আপনি ঘাড় ঘুরিয়ে দেখতে  চাইবেন। আপনার ঘাড় কথা শুনবে না।

যে বধ্যভূমিতে আপনাকে নিয়ে আসা হয়েছে সেটা ঘুরিয়ে দেখানোর সময় এখন না। এখন সময় কাজের। জম্বিটা আপনার সাথে কথা বলে না, হাত পায়ের সাথে বলে। আপনার হাত পা মোটা গাছটা আঁকড়ে ধরে উঠতে শুরু করবে। ভয় পাবেন না, ওটা আপনাকে পড়তে দিবে না, গাছ থেকে পড়ে আপনার মৃত্যু হবে না। আপনি গাছের মগডালে উঠবেন। আপনার হাত পা  ডাল খুব ভালভাবে জড়িয়ে ধরবে। দরকার হলে দাঁত দিয়েও ডাল কামড়ে ধরা হবে। শক্ত করে ধরা শেষ? ওইটাই ছিল আপনার শরীরের শেষ কাজ। হাত পায়ের নড়াচড়ার আর দরকার নেই।

গাছ থেকে পড়ে আপনার মৃত্যু হবে না, আপনার জন্য আরও ভয়ঙ্কর কিছু অপেক্ষা করছে। আপনার শরীরের পুষ্টি নিয়ে ধীরে ধীরে বড় হবে ওটা। তারপর যখন সময় আসবে, আপনার খুলি ফুটা করে বের হবে তার ফ্রুটিং বডি। রক্ত ছিটিয়ে পড়বে, আর ছড়িয়ে পড়বে স্পোর। মাথা ভেদ করে মাথা তুলবে বীভৎস ফাঙ্গাস করডিসেপ্স। বডি  কন্ট্রোলিং ফাঙ্গাস। বাচঁতে চাইলে এখনই পালাতে হবে আপনার দলের সবাইকে। ওই স্পোরের ধারে কাছে থাকা যাবে না। কারন এটা গল্প না। যদি মনে করে থাকেন এতক্ষন কোনো হরর মুভি বা গল্প বলছিলাম তাহলে আপনি ভুল ভেবেছেন। বাস্তব অনেক সময়ই গল্পের চেয়ে ভয়ঙ্কর হয়। হ্যা, এটা পুরোটাই বাস্তব। তবে জম্বির ব্যাপারটা মানুষের সাথে নয়, ঘটে পিপড়ারর সাথে।

জম্বি সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে চাইলে আরো পড়ুন

আমাদের সাইটের আর্টিকেলগুলো ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। লেটেস্ট আর্টিকেলগুলো ইমেইলে পেতে আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন।

© Nayeem Hossain Faruque

ইতিহাস 1984 : হায়দ্রাবাদের গোপন রহস্য

0

১৮ই সেপ্টেম্বর হায়দ্রাবাদের স্বাধীনতা হারানোর ৭১ বছর হয়েছে। হায়াদ্রাবাদ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থিত একটি স্বাধীন মুসলিম শাষিত রাস্ট্র ছিল। যার ছিল নিজস্ব মুদ্রা, রেল ব্যবস্থা, ডাক বিভাগ, এয়ারপোর্ট, নৌ যোগাযোগ ব্যাবস্থা, বিচার বিভাগ এবং নিজস্ব সেনাবাহিনী। আয়তন ছিল  বর্তমান  ফ্রান্সের আয়তনের প্রায় দ্বিগুণ। ১৯৪৭ সালে যখন ভারত ভাগ হয়ে পাকিস্তান সৃষ্টি হয় তখন হায়াদ্রাবাদ নামক এই অঞ্চলটি ভারতীয় স্বাধীনতা আইন অনুযায়ী কাশ্মীরের মতই ভারত বা পাকিস্তান কোনোটিতেই যোগ না দিয়ে স্বাধীন থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। দেশটি জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের জন্য আবেদনও জানিয়েছিল। তৎকালীন সময় হায়াদ্রাবাদের শাষক ছিলেন মীর ওসমান আলী খান।

কিন্তু নিজের পেটের ভেতরেই মুসলিম শাষিত একটি দেশ থাকবে, উগ্রবাদী ভারত সেটা কোনো ভাবেই মেনে নিতে পারেনি। ফলে স্বাধীন হওয়ার পর থেকেই হায়দ্রাবাদে হামলা চালানোর জন্য উপযুক্ত সুজোগ খুজতে থাকে ভারত।

হায়দ্রাবাদের ম্যাপ
হায়দ্রাবাদের ম্যাপ

অবশেষে ১৯৪৮ সালে সে সুজোগ আসে ভারতের হাতে।  আক্রমনের অজুহাত তৈরি করতে ভারতের মদদে হায়াদ্রাবাদে তখন হিন্দু-মুসলিমদের মাঝে কলহ বাধিয়ে দেয়া হয়। এই সুজোগে হিন্দুদের উপর অত্যাচার চালানোর অজুহাত দেখিয়ে ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে জহরলাল নেহেরুর নির্দেশে ভারত বিশাল সেনাবাহিনীর বহর নিয়ে হায়াদ্রাবাদে আক্রমন করে। হায়াদ্রাবাদ দখলের এই অভিজানকে ভারত নাম দেয় ‘অপারেশন পোলো’।

হায়াদ্রাবাদের মুসলিম যুবক-পুরুষরাও সেনাবাহিনীর সাথে মিলিত হয়ে ভারতের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতির্ন হয়। কিন্তু বিপুল পরিমান শক্তিশালী অস্ত্রে সজ্জিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর তুলনায় হায়াদ্রাবাদের সেনাবাহিনী ছিলো নিতান্তই ছোট এবং দূর্বল। ফলে ভারতের লাগাতার আক্রমনে হায়াদ্রাবাদের প্রতিরোধ ব্যাবস্থা ধীরে ধীরে ভেঙে পরতে থাকে। শেষ চেষ্টা হিসেবে জাতিসংঘ ও আমেরিকার সাহায্য প্রার্থনা করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

অবশেষে ১৮ সেপ্টেম্বর এই অসম যুদ্ধে মীর ওসমান আলী খান তার বাহিনী নিয়ে আত্মসমর্পণ করে। ফলে হায়াদ্রাবাদকে দখল করে নিজের রাজ্যের পরিনত করে ভারত।

কিন্তু যুদ্ধ শেষ হবার পর কোনো প্রতিরোধকারী না থাকার সুজোগে বর্বর ভারত পুরো হায়াদ্রাবাদ জুড়ে মুসলিমদের উপর ভয়াবহ গনহত্যা চালানো অব্যাহত রাখে। হায়াদ্রাবাদ গনহত্যায় ভারত তখন কি পরিমান মুসলিমকে হত্যা করেছে তার সঠিক তথ্য ভারত ধামাচাপা দেয়ায় তা জানা যায়নি। টেইলর, এজি খান সহ বেশ কিছু বিশ্লেষকদের জরিপ অনুজায়ী হায়াদ্রাবাদ গনহত্যায় কমপক্ষে ২ লক্ষ মুসলিমকে হত্যা করা হয়। যাদেরকে ধরতে পেরেছে, তাদের ১ জন মুসলিম পুরুষকেও বাচতে দেয়নি তারা। মুসলিম যুবকদেরকে লাইনে দাড় করিয়ে গুলি করে হত্যা, নারীদেরকে ধর্ষন সহ আরো অনেক বর্বরতা চালায় ভারতীয় বাহিনী। এছাড়া ঘড়বাড়ি ধ্বংস করা, অগ্নিসংজোগ, লুটতরাজের মত ঘটনা ছিলো নিয়মিত ব্যাপার।

সবচেয়ে নির্মম ঘটনাটি ঘটে, ভারতীয় বাহিনীর থেকে নিজেদের সম্ভ্রম বাঁচাতে পালাতে গিয়ে কয়েক হাজার  নারী নদীতে পড়ে মারা যায়।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%ab%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ac%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a6%9f%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a6%b8-%e0%a6%95%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%b2-%e0%a6%95%e0%a6%bf-%e0%a6%8f/

১৯৪৮ সালের পর ভারত সরকার হায়াদ্রাবাদ গনহত্যার কথা পুরোপুরি চেপে যায়। ২০১৩ সালে প্রথমবারের মত ভারতের লোকসভার হিন্দু সদস্য পণ্ডিত সুন্দরলালের নেতৃত্বে গঠিত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে হায়াদ্রাবাদ গনহত্যার কথা উল্লেখ করা হয় এবং তাতে ৪০ হাজার মুসলীম হত্যার কথা স্বীকার করা হয়।

এই গণহত্যার কথা উপমহাদেশের অনেকে তো বটেই, ভারতেরও খুব কম সংখ্যক লোক জানে , এমনিকি হায়দ্রাবাদেরো অনেকে এ বিষয়ে কিছু জানেনা। এভাবে হায়াদ্রাবাদ গনহত্যা সহ আরো অসংখ্য গনহত্যার কথা ভারত সরকার জনগনের থেকে প্রায় পুরোপুরি গোপন করে ফেলেছে।

হায়দ্রাবাদ সম্পর্কে আরো জানুন

© অনির্বাণ

মেগালোডন – দুনিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী [2020]

0

আপনাকে যদি প্রশ্ন করা হয় বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী কোনটি? আপনি হয়তো বিনা দ্বিধায় টাইর‍্যানোসরাস (ডায়নোসর) এর নাম বলে দিবেন। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে, আদিম যুগে সমুদ্রে এমন এক ভয়াবহ জীব রাজত্ব করতো, যার সামনে ডায়নোসর গোত্রের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রানী টাইর‍্যানোসরাসও ছিলো পুরোপুরি অসহায়। সেই রাক্ষুসে জীবটির নাম ‘মেগালোডন’। আজ থেকে প্রায় ২৩ মিলিয়ন বছর আগে সাগরের অতলে বাস করতো হাঙ্গর গোত্রিয় এই অতিকার মাছটি।

মেগালডনের ফসিল গবেষণা করে বিজ্ঞানীরা জানতে পেরেছেন, মেগালডন ছিলো হাঙ্গর গোত্রেরই একটি অতি বৃহৎ প্রজাতি। আকারে মেগালডন কত বড় ছিল তার উত্তর পাওয়া যায় তার দাঁত দেখেই। এদের সবচেয়ে বড় যে দাঁতটি পাওয়া গেছে সেটি লম্বায় সাত ইঞ্চি আর চওড়াও কম নয়। যেখানে বর্তমান পৃথিবীর সবচেয়ে বড় এবং ভয়ানক হোয়াইট শার্কের দাঁতও সর্বোচ্চ তিন ইঞ্চি হয় কদাচিৎ। তবে দাঁত এবং কশেরুকা ছাড়া মেগালডনের আর কোনো নমুনা পাওয়া যায়নি। তাই এদের নিকটতম আত্মীয় হোয়াইট শার্কের সাথে তুলনা করে এবং ফসিল পুনঃবিন্যাস করে বিজ্ঞানীরা এদের ব্যাপারে আমাদের মোটামুটি একটি ধারণা দিয়েছেন।

মেগালোডন ও ডাইনোসর
মেগালোডন ও ডাইনোসর

প্রায় ২৩ মিলিয়ন বছর আগে বিলুপ্ত হওয়ার পাশাপাশি সামুদ্রিক জীব হওয়ায় মেগালডনের কোনো অক্ষত ফসিল পাওয়া সম্ভব হয়নি। তাই মেগালডনের আকার নিয়ে বিজ্ঞানীদের মাঝে মতভেদ আছে। কারো মতে মাছটি ১৮ মিটার (৬০ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হয়। কারো মতে মেগালোডন লম্বায় ২৫ মিটার (৭৫+ ফুট) পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। উল্লেখ্য, বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় প্রজাতীর হাঙ্গর ‘গ্রেট হোয়াইট শার্ক’ সর্বোচ্চ ১৯ ফুট পর্যন্ত হতে পারে।

ওজনের ব্যাপারে মেগালডনদের লিঙ্গভেদে অনেক পার্থক্য ছিল। স্ত্রী মেগালডনের ওজন যেখানে ছিলো প্রায় ৫৯.৪ টন, সেখানে পুরুষদের ওজন প্রায় ৩৩.৯ টন। ধারণা করা হয়, উপযুক্ত পরিবেশ, প্রতিদ্বন্দী বিহীন এবং পর্যাপ্ত খাবার পাবার কারনেই এরা এমন বিপুল আকৃতির হতো। আর অতিকায় গ্রীবার কারনে তাদের কামড়ে জোড়ের পরিমাণও ছিল খুব বেশি। হোয়াইট শার্কের যেখানে ১৮,০০০ নিউটন বল প্রয়োগ করে, সেখানে মেগালডনদের কামড়ে থাকে ১১০,০০০ থেকে ১৮০,০০০ নিউটন।

মেগালোডনের দাত
মেগালোডনের দাত

মেগালোডন ছিলো সমুদ্রের অপ্রতিদ্বন্দী সম্রাট। তার সামনে বাধা হয়ে দাড়াবার মত ক্ষমতাবান কেউই সমুদ্রে ছিলোনা। প্রাগইতিহাসিক যুগ থেকে বর্তমান পর্যন্ত তারাই হলো বিশ্বের সবচেয়ে বড় আকৃতির হিংস্র প্রানী। এমনকি ৩০ ফুটি সামুদ্রিক ডায়নোসর গোত্রিয় জীব ‘মোসেসর’ পর্যন্ত মেগালোডনকে সমীহ করে চলতো। প্রকান্ড দেহ এবং অসম্ভব শক্তি তাকে এক জীবন্ত কিলিং মেশিনে পরিনত করেছে। সমুদ্রে ত্রাস সৃষ্টির জন্য সব ধরনের বৈশিষ্টই ছিলো মেগালোডনের দেহে। শক্ত চামড়া, ধারালো বৃহদাকার দাঁত, অসম্ভব শক্তিশালী চোয়ালের পাশাপাশি মেগালোডনের ছিলো শক্তিশালী স্নায়ুতন্ত্র। জীবন্ত সোনারের মত মেগালোডন বহু কিলোমিটার দুর থেকেই শিকারের অস্তিত্ব টের পেতো। অসম্ভব শক্তিশালী এবং প্রকান্ড লেজকে প্রোপেলারের মত ব্যাবহার করে প্রচন্ড গতিতে পানির নিচে ছুটতে পারতো। ৭৫ ফুট লম্বা এই অতিকার হাঙ্গরগুলো ১১ ফুট আকারে চোয়াল ফাক করতে পারতো, যা আস্তা একটা ট্রাককে গিলে ফেলার জন্য যথেষ্ট ছিলো।

ছোট মাছ থেকে শুরু করে সীল, ডলফিন, সামুদ্রিক কচ্ছপ দিয়ে হরহামেশাই উদরপূর্তি করতো। তালিকা থেকে বাদ যেত না স্বগোত্রীয় অন্য ছোট হাঙ্গরেরাও। এমনকি বিভিন্ন প্রজাতির তিমিরা তাদের প্রকাণ্ড শরীর নিয়েও মাফ পায়নি এই দানবদের থেকে। তাদের শিকারের কৌশল ছিল খুবই জটিল। শিকারের সাইজ অনুযায়ী এরা তাদের কৌশল নির্ধারণ করতো। অধিকাংশ সময় এরা শিকারের হৃৎপিন্ড এবং ফুসফুস লক্ষ্য করেই আক্রমন করতো। আর বড় শিকার করার সময় অনেকটা বর্তমান হোয়াইট শার্কের অনুকরণেই শিকার করতো।

মেগালোডন হোয়াইট শার্ক
মেগালোডন হোয়াইট শার্ক

নিজের থেকে বড় আকারের নীল তিমিরা পর্যন্ত রেহাই পেতোনা মেগালডনের হিংস্র হামলা থেকে। ৭০ ফুটি মেগালোডনের জন্য ৮০-৯০ ফুটি নীল তিমি শিকার করা খুব বেশি কঠিন কিছু ছিলোনা। এক কামড়ে তিমির দেহ থেকে পেছনের অংশ ছিড়ে নেবার ক্ষমতা ছিলো মেগালডনের। তবে জরুরী না হলে প্রাপ্ত বয়স্ক পুরুষ নীল তিমি শিকারের চেষ্টা করতো না তারা। কারন, স্বভাবে শান্ত হলেও প্রকান্ড পুরুষ নীল তিমি খুবই শক্তিশালী এবং মেজাজি হয়। রেগে গেলে তাদের চোঁয়ালের শক্তিশালী কামড়ে শত্রুর অবস্থা খারাপ হয়ে যেতে পারে।

মেগালোডনদের আবাস্থল

তাদের বিচরণ ছিল প্রায় পুরো পৃথিবী জুড়েই। ইউরোপ, আফ্রিকা, আমেরিকা ও অস্ট্রেলিয়া সহ বিশ্বের নানা প্রান্তে এর জীবাশ্ম পাওয়া গেছে। এমনকি মারিয়ানা ট্রেঞ্চ থেকেও তাদের দেহাংশ উদ্ধার হয়েছে। আবার ভারতীয় উপমহাদেশও বঞ্চিত হয়নি মেগালোডনের খপ্পর থেকে। উপকূল থেকে গভীর সমুদ্র – সব জায়গাতেই নিজেদের মানিয়ে নিয়েছিলো তারা। যদিও শিশু মেগালোডনরা মূলত উপকূলবর্তী এলাকাতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতো।

মেগালোডনদের প্রজনন

সমসাময়িক অন্যান্য হাঙ্গরদের মত মেগালডনরাও তাদের বাচ্চা প্রসবের জন্য নার্সারি ব্যবহার করতো যেখানে ছিল বিপুল সংখ্যক খাবার এবং শিকারিদের কাছ থেকে সুরক্ষার নিশ্চয়তা। প্রাপ্ত ফসিলের ভিত্তিতে এসব নার্সারি এলাকাগুলো হতো উষ্ণ পানির সমুদ্র উপকূল। কারন এখানে খাবার এবং সুরক্ষার নিশ্চয়তা উভয়ই ছিল। এসব নার্সারি এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে পানামার গুটান ফরমেশন, ম্যারিল্যান্ড এর কালভার্ট ফরমেশন, ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের বাঙ্কো দি কন্সেপশন এবং ফ্লোরিডার বোন ভ্যালি ফরমেশন।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%b0%e0%a6%b9%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%ae%e0%a7%9f-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%89%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a7%81-%e0%a6%9f%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%be/

তাদের বাচ্চা লম্বায় প্রায় ৩.৫ মিটার বা ১১ ফুট হতো, যা একটি হোয়াইট শার্কের প্রায় সমান। বাচ্চাকালে এরা হ্যামার হেড শার্ক এবং নাগেলটুথ শার্ক এর সহজ শিকার। আর এইজন্যই এরা নার্সারি এলাকাগুলো যতটা সম্ভব সুরক্ষিত স্থানে করা হতো। বাচ্চা মেগালডনদের খাবারের তালিকায় থাকে ছোট মাছ ,সীল, সামুদ্রিক কচ্ছপ ইত্যাদি।

মেগালোডন এর বিলুপ্তি

বাস্তুতন্ত্রের পরিবর্তন এবং জলবায়ু পরিবর্তনই মেগালোডনদের বিলুপ্তির প্রধান কারন। মেগালোডন ছিল উষ্ণ রক্তের প্রাণী। আর এটাই কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিলো তাদের জন্য। আজ থেকে প্রায় ৩৫ মিলিয়ন বছর পূর্বে বরফ যুগ শুরুর ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা হঠাৎ ঠান্ডা হওয়া শুরু করে। ফলে মেগালোডনরা যেসব খাদ্যের উপর নির্ভরশীল ছিল তারাও খাদ্যের অভাবের কমে যেতে থাকে এবং বরফ যুগ শুরু হওয়ার সাথে সাথে অনেক প্রাণী শীতল মেরু অঞ্চলেও চলে যায়। কিন্তু উষ্ণ রক্তের প্রানী হওয়ার ফলে মেগালডনের পক্ষে তাদের পিছু নিয়ে শীতল মেরু অঞ্চলে যাওয়া সম্ভব ছিল না।

তাছাড়া বরফ যুগের আগমনের সাথে সাথে সমুদ্রের পানি জমাট বেধে বরফ হতে শুরু করে, যার ফলে সমুদ্রতলের উচ্চতা কমে যাওয়ায় তাদের চারণক্ষেত্রও কমে যেতে থাকে। এছাড়া এ সময় ‘কিলার হোয়েল’ গোত্রের শিকারী তিমি সহ আরো কিছু শিকারী প্রাণীও মেগালডনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভুত হয়। তাদের কারনে মেগালোডনের খাবার কমে যাওয়ায় এদের লড়াই করতে হতো অন্যান্য মেগালডনদের সাথে। আর শুধুমাত্র বেঁচে থাকার জন্যই নয়, সাগরের তাপমাত্রার সাথে নিজের শরীরের তাপমাত্রা মানানসই করে রাখার জন্যও তাদের বিপুল পরিমাণে খাবারের প্রয়োজন ছিল। তাছাড়া তাপমাত্রা কমতে কমতে সমুদ্রের উষ্ণ পানি ধীরে ধীরে শীতল হয়ে যেতে শুরু করে, যার সাথে পাল্লা দিয়ে টিকতে পারেনি উষ্ণ রক্তের মেগালডন। আর এভাবেই আস্তে আস্তে বৃহদাকার মেগালডন হারিয়ে যায় পৃথিবীর বুক থেকে।

স্বাভাবিকভাবেই বিজ্ঞানীরা ধরে নিয়েছে, মেগালডনেরা বিলুপ্ত হয়ে গিয়েছে পৃথিবী থেকে। কিন্তু তাদের বিলুপ্তি নিয়েও বিতর্কের শেষ নেই। অনেকেই বর্তমানে মেগালডন দেখার দাবী করেছেন। ১৯১৮ সালে ডেভিড স্টিড নামের এক অস্ট্রেলিয়ান প্রকৃতিবিদ জানান, অস্ট্রেলিয়ার একটি অঞ্চলে মাছ ধরার সময় কিছু মৎস্যজীবী প্রকান্ড আকারের এক হাঙরকে দেখেছেন। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার এক মৎস্যজীবী প্রায় ৪০ ফুট দীর্ঘ এক হাঙরকে দেখেছেন বলে জানান।

মেগালোডন হোয়াইট শার্ক
মেগালোডন হোয়াইট শার্ক

মেগালডন বিলুপ্তির দাবিটি সম্পূর্ন তাত্বিক। বিজ্ঞানীরা তাত্বিক ভাবে ব্যাখ্যা করেছে শীতল সমুদ্রে মেগালোডন বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। কিন্তু অভিযোজনেরর মাধ্যমে জীব প্রতিকুল পরিবেশের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে বেঁচে থাকার উপায় খুজে নিতে পারে। যেমন: উষ্ণ অঞ্চল থেকে শীতল অঞ্চলে গমনের সময় শিয়ালের দেহের লোমের আকৃতি বড় হয়ে যায়, আবার শীত আশার পূর্বে মেরু ভাল্লুকের চামড়ার নিচে পুরু চর্বির স্তর তৈরি হয়। একই ভাবে মেগালডন যদি অভিযোজন করে নিজেকে শীতল পানির সাথে মানিয়ে নিতে পারে তাহলে ভিন্ন কথা।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%ad%e0%a7%9f%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a6%b9-%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%99%e0%a7%8d%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a6%be-%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b8%e0%a7%8d%e0%a6%ab%e0%a7%8b%e0%a6%b0/

সমুদ্র সম্পর্কে মানুষের জ্ঞান খুবই সীমিত। অতল সমুদ্রের প্রায় পুরোটাই এখনো রয়ে গেছে রহস্যের আড়ালে। এপর্যন্ত বিজ্ঞানীদের বহু তত্ব ভুল প্রমানীত হয়েছে। যেমন, সম্প্রতি প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানের অদুরবর্তী ম্যারিয়ানা চ্রেঞ্চে এমন কিছু প্রানী আবিষ্কৃত হয়েছে, যেগুলোকে বিজ্ঞানীরা আগে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছিলো। তাই অতল সমুদ্রের কোনো এক প্রান্তে এখনো জীবিত থাকাটা অসম্ভব কিছু নয়।

আমাদের সাইটের আর্টিকেলগুলো ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। লেটেস্ট আর্টিকেলগুলো ইমেইলে পেতে আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন।

© অনির্বাণ

AMP ওয়েবসাইট কি? কীভাবে AMP ওয়েবসাইট বানাবেন? [2020]

0

AMP ওয়েবসাইট কি?

AMP এর পূর্ণরূপ হচ্ছে Accelerated Mobile Page. AMP হলো স্থায়ী সামগ্রীগুলির জন্য ওয়েব পৃষ্ঠাগুলি তৈরির একটি উপায় যা দ্রুত রেন্ডার করে। AMP JS Library, AMP ওয়েব পৃষ্ঠাগুলির দ্রুত উপস্থাপনা নিশ্চিত করে। গুগল AMP ওয়েবসাইট-টি এমন দৃষ্টিভঙ্গির সাথে প্রবর্তন করেছিল যে প্রকাশকরা একবার মোবাইল অপ্টিমাইজড সামগ্রী তৈরি করতে পারে এবং তা তাৎক্ষণিকভাবে সর্বত্র লোড করা যায়।

Google AMP Cache কি?

গুগল AMP Cache কেবলমাত্র একটি প্রক্সি ভিত্তিক সামগ্রী বিতরণ নেটওয়ার্ক যা সমস্ত বৈধ AMP নথি সরবরাহ করে। এটি AMP এইচটিএমএল পৃষ্ঠাগুলি আনে, সেগুলি Cache করে এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে পৃষ্ঠার কার্যকারিতা উন্নত করে। গুগল AMP Cache নথিটি, সমস্ত উৎস এবং JS ফাইল একই উৎস থেকে লোড করে যা সর্বোচ্চ কার্যকারিতা সরবরাহ করতে HTTP 2.0 ব্যবহার করে।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%95%e0%a7%80%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%86%e0%a6%aa%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%b2%e0%a6%97%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%85%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be/

কেন ব্লগারে AMP ওয়েবসাইট নেই?

যদিও AMP একটি গুগল-সমর্থিত প্রকল্প এবং ব্লগস্পট গুগলের ব্লগিং প্ল্যাটফর্ম, কিন্তু গুগল বলছে “ব্লগার বর্তমানে AMP এইচটিএমএল সমর্থন করে না।” কিন্তু আমরা এটি সেভাবে করতে পারি না? পারি। নিচের এই পদক্ষেপগুলি অনুসরণ করুন এবং আপনার ব্র্যান্ডের জন্য নতুন একটি AMP ব্লগ তৈরি করুনঃ

ধাপ-১ঃ নিম্নলিখিত কোডটি <html> কোডের সাথে প্রতিস্থাপন করুন <html amp=’amp’>

ধাপ-২ঃ Charset এবং Viewport মেটা ট্যাগগুলির জন্য খুজুন। উপস্থিত না থাকলে <head> এর পরে নিম্নলিখিত কোডটি প্রতিস্থাপন করুন।

<meta charset=”utf-8″>
<meta name=”viewport” content=”width=device-width,minimum-scale=1,initial-scale=1″>

ধাপ-৩ঃ মেটা ট্যাগের পরে নিচের কোডগুলো লিখুন।

<link expr:href=’data:blog.url’ rel=’canonical’/>

ধাপ-৪ঃ </head> এই কোডের সাথে নিম্নলিখিত কোডটি প্রতিস্থাপন করুন।

<style amp-boilerplate=’amp-boilerplate’>body{-webkit-animation:-amp-start 8s steps(1,end) 0s 1 normal both;-moz-animation:-amp-start 8s steps(1,end) 0s 1 normal both;-ms-animation:-amp-start 8s steps(1,end) 0s 1 normal both;animation:-amp-start 8s steps(1,end) 0s 1 normal both}@-webkit-keyframes -amp-start{from{visibility:hidden}to{visibility:visible}}@-moz-keyframes -amp-start{from{visibility:hidden}to{visibility:visible}}@-ms-keyframes -amp-start{from{visibility:hidden}to{visibility:visible}}@-o-keyframes -amp-start{from{visibility:hidden}to{visibility:visible}}@keyframes -amp-start{from{visibility:hidden}to{visibility:visible}}</style><noscript><style amp-boilerplate=’amp-boilerplate’>body{-webkit-animation:none;-moz-animation:none;-ms-animation:none;animation:none}</style></noscript>
<script async=’async’ src=’https://cdn.ampproject.org/v0.js’></script>
</head>

ধাপ-৫ঃ ইমেজ ট্যাগগুলিকে নিম্নলিখিত উদাহরণের মতো amp-img ট্যাগগুলিতে পরিবর্তন করুনঃ

<amp-img src=”AmpImage.jpg” alt=”amp-img” height=”500″ width=”500″></amp-img>

কীভাবে AMP পৃষ্ঠাগুলি যাচাই করবেন?

পদ্ধতি-১ঃ

আপনার AMP ওয়েবসাইটের পৃষ্ঠাটি ক্রোম ব্রাউজারে খুলুন, উদাহরণস্বরূপ –
https://example.blogspot.in/p/amp-page.html

Right ক্লিক করুন এবং Chrome DevTools কনসোল খুলুন এবং বৈধতা ত্রুটি পরীক্ষা করুন।

পদ্ধতি-২ঃ

validator.ampproject.org ওয়েব ইন্টারফেসটি খুলুন। এরপর URL ফিল্ডে url-টি লিখুন, যেমন:- https://example.blogspot.in/p/amp-page.html

আমাদের সাইটের আর্টিকেলগুলো ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। লেটেস্ট আর্টিকেলগুলো ইমেইলে পেতে আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন।

জেনারেল কাসেম সোলাইমানিঃ দুনিয়ার এক নম্বর সেনাপতি [2019]

0

এ মুহূর্তে বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত সমরবিদ কে? এ প্রশ্নের উত্তরে বহুমত থাকবে এটাই স্বাভাবিক। তবে এর সম্ভাব্য একটা উত্তর হতে পারে সিআইএ ও মোসাদের হিটলিস্ট। এই দুই সংস্থার প্রতিপক্ষ হিসেবে বর্তমানে সর্বাগ্রে গুরুত্ব পাচ্ছেন জেনারেল কাসেম সোলাইমানি। নিজ দেশে ভক্তদের কাছে যাঁর পরিচিতি হাজি কাসেম নামে। শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, পুরো সমরজগতের বিশেষ মনোযোগে রয়েছেন তিনি এখন।

জেনারেল কাসেম সোলাইমানি
জেনারেল কাসেম সোলাইমানি

আইআরজিসি নামে পরিচিত ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড ক্রপসের একজন কমান্ডার সোলাইমানি। তবে অলিখিতভাবে তাঁর পদমর্যাদা দেশটির যেকোনো সামরিক কর্মকর্তার ওপরে। রেভল্যুশনারি গার্ডের ‘কুদস্ ফোর্স’ তাঁর নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হয়। ২১-২২ বছর হলো বাহিনীটি গড়ে তুলছেন তিনি। আন-কনভেশন্যাল যুদ্ধের জন্য তৈরি একটা বৃহৎ ‘স্পেশাল অপারেশান ইউনিট’ বলা যায় কুদস ফোর্সকে, যার প্রধান কর্মক্ষেত্র এখন ইরানের বাইরে। দেশটির বৈশ্বিক উত্থানে বর্শার ফলকে পরিণত হয়েছেন কুদস ফোর্সের সদস্যরা, যাঁদের ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যে ইতিমধ্যে সামরিক ভারসাম্যে পরিবর্তন ঘটিয়ে ফেলেছেন হাজি কাসেম। যে তৎপরতার তাপ লাগছে পৃথিবীর অন্যত্রও, বিশেষ করে অর্থনীতিতে।

বিশাল এক আন্তর্দেশীয় ছদ্মযুদ্ধ

‘কুদস’ শব্দের অর্থ ‘পবিত্র’। বোঝা যায়, সোলাইমানির এই বাহিনীর অগ্রযাত্রায় ধর্মীয় প্রণোদনা আছে। সেটা কতটা ইসলামের শত্রুর বিরুদ্ধে, আর কতটা শিয়া মতাদর্শের পরিসর বাড়াতে, তা নিয়ে বিতর্কও আছে। কিন্তু প্রতিনিয়ত নতুন নতুন ফ্রন্টে তৎপর দেখা যাচ্ছে ‘পবিত্র’ এই যোদ্ধাদের।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%b0%e0%a7%8b%e0%a6%a8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%a1-%e0%a6%85%e0%a6%aa%e0%a6%be%e0%a6%b8-%e0%a6%aa%e0%a7%83%e0%a6%a5%e0%a6%bf%e0%a6%ac%e0%a7%80%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ac/

 

সোলাইমানি তাঁর বাহিনীর পুরো কাজকর্মের জন্য জবাবদিহি করেন শুধু আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির কাছে। তাই ইরানিরাও ‘কুদস্ ফোর্স’-এর সংখ্যা ও সামর্থ্য নিয়ে সামান্যই ওয়াকিবহাল । এই ‘ফোর্স’-এর সঙ্গে কাজ করছে লেবাননের হিজবুল্লাহ, ফিলিস্তিনের হামাস ও ইসলামিক জিহাদ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের ‘ফাতেমিয়ুন’ আর ‘জাইনাবিয়ুন’ নামের মিলিশিয়া গ্রুপ এবং ইয়েমেনের হুতিরা । এর বাইরে সিরিয়া-ইরাকে শিয়াদের অনেক প্রশিক্ষিত বাহিনী রয়েছে ‘কুদস ফোর্স’-এর অধীনে। অর্থাৎ ইরানের বাহিরে যেসব দেশে ইরান প্রতক্ষ-পরোক্ষ ভাবে তৎপরতা চালাচ্ছে তা সবই পরিচালিত হচ্ছে জেনারেল কাসেম সোলাইমানির কমান্ডের আওতায়। আর বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ইরানে কতবড় ভুমিকায় রয়েছে তা পুরোবিশ্ব জানে। ৪০ বছর ধরে পশ্চিমা অবরোধে জর্জরিত থাকার পরও ইরান বর্তমানে গোটা মধ্যপ্রাচ্চের পরিস্থিতিই পাল্টে দিয়েছে।

এত চাপের ভেতরে থেকেও দমে যাবার পরিবর্তে ইরান সুপার পাওয়ার আমেরিকা, সোভিয়েত ইউনিয়নের মত নিজেই একটি পোল তৈরি করে ফেলেছে। ইরানের এই পোলে রয়েছে ইয়েমেনের হুথি যোদ্ধারা, সিরিয়া সরকার, লেবাননের হিজবুল্লাহ আর্মি, লেবানন সরকারের একটি বড় অংশ, বাহারাইনের বিশাল জনগোষ্ঠি এবং বেশ কিছু স্বাধীনতাকামী সংগঠন। এছাড়া মিত্র হিসেবে রয়েছে ফিলিস্তিনের হামাস, আফগানিস্থানের তালেবান, চীন, রাশিয়া, লেবানন, ইরাক, কাতার, তুরস্ক, ভারত এবং পাকিস্তান। সম্ভবত মিয়ানমারও ইরানের মিত্র, কারন তাদের ভেতর অনেক বানিজ্য চলছে।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্চে ইরান পন্থিরা ছাড়া ইসরাইলের আর কোনো শত্রু নেই। ইসরাইলের পুরোনো শত্রু ইরাক এবং লিবিয়াকে আমেরিকাই ধ্বংস করে দিয়েছে। মিশরের ক্ষমতা দখল করে রেখেছে ইসরাইল পন্থি সৈরশাষক সিসি। আর সৌদি, আরব-আমিরাত তো আগে থেকেই আমেরিকা-ইসরাইলের পরম ভক্ত। ফলে মধ্যপ্রাচ্চে ইসরাইলের শত্রু বলতে কেবল বাকি রয়েছে ইরান সমর্থিত শিয়া পন্থিরা। আর তাদের বিরুদ্ধেই ইসরাইল এখন লেবানন এবং সিরিয়ায় যুদ্ধ করছে। আর বর্হিবিশ্বে ইরানের এসব এক্টিভিটির মুলেই রয়েছে জেনারেল কাসেম সোলাইমানী। গোটা মধ্যপ্রাচ্চ থেকে শুরু করে আফগানিস্থান পর্যন্ত কাসেম সোলাইমানি পরিচালিত এসব সুগভির এবং শক্তিশালী তৎপরতার কারনে সোলাইমানি এখন শত্রুর কাছে সবচেয়ে বড় আতংকের বিষয়ে পরিনত হয়েছে।

সোলাইমানির কুদস ব্রিগেট রীতিমতো আন্তমহাদেশীয় চরিত্রের যোদ্ধাদল। সঠিক আকার ও সদস্যসংখ্যা আঁচ করা প্রকৃতই কঠিন। ইরান এদেরকে বলছে ‘প্রতিরোধের অক্ষশক্তি’। অন্তত ১৫-২০টি দেশে সরাসরি কিংবা সীমিত পরিসরের ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব, আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশের স্বার্থের বিপরীতে ছদ্মযুদ্ধে লিপ্ত এরা। সমরবিদ্যায় এ রকম যুদ্ধকে বলে ‘বড়যুদ্ধের মধ্যবর্তী ছোট ছোট অভিযান’। সৌদি আরব তার তেলক্ষেত্রে অজ্ঞাত উৎস থেকে পরিচালিত এ রকম এক অভিযান দেখেছে গত ১৪ সেপ্টেম্বর, যা বিশ্ব অর্থনীতিকেও খানিকটা ঝাঁকুনি দিয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের অন্তত ৫ ভাগ তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

যুক্তরাষ্ট্র কেন কাসেম সোলাইমানিকে আক্রমণ করে না?

আমেরিকার বনেদি জার্নাল ‘ফরেন পলেসি’ এ বছর বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন পেশার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের যে তালিকা করেছে, তাতে সমর খাতে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে প্রথম স্থানে রাখা হয় । পাশাপাশি এও সত্য, আমেরিকার প্রশাসন এই জেনারেলকে একজন ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবেই দেখে । তাঁকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের জারি করা একাধিক নিষেধাজ্ঞা আছে। এও মনে করা হয়, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞা মূলত সোলাইমানির তৎপরতা নিয়ে ক্ষোভ থেকে।

তাঁকে নিয়ে সৌদদের বিরাগও সকলের জানা। যুক্তরাষ্ট্র এই বিরাগকে যৌক্তিক মনে করে। তবে ইসরায়েলের গোয়েন্দাদের অনুযোগ, অন্তত দুবার আমেরিকা সোলাইমানিকে সুযোগ পেয়েও মারেনি। কারণ, ‘দায়েশ’কে নিয়ন্ত্রণে সোলাইমানির অপরিহার্যতা। তাঁকে হত্যা করা মানেই ইরানের সঙ্গে সব ধরনের সামরিক সহযোগিতার পথ বহুদিনের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়া, যা ইরাক ও আফগানিস্তানে ওয়াশিংটনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে অসুবিধাজনক হতে পারে। সোলাইমানির প্রতি আঘাতকে আলী খামেনি সরাসরি তাঁর ওপর আঘাত হিসেবেই যে নেবেন, সেটা সিআইএর জানা।

তাই ওসামা বিন লাদেনের হদিস জেনে যত সহজে অভিযানে যাওয়া যায়, সোলাইমানিকে নিয়ে সেটা সম্ভব নয়। যে যুদ্ধ শেষ করা যাবে না, তেমন যুদ্ধে ওয়াশিংটনের রাজনীতিবিদদের আগ্রহ আগের চেয়ে অনেক কম। সিআইএর সূত্রে এ তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকদের জানা, ইরানিরা বছরের পর বছর প্রতি রাতে ঘুমাতে যায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার শঙ্কা নিয়ে। সোলাইমানিকে খুন করা হবে অসন্তোষের সেই আগুনে ঘি ঢেলে দেওয়ার মতো।

হাজি কাসেম সোলাইমানি ইরান সীমান্ত টেনে এনেছেন ইসরায়েলের পাশে

সোলাইমানিকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে ইসরায়েলের মাথাব্যথাই বেশি। ইরানের এই জেনারেলকে তারা প্রকাশ্যেই ‘এক নম্বর শত্রু’ বলে। ইসরায়েল মনে করছে লেবানন, সিরিয়া, গাজা থেকে সোলাইমানির অদৃশ্য সৈনিকেরা ক্রমে তাদের ঘিরে ফেলছে। এভাবে ইরান সীমান্তকে সোলাইমানি টেনে নিয়ে এসেছেন ইসরায়েলের বাড়ির পাশে। অথচ তেহরান-জেরুজালেমের মাঝে দূরত্ব ১৫০০ কিলোমিটারের বেশি।

প্রতিবেশী সিরিয়ায় ইরানের কুদস ফোর্সের সামরিক দপ্তর থাকা ইসরায়েলের কাছে তেহরানের পারমাণবিক অস্ত্রের মতোই অসহনীয় কিছু। ইসরায়েলের জেনারেলরা এটা কখনোই গোপন করেন না যে মোশাদের হিটলিস্টে সোলাইমানি সর্বাগ্রেই আছেন। ইরানেরও তা অজানা নেই। হয়তো এ কারণেই আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সোলাইমানিকে অভিহিত করেন ইরানের ‘জীবন্ত শহীদ’ হিসেবে।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%8f%e0%a6%b8%e0%a6%be%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%9f-%e0%a6%ac%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%9f%e0%a7%87%e0%a6%b2-%e0%a6%b0%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%ab%e0%a7%87%e0%a6%b2/

কোনো কোনো ইসরায়েলি জেনারেল অবশ্য কাসেম সোলাইমানির পরিবর্তে কেবল কুদস ফোর্সকে আক্রমণের পক্ষে। তাদের ভাষায়, ‘ঝোপ-জঙ্গল পরিষ্কার করলে মশা এমনিতেই মরে যায়। মশা মারা থেকে জঙ্গল পরিষ্কার করা ভালো।’ তবে অনুমান করা হয়, ব্যক্তিগতভাবে সোলাইমানির ব্যাপারে কঠোর হতে ইসরায়েলের ওপর সৌদদের চাপ আছে। ‘নিউইয়র্ক টাইমস’ ২০১৮ সালের নভেম্বরে এমন রিপোর্টও করেছে যে, সাংবাদিক খাসোগিকে হত্যার অন্তত এক বছর আগে একই খুনে দল ইসরায়েলের এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে মিলে সোলাইমানিকে নিয়ে অনুরূপ কিছু পরিকল্পনা করছিল। এ কাজের বাজেট ছিল দুই বিলিয়ন ডলার। লক্ষ্য হাসিলে ভাড়াটে কোনো শক্তিকে ব্যবহারের কথা ছিল। অজ্ঞাত কারণে তা সফল হয়নি।

ইসরায়েলের জন্য বিপুল বিরক্তি

এ বছরের মার্চে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি জেনারেল সোলাইমানিকে ‘অর্ডার অব জুলফিকার’ পদক দিয়েছেন। বিপ্লব-উত্তর ইরানে এ খেতাব তিনিই প্রথম পেলেন। সরকারিভাবে এ অনুষ্ঠানের যে সংবাদ প্রচারিত হয়, তার ছবিতে দেখা যাচ্ছিল সোলাইমানির ঘাড়ে চুম্বন করছেন খামেনি। শিয়া সংস্কৃতিতে এ রকম ছবির প্রতীকী তাৎপর্য বিপুল।

ইরান, ইরানের বন্ধু এবং দেশটির শত্রু সবাই এটা এখন বিশ্বাস করে, মূলত কাসেম সোলাইমানির কারণেই দেশটির সামরিক প্রভাবের পরিসর বাড়ছে। ইরাকে তাদের সামরিক উপস্থিতি বিপুল। ফলে তারা এখন সৌদি সীমান্তের কাছাকাছি আছে। সৌদদের সঙ্গে বিশ্বজুড়ে ইরানের যে ছদ্মযুদ্ধ চলছে, তার প্রধান স্থপতি এই জেনারেল। আবার ইরাকে আইএস যে সাময়িকভাবে হলেও পরাস্ত, এককভাবে তার বড় কৃতিত্ব সোলাইমানিকেই দিতে হবে।

আসাদকে রক্ষার কৃতিত্বও তাঁর। বিরোধী দলের সঙ্গে আসাদের সংঘাতকে সোলাইমানি ইরান বনাম ইসরায়েল সংঘাতে পরিণত করে নিয়েছেন। কুদস ফোর্স মাঝেমধ্যেই উত্তর ইসরায়েলে মিসাইল ছুড়ে দেশটির বোমাবর্ষণের জবাব দিচ্ছে। তেল আবিব জানে, তাদের জন্য এ রকম বিরক্তি আরও বাড়বে।

সিরিয়া নিয়ে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দেওয়ার পাশাপাশি লেবাননে হিজবুল্লাহরও প্রধান অভিভাবক কাসেম সোলাইমানি। ইসরায়েলের পুনঃ পুনঃ বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও হিজবুল্লাহ অতীতের চেয়ে অনেক শক্তিশালী এখন। পুরোপুরি ইরানের হয়ে কাজ করছে তারা। এ ধরনের মৈত্রীকে শুধু শিয়াবাদ দিয়ে বোঝা যাবে না। আফগানিস্তানের ক্ষেত্রে আমরা দেখব, সুন্নি তালেবানদের সঙ্গেও অতীতের শত্রুতার সম্পর্ক সম্পূর্ণ পাল্টে নিতে পেরেছেন কাসেম সোলাইমানি। কুদস ফোর্সকে তালেবানদের অন্যতম মিত্র মনে করা হয় এখন, যা কূটনীতিবিদের কাছে গভীর এক বিস্ময় তৈরি করেছে। মিত্রতা স্থাপনের ফলে তালেবানরা এখন ইরানের কাছ থেকেও সামরিক সহায়তা লাভ করছে।

কাসেম সোলাইমানির ‘অক্ষশক্তি’ যে ক্রমে সামরিক পরিসর ছেড়ে রাজনীতিতে প্রভাবশালী হয়ে উঠছে, তারও বহু নজির আছে । হিজবুল্লাহ এক সময় আন্ডারগ্রাউন্ডে থাকলেও এখন তাদের নির্বাচিত প্রতিনিধি ছাড়া লেবাননে সরকার গঠন আটকে যায়। ইরাকে ‘পপুলার মবিলাইজেশন ফোর্স’ নামে পরিচিত সোলাইমানি প্রভাবিত মিলিশিয়াদের অনেক সংগঠক পার্লামেন্টে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন এবং তাঁরা সেখানে গুরুত্বপূর্ণ এক ‘ব্লক’। ইয়েমেনে হুতিদের সশস্ত্র সংগঠন ‘আনসারুল্লাহ’ সরাসরি একটা রাজনৈতিক শক্তিও বটে। সোলাইমানির ধারাবাহিক সফলতার সবচেয়ে বিপজ্জনক ও ক্ষতিকর দিক হলো, এতে ছদ্মযুদ্ধের ন্যায্যতা তৈরি হচ্ছে এশিয়া-আফ্রিকার অন্যত্রও।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%9c%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%81%e0%a6%a8-%e0%a6%97%e0%a7%81%e0%a6%97%e0%a6%b2%e0%a7%87-%e0%a6%b8%e0%a6%ab%e0%a6%9f%e0%a6%93%e0%a7%9f%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%b0-%e0%a6%87%e0%a6%a8/

সংগত কারণেই কাসেম সোলাইমানির কৌশল মোকাবিলায় ইরানের বিরুদ্ধশক্তিও হাতগুটিয়ে বসে নেই। ইসরায়েল, সৌদি আরব, যুক্তরাষ্ট্র মিলে ইরানের বিরুদ্ধে পাল্টা অক্ষশক্তি দাঁড় করাতে কাজ করে যাচ্ছে। ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে কাবু করতে ইসরায়েলের উৎসাহেই অবরোধ চলছে দশকের পর দশক। ২০১৬ থেকে পরবর্তী দুই বছর বাদ দিলে ১৯৭৯ সাল থেকে গত প্রায় ৪০ বছর ইরানের অর্থনীতিকে অবরোধে ফেলে কাবু করার চেষ্টা চলেছে। সামরিক সক্ষমতা কমাতে ইরানের বহু বিজ্ঞানীকে চোরাগোপ্তা কায়দায় হত্যা করা হচ্ছে নিয়মিতভাবে। এর পাশাপাশি ‘মুজাহেদিন-ই খালক’, ‘জয়েস উল-আদিল’ নামের বিভিন্ন সংগঠন ইরানের অভ্যন্তরে অন্তর্ঘাত চালাতে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছে দেশটির শত্রুদের কাছ থেকে। জেনারেল সোলাইমানি মনে করেন, এ রকম জটিল পরিস্থিতিতে ইরানকে তার অস্তিত্বের জন্যই সীমান্তের বাইরে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক উপস্থিতি বাড়াতে হবে। তিনি শত্রুর সঙ্গে চোখে চোখ রেখে আচরণের পক্ষে।

সামনাসামনি দেখলে এ ধরনের বিপজ্জনক চিন্তার মানুষটির যে বড় বৈশিষ্ট্যটি চমকে দেয় তা হলো, অতি সাদাসিধা জীবনযাপন। তারকা জেনারেলদের শরীরী ভাষায় যে ঔদ্ধত্য থাকে, কাসেম সোলাইমানি একদম তার বিপরীত। কেবল এ কারণেই, শিয়া মিথে ভরপুর ইরানের সমাজে অনেকে তাঁর মাঝে দেখেন হজরত আলীর (রা.) বিশ্বাসী সহযোদ্ধা মালিক আল-আশতারের ছায়া। সরাসরি রণাঙ্গনে ঘুরতে পছন্দ করেন এই জেনারেল। সামরিক পোশাকে নয়, সাধারণ একটা জ্যাকেট পরা অবস্থায় দেখা যায় তাঁকে অধিকাংশ সময় ।

খামেনি ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ রাজনীতিবিদদের সঙ্গেও তাঁর মেলামেশা কম। ২০১৭ সালে আমন্ত্রণ জানানো হলেও তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নির্বাচন করতে অস্বীকার করেন। ইরানের অন্যান্য প্রধান নীতিনির্ধারকের মতো ধর্মীয় শিক্ষায়ও তিনি উচ্চশিক্ষিত নন। কথিত আছে, জেনারেল সোলাইমানির সামরিক প্রশিক্ষণের মেয়াদও ছিল মাত্র ছয় সপ্তাহ। মূলত ‘জাতীয় স্বার্থে’ ভূকৌশলগত সামরিক চিন্তার দক্ষতাই তাঁকে এ মুহূর্তে জাতীয় এক বীরে পরিণত করেছে ।

তবে ইরানিরা জানে, ইতিহাসের মালিক আল-আশতার বিষ প্রয়োগে নিহত হয়েছিলেন। কাসেম সোলাইমানির জীবন নিয়েও তাদের ভীতির কমতি নেই। তাঁর কাজে বহু বিশ্বশক্তির স্বার্থে আঘাত লেগেছে। গোপন অভিযানে সবচেয়ে দক্ষ বিশ্বের অন্তত দুটি সংস্থার পাশাপাশি কাসেম সোলাইমানির প্রতিপক্ষ হিসেবে রয়েছে আইএসের খুদে সেলগুলোও। এরূপ যেকোনো তরফের আক্রমণ সফল হলে ইসরায়েলের সঙ্গে সিদ্ধান্তসূচক একটা সংঘর্ষে জড়ানোর আজন্ম গোপন অভিলাষ কাসেম সোলাইমানির হয়তো অপূর্ণই থাকবে।

তবে ৬২ বয়সী এই জেনারেল ইতিমধ্যে ইরানের জন্য তাঁর অবদান সম্পন্ন করে ফেলেছেন বলেই ধরা যায়। যেকোনো ‘দেশপ্রেমিক যোদ্ধা’র জন্য এটা তৃপ্তিকর। এইরূপ তৃপ্তি অবশ্য অনন্তযুদ্ধের এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ইরানিদের প্রিয় ‘হাজি কাসেম’ তাঁদের দেশকে মধ্যপ্রাচ্যে সে রকম এক যুদ্ধের ভেতরও টেনে নিয়ে গেছেন, একটা জাতিকে যে রকম যুদ্ধের রেশ বয়ে চলতে হয় প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে।

আমাদের সাইটের আর্টিকেলগুলো ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। লেটেস্ট আর্টিকেলগুলো ইমেইলে পেতে আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন।

© প্রথম আলো & অনির্বাণ

মারিয়ানা ওয়েব সম্পর্কিত সব গোপন তথ্য [2020]

0

মারিয়ানা ওয়েব পৃথিবীর রহস্যময় গুপ্ত তথ্য ভান্ডার। মারিয়ানা ওয়েব কি জিনিস তা বুঝতে হলে আপনাকে প্রথমে ওয়েভ বা ইন্টারনেটের তথ্যভান্ডার সম্পর্কে জানতে হবে। ইন্টারনেটের তথ্য ভান্ডারকে মুলত ৩ ভাগে ভাগ করা যায়। যথা:

  1. সারফেস ওয়েব
  2. ডিপ ওয়েব
  3. ডার্ক ওয়েব

সারফেস ওয়েব

ইন্টারনেটের যেসব তথ্য সবার জন্য সম্পূর্ন ফ্রি, এবং সবার জন্য উন্মুক্ত সেগুলো থাকে সারফেস ওয়েভে। আমরা গুগল বা অন্য কোনো সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে যেসব তথ্য ইন্টারনেট থেকে সংগ্রহ করতে পারি তা সবই সারফেস ওয়েবের অন্তর্ভুক্ত।

ডিপ ওয়েব

ইন্টারনেটে থাকা ব্যাক্তিগত তথ্য, প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত তথ্য, সিকিউরিটি ব্যাবস্থা যুক্ত তথ্য সমূহ হচ্ছে ডিপ ওয়েবের অন্তর্ভুক্ত। ডিপ ওয়েবের তথ্য যে কেউ চাইলেই ব্রাউজ করতে পারবে, তবে এর এক্সেস আপনার কাছে থাকতে হবে। ডিপ ওয়েবের তথ্য গুগলে ইনডেক্স হয় না। এই ওয়েবের তথ্য গুলো সিকিউরিটি ব্যাবস্থা দ্বারা নিরাপদ করে রাখা হয়। অফিস আদালতের গুরুত্বপূর্ন তথ্য, সরকারি তথ্য, ব্যাক্তিগত গোপনে সংরক্ষিত তথ্য ইত্যাদি সবই ডিপ ওয়েবে জমা থাকে। এই ডিপ ওয়েবের তথ্যকে হ্যাকাররা চাইলে হ্যাক করতে পারে। ডিপ ওয়েবের আকার খুবই বড়, ইন্টারনেট জগতের ৮০% তথ্যই ডিপ ওয়েবে সংরক্ষিত থাকে।

ডার্ক ওয়েব

এটি হচ্ছে ডিপ ওয়েবেরই উচু মাত্রার সিকিউরিটি যুক্ত অংশ। ডার্ক ওয়েবের সিকিউরিটি ব্যাবস্থা খুবই শক্তিশালী। একে তৈরি করা হয়েছে তথ্যকে হ্যাকারদের নাগালের বাহিরে রাখতে। বিভিন্ন দেশের গোয়েন্দা সংস্থা সমূহের তথ্য, অতি গুরুত্বপূর্ন সরকারি তথ্য, অতি গুরুত্বপূূর্ন গবেষণা, রিসার্চের তথ্য, সহ বিভিন্ন ধরনের গুরুত্বপূর্ন ও অতি সংবেদনশীল তথ্য ডার্ক ওয়েবে সংরক্ষিত থাকে। এমনকি বড় বড় মাফিয়া গ্রুপও ডার্ক ওয়েবের মাধ্যমে নিজেদের যোগাযোগ অব্যাহত রাখে। ডার্ক ওয়েবে সব রকম অবৈধ কার্যকলাপ চলে। এখানে যে কেউ খুনী ভাড়া করতে পারে, মাদক এর পাচার /কেনাবেচা করতে পারে। আরও হয় পর্নোগ্রাফী, মানুষের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ বিক্রি ইত্যাদি সব অবৈধ এক্টিভিটি।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%ae%e0%a6%be%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%9f%e0%a7%87-%e0%a6%95/

এই ডার্ক ওয়েব হ্যাক করা ভয়াবহ কঠিন হলেও হ্যাক যে হয়না তা কিন্তু নয়। ২০১৭ সালে চীনা হ্যাকাররা আমেরিকান ডার্ক ওয়েবের সিকিউরিটি ব্যাবস্থা হ্যাক করে F-35 স্টিলথ ফাইটারের অতি গুরুত্বপূর্ন টেকনোলজি সম্পর্কিত ৯৩ জিবি তথ্য হাতিয়ে নিয়ে যায়।

 

এতো গেলো সারফেস ওয়েব, ডিপ ওয়েব এবং ডার্ক ওয়েবের পরিচিতি। কিন্তু জেনে অবাক হবেন যে, এই ডার্ক ওয়েবের চেয়েও আরো অনেক অনেক বেশি শক্তিশালী সিকিউরিটি যুক্ত একটি তথ্য ভান্ডার রয়েছে, যার নাম মারিয়ানা ওয়েব। এই মারিয়ানা ওয়েবের সিকিউরিটিকে কেবল ‘অনেক শক্তিশালী’ বললে কম হয়ে যায়। বলা উচিত ভয়াবহ, অকল্পনীয় শক্তিশালী।

মারিয়ানা ওয়েব হলো ইন্টারনেটের এক রহস্যময় অন্ধকার জগৎ। এটি ইন্টারনেটের সবচেয়ে গভিরতম স্থান, এর পরে আর কিছুই নেই। মারিয়ানা ওয়েবের নামটি এসেছে মারিয়ানা ট্রেঞ্জ থেকে। মারিয়ানা ট্রেঞ্জ হল প্রশান্ত মহাসাগর এর সবচেয়ে গভীর তম স্হান [গভীরতা প্রায় ১১ কি.মি]। এটি সমুদ্রের এমন একটি স্হান যা পুরো পৃথিবীর সবচাইতে গভীরতম স্হান। এই নাম থেকেই এর নাম হয়েছে মারিয়ানা ওয়েব।

মারিয়ানা ওয়েব-কে কারা তৈরি করেছে, কিভাবে তৈরি করেছে, কাদের কাছে এই ওয়েবে ঢুকার এক্সেস রয়েছে তা সম্পূর্ন অজানা। তবে ধারনা করা হয় একে পরিচালনা করে ইল্যুমিনাতির সদস্যরা [শয়তানের পূজারী]। তারা মারিয়ানা ওয়েব-এ তাদের সমস্ত তথ্য সংরক্ষন করে রাখে এবং এর মাধ্যমে তারা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ রক্ষা করে।

মারিয়ানা ওয়েব  সম্পর্কে আগে সাধারন জনগন কিছুই জনতো না। কিন্তু অতি সাধারন একটি ঘটনার মাধ্যমে ম্যারিয়ানা ওয়েবের কথা জনসম্মুখ্যে প্রকাশ হয়ে যায়। ঘটনাটা ছিলো এরকম,

কয়েক বছর আগের কথ, একজন সাধারন ওয়েব ডেভেলপার কাজের জন্য ফ্রিল্যান্সিং সাইটে ব্রাউজ করছিলো। তার কাজ হলো টাকার বিনিময়ে ওয়েবসাইট ডিজাইন করা। ব্রাউজিং এর এক পর্যায়ে ওই ব্যক্তিকে একজন লোক অপ্রত্যাশিত রকম উচ্চ মুল্যের একটি কাজ অফার করে। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো যেই ব্যাক্তিটি এই কাজটি অফার করেছিলো তার আইডির নাম ছিলো ‘450w’ [হয়ত কোনো কোডনেইম]।

রহস্যজনক ব্যাক্তিটি ওয়েব ডেভেলপার ব্যাক্তিটিকে জাস্ট একটা ওয়েবসাইটকে রি-ডিজাইন করানোর বিনিময়ে প্রতি সপ্তাহে ৫০ হাজার ডলার দেয়ার অফার করে! তখন ওই ওয়েব ডেভেলপার এর মনে হয় এটা নিস্চই কোন স্ক্যাম বা ধোকাবাজির মত কিছু হবে হয়তবা, কারন সাধারন একটা কাজের জন্য এত বিশাল অংকের অর্থ কেউ কখনোই দিতে চাইবে না। তবু তার টাকার দরকার ছিলো বলে  অর্ডারটি সে নিয়ে নিল।

মারিয়ানাস ওয়েব বা ডার্ক ওয়েব

রহস্যময় ব্যাক্তিটি সেই ওয়েব ডেভেলপারকে একটি প্রাইভেট সার্ভারের ভেতর একটি ওয়েবসাইট রি-ডিজাইনের কাজ করতে দেয়। কাজের প্রয়োজনে রহস্যময় লোকটি তাকে ওই সার্ভারের কিছু কিছু স্থানের এক্সেস দিয়েছিলো।

প্রায় ৯ সপ্তাহ ধরে কাজটি চলেছিলো। পুরো ব্যাপারটিই ছিলো অদ্ভুত ধরনের। রহস্যময় লোকটি তার সাথে কোনো কথা বলতো না, সুধু কাজের অগ্রগতি দেখতো। এভাবে কাজ করতে করতে একটা সময় তার জানার ইচ্ছা জাগল যে, সে কোন সার্ভারে কি কাজ করছে। তার কাছে ওই সার্ভারের কিছু অংশের এক্সেস ছিল, সেই জায়গা গুলোতে সে ভিজিট করা শুরু করে। এভাবে ভিজিট করতে করতে সে ওই সার্ভারে অদ্ভুৎ, অবিশ্বাস্য ধরনের অনেক কন্টেন্ট দেখতে পায়। মানুষের উপর বিভিন্ন ধরনের এক্সপেরিমেন্ট এবং তার ফলাফল সহ অনেক ধরনের রহস্যময় কন্টেন্ট ছিলো সেখানে। এমনকি ওই সার্ভার থেকে সে কিছু ফাইলও ডাউনলোড করে নেয়।

ফাইলগুলোর ভেতরে কিছু ভিডিও ক্লিপও ছিলো। কমেন্টে সেই ভিডিও ক্লিপের ২টি অংশ দিয়েছি। একটি ভিডিও ক্লিপে কিছু বাইনারি কোডও দেয়া ছিলো। ভিডিও এর শেষে সেই বাইনারি কোডগুলোকে ডিকোড করে দেয়া হয়েছে।

মারিয়ানা ওয়েবে কিভাবে ঢুকা যায়?

যেকোনো সাধারন কম্পিউটার থেকেই চাইলে মারিয়ানা ওয়েব-এ ঢোকা যাবে। তবে এর জন্য অবশ্যই ম্যারিয়ানা ওয়েবের এড্রেস এবং এক্সেস আপনার কাছে থাকতে হবে।  তবে এক্সেস যদি না থাকে, তাহলে ঢুকার কথা চিন্তা করেও লাভ নেই। এখানে সাধারন কোন এথিক্যাল বা হোয়াইট হ্যাট হ্যাকারের কোন স্হান নেই। কারন ম্যারিয়ানা ওয়েব প্রাইভেট সার্ভারে সংরক্ষিত, তাই এর এড্রেস খুজেই পাওয়া যাবে না। যার এড্রেসই পাওয়া যায়না, তাকে হ্যাক করাও প্রশ্নাতিত। আজ পর্যন্ত কোনো হ্যাকারই ম্যারিয়ানা ওয়েবে ঢুকার ক্ষেত্রে সফল হয়নি।

আর এখানে আপনার করার মত কোন কিছুও নেই। তাই সাধারন মানুষের মারিয়ানা ওয়েব নিয়ে ঘাটাঘাটি, ঢোকার চেষ্টা  বা এসবের ভেতর না জড়ানোটাই ভালো।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%ab%e0%a7%8d%e0%a6%b0%e0%a6%bf%e0%a6%b2%e0%a7%8d%e0%a6%af%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a7%8d%e0%a6%b8%e0%a6%bf%e0%a6%82-%e0%a6%95%e0%a6%bf%e0%a6%ad%e0%a6%be%e0%a6%ac%e0%a7%87-%e0%a6%95%e0%a6%b0%e0%a6%ac/

ম্যারিয়ানা ওয়েব কি হ্যাক করা সম্ভব?

হ্যা, তাত্বিক ভাবে ম্যারিয়ানা ওয়েবকেও হ্যাক করা যাবে। তবে তার জন্য কোয়ান্টাম কম্পিউটারের প্রয়োজন হবে। কোয়ান্টাম কম্পিউটার হলো একটি আল্ট্রা এডভান্স কম্পিউটার সিস্টেমের থিউরি। এর প্রোসেসিং স্পীড আমাদের সাধারন কম্পিউটার থেকে কয়েক হাজার গুণ বেশী শক্তিশালী। সাধারন কম্পিউটার যেখানে বাইনারি ম্যাথোডে কাজ করে, সেখানে কোয়ান্টাম কম্পিউটার কাজ করে কোয়ান্টাম ম্যাট্রিক্সের উপর ভিত্তি করে। পেন্টাগন বা নাসার কাছে থাকা বিশ্বের সেরা সুপার কম্পিউটার গুলোও কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কাছে খেলনা সমতুল্য। জেনে অবাক হবেন যে, মাত্র ৪টি কোয়ান্টাম কম্পিউটার দিয়ে সম্পূর্ণ আমেরিকার কম্পিউটারের চাহিদা পূরন করা সম্ভব!

একমাত্র কোয়ান্টাম কম্পিউটার দ্বারাই বিশ্বের সমস্ত সার্ভার ঘেটে ম্যারিয়ানা ওয়েবের এড্রেস খুজে বের করে তার অতি শক্তিশালী সিকিউরিটি ব্যাবস্থা ধ্বংস করে তার এক্সেস গ্রহন করা সম্ভব হবে।

তবে আসল কথা হলো, কোয়ান্টাম কম্পিউটার একটা থিউরি মাত্র, এখনো এটি তৈরি করা সম্ভব হয়নি। কিছুদিন আগে গুগল এই ধরনের একটি কম্পিউটার বানিয়েছিলো, কিন্তু বিজ্ঞানীরা বলেছে এটা কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কাতারে পরেনা।

বিশ্বে মাত্র ৪ টি দেশ কোয়ান্টাম কম্পিউটার নির্মানের ক্ষেত্রে একটু একটু সাফল্য পেতে শুরু করেছে। বাকিরা সবাই গবেষণা আর স্টাডির ভেতরেই সীমাবন্ধ। সেই ৪টি দেশ হচ্ছে জাপান, চীন, আমেরিকা এবং ইরান।

আমাদের সাইটের আর্টিকেলগুলো ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। লেটেস্ট আর্টিকেলগুলো ইমেইলে পেতে আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন।

© ইন্টারনেট

তারিম মমির ইতিহাস [1978]

0

পৃথিবীর হাজার বছরের ইতিহাসের মাঝে চীন সাম্রাজ্যের ইতিহাস অন্যতম সমৃদ্ধ। এর পেছনে মূল কারণ হলো চীনের ইতিহাস সংরক্ষিত আছে চীনের পথে ঘাটে, অলিতে-গলিতে, দেয়ালের কারুকার্যে, ভাস্কর্যে এবং মন্দিরের বেদিতে। এছাড়াও বিখ্যাত পণ্ডিত এবং পরিব্রাজকদের ব্যক্তিগত নথিপত্রে চীনের ইতিহাস বিস্তারিতভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যদি পৃথিবীর বাকি ইতিহাসে ফাঁকি থাকার বিন্দুমাত্র অবকাশও থাকে, সেটা চীনের ক্ষেত্রে কখনও সম্ভব নয়।

কিন্তু ১৯৭৮ সালের দিকে চীনের তারিম অববাহিকা অঞ্চলে বেশ কিছু লাশের সন্ধান পাওয়া যায়। ইতিহাসবিদদের কাছে লাশগুলো ‘তারিম মমি’ নামে পরিচিতি লাভ করে। চীনের ঝিংঝিয়াং প্রদেশে আবিষ্কৃত তারিম মমিগুলো প্রায় ৪ হাজার বছর পুরাতন। গবেষণাগারে পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বিজ্ঞানীরা যা জানতে পারলেন, তা এর আগে কেউই জানতো না। এমনকি ইতিহাসবিদরাও দ্বিধায় পড়ে গেলেন। কারণ মমির গল্পের সাথে মিলছে না ইতিহাসের উপাখ্যান। চীনের সমৃদ্ধ ইতিহাসের মুকুটে সূক্ষ্ম খাদ হয়ে আবির্ভূত হলো তারিম মমি।

তারিম মমি আবিষ্কার

১৯৭৮ সালের ঘটনা। চীনের ঝিংঝিয়াং অঞ্চলে অবস্থিত তারিম অববাহিকায় প্রত্নতত্ত্বের সন্ধানে অভিযান পরিচালনা করেন চীনা গবেষক ওয়াং বিংঘুয়া। সেই অভিযানে ঘটনাক্রমে তিনি মাটিতে উল্টানো একটি নৌকা আবিষ্কার করেন। কৌতূহলী বিংঘুয়া নৌকা ফের সোজা করতেই বেরিয়ে আসে কয়েকটি লাশ। নৌকাটি মূলত একটি ‘সমাধিক্ষেত্র’ ছিল। আশ্চর্য ব্যাপার হলো, লাশগুলো ছিল প্রায় অক্ষত। তিনি তার এই অনুসন্ধানের কথা কর্তৃপক্ষকে জানান। এরপর আশেপাশের এলাকায় অভিযানের মাধ্যমে প্রায় ১০০টি লাশ উদ্ধার করা হয়। গবেষকদের মতে এর উৎপত্তি প্রায় চার হাজার বছরের পুরাতন হতে পারে।

http://www.trickbuzz.design/%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%87%e0%a6%9f%e0%a6%be%e0%a6%a8%e0%a6%bf%e0%a6%95%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%a4%e0%a7%8d%e0%a6%af-%e0%a6%98%e0%a6%9f%e0%a6%a8%e0%a6%be/

কী সর্বনাশ! এতদিন ধরে লাশগুলো অক্ষত থাকলো কীভাবে? প্রাচীন মিশরে লাশগুলো মমি বানিয়ে সংরক্ষণ করা হতো, ফলে মমির দেহ অক্ষত থাকতো বছরের পর বছর। কিন্তু এদের দেহ মিশরীয় মমির মতো ব্যাণ্ডেজে মোড়ানো ছিল না। কিন্তু এই লাশগুলো ছিল প্রাকৃতিক মমি। তাই এদের নাম দেয়া হয় ‘তারিম মমি’।

পরবর্তীতে গবেষণার মাধ্যমে জানা যায়, শুষ্ক আবহাওয়ার কারণেই মমিগুলো হাজার বছর ধরে অক্ষত ছিল। বিশেষ করে তারিম অববাহিকা অঞ্চলে অবস্থিত তাকলামাকান মরুভূমির আবহাওয়া প্রচণ্ড শুষ্ক। আবহাওয়ার শুষ্কতার কারণে লাশগুলোর দেহ পচন থেকে রক্ষা পায়। তবে গবেষকদের বিস্ময়ের কারণ ছিল অন্যদিকে। লাশগুলো দেখতে স্থানীয় চীনাদের মতো ছিল না।

এমনকি এশিয়া অঞ্চলের কোনো জাতির সাথে এদের কোনো মিল পাওয়া যায়নি। অক্ষত লাশগুলোর অনেকেরই চুল ছিল পশ্চিমাদের মতো সোনালী। এদের চোখের মণির রঙ ছিল ইউরোপীয়দের মতো নীল। এদের পরনের পোশাকও ছিল পশ্চিমাদের মতো। তাই তাৎক্ষণিকভাবে মমির উৎপত্তি নিয়ে কেউই একমত হতে পারলেন না। তাই মমিগুলো গবেষণার জন্য ইতিহাসবিদদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

অদ্ভুত মমির গবেষণা শুরু

গবেষণার শুরুতে মমিগুলোর কার্বন ডেটিং টেস্ট সম্পন্ন করার জন্য বেইজিং বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠানো হয়। টেস্টের ফলাফল অনুযায়ী জানা যায়, সেগুলো প্রায় ৩,৯৮০ বছর পুরাতন। এছাড়াও জিলিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে এর ডিএনএ টেস্টও সম্পন্ন করা হয়। সেটা নিয়ে আমরা একটু পরে আলোচনা করা হবে।

মমির ইতিহাস নিয়ে গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের চীনা ইতিহাসের অধ্যাপক ভিক্টর মেয়ার। তিনি তারিম মমি নিয়ে বেশ কয়েকটি জার্নাল প্রকাশ করেন। সেগুলো থেকে জানা যায়, বেশ কয়েকটি মমির মাথায় এক প্রকার টুপি পরা ছিল। সেগুলো প্রাচীন টাইরোলিয়ান টুপির সদৃশ। লাশের কফিনের ভেতর বেশ কিছু গুল্ম পাওয়া যায়। গুল্মগুলো প্রাচীনকালে ইউরোপে শেষকৃত্যে মঙ্গলের প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। আর নৌকার মাধ্যমে সমাধিস্থ করার রীতি ভাইকিংদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। মমিগুলোকে ভাইকিংদের মতো উল্টো নৌকার সাহায্যে সমাধিস্থ করা হয়েছিলো।

মমি প্রাপ্তিস্থানের আশেপাশে কোনো বসতির সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ থেকে বোঝা যায় এরা নৌকায় করে এই অঞ্চল দিয়ে ভ্রমণ করছিলেন। এক্ষেত্রে জানিয়ে রাখা ভালো, এই অববাহিকায় প্রাচীনকালে একটি ছোট নদী প্রবাহিত হতো। কিন্তু চার হাজার বছর পূর্বে যখন মমিগুলো জীবিত ছিল, তখন সেই নদীর অবস্থা মৃতপ্রায় ছিল।

সমাধিস্থলে তোখারিয়ান ভাষায় রচিত কিছু পাণ্ডুলিপি পাওয়া যায়। প্রাচীন চীনে তোখারিয়ান ভাষার প্রচলন থাকলেও ইউরোপের বেশ কিছু অঞ্চলের এর ব্যবহারের কথা জানা যায়। এছাড়াও মমিগুলো ককেশীয় ছিল বলে তিনি মনে করেন। মেয়ারের মতে, তাদের মাতৃভাষা ছিল ইন্দো-ইউরোপীয়। মমিগুলো দেখতে প্রাচীন ইউরোপীয়দের মতো ছিল।

এসব বিশ্লেষণ থেকে মমির ব্যাপারে বেশ কিছু তথ্য পরিষ্কার হয়ে যায়। ইতিহাসের পাতায় ঝিংঝিয়াং-এর আদিম অধিবাসী হিসেবে উইঘুর জাতির নাম থাকলেও, তাদের আগমন ঘটে প্রায় ৮৪২ খ্রিস্টাব্দের দিকে। অপরদিকে মমিগুলোর আগমন ঘটে প্রায় ২০০০ খ্রিস্টপূর্বে। অর্থাৎ চীনের ইতিহাস সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের সীমাবদ্ধতাকে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে এই মমিগুলো।

তারিমের স্থানীয় হিসেবে উজবেক, রুশ, কাজাখদের নাম উঠলেও কখনও পশ্চিমাদের ব্যাপারে ইতিহাসবিদরা কোনোরূপ আলোকপাত করেননি। তারিম মমি প্রাচীন চীনের সাথে পশ্চিমা সংস্কৃতির অপূর্ব মিশ্রণের কথা ইঙ্গিত করে, যা এর আগে জানা ছিল না। হতে পারে উইঘুরদের দেহে বয়ে চলেছে পশ্চিমা রক্ত, যা সম্পর্কে তারা অবগত নয়।

ডিএনএ টেস্টের ফলাফল

ইতিহাসবিদদের পাশাপাশি বিজ্ঞানীরাও রোমাঞ্চকর তথ্য নিয়ে হাজির হন। ড. হুই ঝাউয়ের নেতৃত্বে তারিম মমিগুলোর ডিএনএ টেস্ট সম্পন্ন করা হয়। তিনি টেস্টের ফলাফল নিয়ে BMC Biology নামক জার্নালে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, মমিগুলোর ডিএনএতে প্রাচীন ইউরোপীয় এবং সাইবেরিয়ানদের বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ লক্ষণীয়। এদের ডিএনএ-এর Y ক্রোমোজোম বর্তমান পূর্ব ইউরোপ এবং সাইবেরিয়া অঞ্চলের পুরুষদের Y ক্রোমোজোমের সদৃশ।

কিন্তু এর সাথে বর্তমান চীনাদের ডিএনএর কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে ড. লির উদ্যোগে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ নিয়ে গবেষণা শুরু হয়। গবেষণার মাধ্যমে মমিগুলো ইউরেশিয়ান বংশোদ্ভুত বলে প্রমাণিত হয়। মজার ব্যাপার হলো, মমিগুলোর ডিএনএর সাথে প্রাচীন ভারতীয়দের ডিএনএর খুব সামান্য মিল খুঁজে পাওয়া যায়। যদিও এর দ্বারা তেমন কিছুই প্রমাণিত হয় না।

ইংরেজিতে প্রচলিত একটি প্রবাদ আছে- ‘Dead Men tell no tale’। অর্থাৎ মৃতব্যক্তি কোনো গল্প বলে না। কে বলেছে বলে না? তারিম মমি দিব্যি এক হারানো চীনের গল্প শুনিয়ে বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দিলো। তবে তার গল্প এখনও শেষ হয়নি। গবেষণা চলছে। অদূর ভবিষ্যতে এই মমিগুলো আরো অজানা তথ্য প্রকাশের আমাদের আমাদের রোমাঞ্চিত করবে, সে ব্যাপারে কারো দ্বিধা নেই।

আমাদের সাইটের আর্টিকেলগুলো ভালো লাগলে অবশ্যই আপনার বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না। লেটেস্ট আর্টিকেলগুলো ইমেইলে পেতে আমাদের নিউজলেটারে সাবস্ক্রাইব করুন।

© Internet